জাল/যয়ীফ হাদিস

প্রচলিত জাল ও য'ইফ হাদীস- ৪

Alorpath 5 months ago Views:101

প্রচলিত জাল ও য'ইফ হাদীস- ৪


প্রচলিত জাল 'ইফ হাদীস-

৭৬। প্রতিবেশীর হক হচ্ছে চল্লিশ বাড়ী পর্যন্ত। এদিকে, ঐদিকে তথা ডানে, বামে, সম্মুখে পিছনে

হাদীসটি নিতান্তই দুর্বল

৭৭। চল্লিশটি বাড়ীর অধিবাসীরাই প্রতিবেশী

হাদীসটি দুর্বল

৭৮। জ্ঞান হচ্ছে ভাণ্ডার এবং তার চাবি হচ্ছে প্রশ্ন করা/ জিজ্ঞাসা করা। অতএব তোমরা জিজ্ঞাসা কর, তোমাদেরকে আল্লাহ দয়া করবেন। কারন তাতে চার জনকে সওয়াব দেয়া হবে; প্রশ্নকারীকে, শিক্ষককে, মনোযোগ সহকারে শ্রবণকারীকে এবং তাঁদের উত্তর দানকারীকে

হাদীসটি জাল

৭৯। কোন এক নাবীকে তার জাতি ধ্বংস করে দিয়েছে। অর্থাৎ সোতাইহ

ইসলামী কোন গ্রন্থে এটির কোন ভিত্তি নেই

৮০। আল্লাহ পাক ঈসা (আঃ) এর নিকট ওহী মারফত বললেনঃ হে ঈসা! মুহাম্মদের প্রতি ঈমান আন এবং তোমার উম্মতের মধ্য হতে যে ব্যাক্তি তাঁকে পাবে তাঁদেরকে তার প্রতি ঈমান আনার নির্দেশ দাও। কারণ মুহাম্মদ যদি না হত তাহলে আদমকে সৃষ্টি করতাম না। মুহাম্মদ যদি না হত তাহলে জান্নাত জাহান্নাম সৃষ্টি করতাম না। অবশ্যই আমি পানির উপর আরশ সৃষ্টি করেছিলাম। অতঃপর সে (আরশ) অশান্ত হয়ে গেলে তার উপর লা-ইলাহা ইল্লালাহু মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ লিখে দিলাম, ফলে সে শান্ত হয়ে গেল

হাদীসটি জাল

৮১। সে এক নাবী যাকে তার জাতি ধ্বংস করে দিয়েছে। অর্থাৎ খালিদ ইবনু সিনানকে বুঝানো হচ্ছে

হাদীসটি সহিহ নয়


৮২। আপনি যদি না হতেন, তাহলে আমি আকাশ ভূমণ্ডল সৃষ্টি করতাম না

হাদীসটি জাল

৮৩। তোমরা তীর নিক্ষেপ কর, কারণ তীর নিক্ষেপকারীদের শপথ অর্থহীন, তাতে শপথ ভঙ্গ হয়না, কাফফারাও দিতে হয় না

হাদীসটি বাতিল

৮৪। হে মুয়াজ! আমি তোমাকে কিতাবধারী (আহলে কিতাব) সম্প্রদায়ের নিকট প্রেরণ করেছি। অতএব তুমি যদি আসমানে পানি প্রবাহিত হওয়ার স্থানের ব্যাপারে জিজ্ঞাসিত হও, তাহলে বলবে, সেগুলো হচ্ছে আরশের নিচের সাপের লালা

হাদীসটি জাল

৮৫। রমযান মাস এবং আশূরা (আশুরা/আসুরা/আসূরা) দিবস ব্যাতিত সাওম (রোযা/রোজা/সিয়াম/ছিয়াম) রাখার ক্ষেত্রে একটি দিবসের অন্যটির উপর কোন ফযিলত (শ্রেষ্ঠত্ব) নেই

হাদীসটি মুনকার

৮৬। আদম (আঃ) পায়ে হেঁটে ইণ্ডিয়া হতে এক হাজার বার ঘরের নিকট এসেছিলেন। তবে কোন বাহনে আরোহণ করেননি। (এক হাজারের মধ্যে) তিন শতবার হাজ্জের (হজ্জ) উদ্দেশ্যে এবং সাত শতবার উমরার উদ্দেশ্যে। আদম (আঃ) প্রথম যে হাজ্জ (হজ্জ) করেন তখন আরাফার মাঠে দাঁড়িয়েছিলেন, এমতাবস্থায় জিবরীল (আঃ) আসলেন। অতঃপর বললেনঃ আস-সালামু আলাইকা হে আদম! আল্লাহ আপনার কুরবানী কবূল করুন। তবে আমরা ঘরকে আপনার সৃষ্টির পাঁচ হাজার বছর পূর্ব হতে তাওয়াফ করছি

হাদীসটি নিতান্তই দুর্বল

৮৭। হত্যাকারী নিহতের কোন পাপ অবশিষ্ট রাখে না

হাদীসটি কোন ভিত্তি নেই

৮৮। তিনি তার দাড়িকে পার্শ্ব (প্রস্থ) এবং দৈর্ঘের শেষ প্রান্ত হতে কাট-ছাট করতেন

হাদীসটি জাল

৮৯। যে ব্যাক্তি প্রতি রাতে সূরা আল-ওয়াকেয়াহ পাঠ করবে, তাঁকে কখনও অভাব (ক্ষুধা) গ্রাস করবে না

হাদীসটি দুর্বল

৯০। যে ব্যাক্তি প্রতি রাতে সূরা আল-ওয়াকেআহ পাঠ করবে; তাঁকে কখনও অভাব (ক্ষুধা) গ্রাস করবে না। যে ব্যাক্তি প্রতি রাতে লা-উকসেমু বে-ইওয়াওমিল কিয়ামাহ পাঠ করবে; সে কিয়ামত দিবসে আল্লাহর দিবসে আল্লাহর সাথে এমতাবস্থায় মিলিত হবে যে, তার চেহারা পূর্ণিমার রাতের ন্যায় উজ্জ্বল থাকবে

হাদীসটি জাল

৯১। যে ব্যাক্তি সূরা আল-ওয়াকিয়াহ পাঠ করবে এবং তা শিক্ষা গ্রহন করবে, তাকে গাফেলদের অন্তর্ভুক্ত লিখা হবে না এবং সে তার বাড়ীর সদস্যরা অভাবগ্রস্থ হবে না

হাদিসটি জাল

সূরাঃ আল-ফাতিহা - ১

৯২। রাতের অন্ধকার আর দ্বীনের আলো; যখন সূর্য যমীনের নীচে চলে যায় তখন তার কারণে রাত অন্ধকার হয়ে যায়। যখন সকাল আলোকিত হয় তখন সত্তর হাজার ফেরেশতা তার (সূর্যের) দিকে অগ্রগামী হয়, এমতাবস্থায় তার পিছনে পড়ে যায় আল্লাহ ব্যাতিত অন্য কারো ইবাদত করাকে অপছন্দ করে, সূর্যোদয় হয় আলো ছাড়ানো পর্যন্ত। ফলে দিন দীর্ঘ হয় তার দীর্ঘ অবস্থান দ্বারা এবং তার কারণে পানি গরম হয়ে যায়। যখন গ্রীষ্মকাল হয় তখন তার অবস্থানের সময় কমে যায়, যার জন্য পানি ঠাণ্ডা হয়ে যায়

গলদা চিংড়ি; সেটি হচ্ছে সামুদ্রিক মাছের লৌহ বস্ত্রধারী মাছ। তাঁকে বলা হয় ঈওয়ান (প্রাসা), তাতেই সে ধ্বংস হয়ে যায়

মেঘমালার উৎস স্থল; তা উৎপন্ন হয় পূর্ব-পশ্চিমে দুই প্রান্তের দিক থেকে এবং দুই প্রান্তের সম্মুখ হতে। তাঁকে লাগাম লাগিয়ে দেয়া পশ্চিম এবং দক্ষিনা হাওয়া এবং তার পিছু ধাওয়া করে উত্তরের এবং পূর্বের দিকের হাওয়া

মেঘের গর্জন; সে এক ফেরেশতা যার হাতে রয়েছে একটি আঁচড়ানী সে দূরবর্তীকে নিকটে আনে এবং নিকটবর্তীকে দূরে সরিয়ে দেয়। সে যখন তাঁকে উঁচু করে তখন বিদ্যুৎ চমকায়, যখন ধমকায় তখন গর্জন করে এবং যখন প্রহার করে তখন বজ্রপাত করে

সন্তানদের কোন কোন অংশ পুরুষের আর কোন কোন অংশ নারীর; পুরুষের হচ্ছে হাড়, ঘাম মানসিক শক্তি আর নারীর হচ্ছে গোশত, রক্ত চুল। নিরাপদ শহর হচ্ছে মক্কা

হাদীসটি বাতিল

৯৩। সূর্যের ব্যাপারে দায়িত্ব অর্পিত হয়েছে নয়জন ফেরেশতার উপর। তাঁরা তার (সূর্যের) উপর প্রতিদিন বরফ নিক্ষেপ করেছে। যদি এরূপ না হত তাহলে সূর্য যে বস্তুর উপরই আসত তাকেই সে পুড়িয়ে দিত

হাদীসটি জাল

৯৪। যমীন হচ্ছে পানির উপর, পানি একটি পাথরের উপর আর পাথর হচ্ছে এমন একটি মাছের পিঠের উপর যাতে দুচোয়াল আরশের সাথে মিলিত হয়েছে এবং মাছটি এক ফেরেশতার স্কন্ধের উপর যার দুপা বাতাসে

হাদীসটি জাল

৯৫। যে ব্যাক্তি কুল-হু আল্লাহু আহাদ সূরা দুশত বার পাঠ করবে, তার দুশত বছরের গুনাহ ক্ষমা করে দেয়া হয়ে

হাদীসটি মুনকার

৯৬। নিশ্চয় আল্লাহ কোন মুসলিমকে রমযান মাসের প্রথম দিবসের প্রত্যূষে ক্ষমা না করে ছাড়েন না

হাদীসটি জাল

৯৭। নিশ্চয় আল্লাহ কোন মুসলিমকে জুমআর দিবসে ক্ষমা না করে ছাড়েন না

হাদীসটি জাল

৯৮। সুবহানআল্লাহ তোমরা কোন বস্তুকে অভ্যার্থনা জানাবে এবং কোন বস্তুকে তোমাদের সম্মুখবর্তী করা হবে? তিনি বাক্যটি তিনবার বললেন। অতঃপর উমার (রাঃ) বললেনঃ হে আল্লাহর রাসুল! ওহী নাযিল হয়েছে নাকি দুশমন উপস্থিত হয়েছে? তিনি বললেনঃ না, কিন্তু আল্লাহ কেবলাবাসিদের সকলকে রমযান মাসের প্রথম রাতেই ক্ষমা করে দিবেন। (বর্ণনাকারী বললেনঃ) মজলিসের একধারে এক ব্যাক্তি তার মাথা নাড়াছিলেন এবং বলছিলেনঃ যথেষ্ট হয়েছে যথেষ্ট হয়েছে। নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁকে বললেনঃ কথা শুনে সম্ভবত তোমার হৃদয় সংকীর্ণ হয়ে গেছে? সে বললঃ আল্লাহর কসম তা না হে আল্লাহর রাসুল! তবে আমি মুনাফেকদের ব্যাপারে বলছি। নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ মুনাফেক হচ্ছে কাফের আর কাফেরের জন্য তাতে কোন অংশ নেই

হাদীসটি মুনকার

৯৯। যখন রমযান মাসের প্রথম রাতের আগমন হয়, তখন আল্লাহ তার সৃষ্টির দিকে দৃষ্টি দেন। যখন আল্লাহ তার বান্দাদের দিকে দৃষ্টি দেন, তখন তাঁকে আর কখনও শাস্তি দেন না এবং আল্লাহর উপর প্রতি রাতে দশ লক্ষ জনকে জাহান্নাম হতে মুক্তি দেয়া অপরিহার্য হয়ে যায়

হাদীসটি জাল

১০০। যে ব্যাক্তি দুশত বার কুল-হু-আল্লাহু আহাদ পাঠ করবে, যদি তার উপর কোন ঋণ না থাকে, তাহলে আল্লাহ তার জন্য এক হাজার পাঁচশত সাওয়াব লিখে দেন

হাদীসটি জাল



মন্তব্য