জাল/যয়ীফ হাদিস

প্রচলিত জাল ও য'ইফ হাদীস- ৬

Alorpath 5 months ago Views:146

প্রচলিত জাল ও য'ইফ হাদীস- ৬


প্রচলিত জাল ও য'ইফ হাদীস- ৫

১২৬। আমার উম্মাতের কলহ-বিবাদের সময় যে ব্যাক্তি আমার সুন্নাতকে আঁকড়ে ধরবে, তার জন্য একশতটি শহীদানের সাওয়াব রয়েছে

হাদীসটি নিতান্তই দুর্বল

১২৭। আমার উম্মাতের কলহ-বিবাদের সময় আমার সুন্নাতকে ধারণকারীর জন্য এক শহীদের সওয়াব রয়েছে

হাদীসটি দুর্বল

১২৮। যে ব্যাক্তি জ্ঞান অর্জন করতে করতে সকাল করল, ফেরেশতারা তার উপর রহমত কামনা করেন এবং তার জন্য তার জীবন ধারনে বরকত ডান করা হবে। তার রিযিক কমিয়া দেয়া হবে না এবং তা তার জন্য হবে বরকতময়

হাদীসটি জাল

১২৯। আমার ভাই ইউসুফকে আল্লাহ রহম করুন। তিনি যদি কথা না বলতেনঃ (হে আল্লাহ) “আপনি আমকে যমীনের ভাণ্ডারগুলো দান করুন”, তাহলে সে মুহূর্তেই তা ব্যবহার করতে পারতেন। কিন্তু উক্ত কারণেই তা এক বছরের জন্য পিছিয়ে দেয়া হয়

হাদীসটি জাল

১৩০। আমি আল্লাহর নিকট চাইলাম যেন আমার উম্মাতের হিসাব-কিতাব আমার উপর দিয়ে দেয়া হয়; যাতে করে আমার অন্য উম্মাতগুলোর সম্মুখে অপদস্থ না হতে হয়। তখন আল্লাহ আমার নিকট ওহী মারফত জানালেনঃ হে মুহাম্মদ! আমি তাঁদের হিসাব গ্রহণ করব, তাঁদের মধ্য হতে কারো যদি কোন অপদস্থতা থাকে তাহলে আমি তা আপনার নিকট হতে লুকিয়ে ফেলব, যাতে করে আপনার নিকট আপনার উম্মাত অপদস্থ না হন

হাদীসটি জাল

১৩১। আমি দুই কুরবানীকৃত ব্যাক্তির সন্তান

শব্দে এটির কোন অস্তিত্ব নেই

১৩২। কুরবানী করা হয়েছিল ইসহাককে

হাদিসটি দুর্বল

১৩৩। আল্লাহ তাআলা আমার অর্ধেক উম্মাতকে ক্ষমা করার অথবা আমার শাফায়াত গ্রহণ করার মধ্য হতে একটি গ্রহণ করার স্বাধীনতা আমাকে দিয়েছিলেন। কিন্তু আমি আমার শাফায়াত করারকে পছন্দ করি। আমার আশা শাফায়াতটি আমার উম্মাতের জন্য ব্যাপক হবে। আমার পূর্বের নেকাকার বান্দা যদি আমার চেয়ে সেটির দিকে অগ্রণী না হতেন, তাহলে আমি তাতে আমার দাবী নিয়ে তাড়াতাড়ি করতাম। আল্লাহ তাআলা যখন ইসহাককে যবেহের বিপদ থেকে মুক্ত করলেন, তাঁকে বলা হলঃ হে ইসহাক! চাও তোমাকে দেয়া হবে। তিনি বললেনঃ যার হাতে আমার আত্মা তার কসম অবশ্যই আমি তাতে তাড়াতাড়ি করব, শয়তান তা ছিনিয়ে নেয়ার পূর্বেই। হে আল্লাহ! যে ব্যাক্তি তোমার সাথে কোন প্রকার শিরক না করে মারা যাবে, তুমি তাঁকে ক্ষমা করে দাও এবং তাঁকে জান্নাত দিয়ে দাও

হাদীসটি মুনকার

১৩৪। লোকদের মধ্যে ইউসুফ ইবনু ইয়াকুব ইবনু ইসহাক হচ্ছেন সর্বাপেক্ষা সন্মানিত ব্যাক্তি। তিনি যাবীহুল্লাহ

হাদীসটি মুনকার

১৩৫। দাঊদ (আঃ) বলেনঃ আমি তোমার নিকট আমার পিতা ইবরাহীম, ইসহাক এবং ইয়াকুবকে হক জানার মাধ্যমে প্রার্থনা জানাচ্ছি। অতঃপর (আল্লাহ) বললেনঃ ইবরাহীমকে আগুনে নিক্ষেপ করা হয়েছিল। সে আমার জন্যই ধৈর্য ধারন করে। সে বিপদ তোমাকে স্পর্শ করেনি। ইসহাক নিজেকে যাবহ করার জন্য সমর্পণ করেছিল। সে আমার জন্যই ধৈর্য ধারন করে। সে বিপদ তোমাকে স্পর্শ করেনি। ইয়াকুবের নিকট হতে ইউসুফ হারিয়ে গিয়েছিল। সে বিপদ তোমাকে স্পর্শ করেনি

হাদীসটি নিতান্তই দুর্বল

১৩৬। আল্লাহর নাবী দাঊদ বললেনঃ হে প্রতিপালক! আমি লোকেদেরকে বলতে শুনেছিঃ ইসহাকের প্রভু? উত্তরে (আল্লাহ) বললেনঃ ইসহাক আমাকে তার নিজের জীবন দিয়েছে

হাদীসটি দুর্বল

১৩৭। জিবরীল ইবরাহীমকে সাথে নিয়ে জামারাতুল আকাবার নিকট গেলেন। শয়তান তার সম্মুখে দাঁড়াল। তিনি তাঁকে সাতটি পাথর নিক্ষেপ করলেন। তাতে সে চিল্লিয়ে উঠল। অতঃপর যখন ইবরাহীম তার সন্তান ইসহাককে যাবহ করার ইচ্ছা করলেন; তিনি তার পিতাকে বললেনঃ হে আমার পিতা! আমাকে শক্ত করে বেঁধে ফেলুন যাতে আমি নড়াচড়া না করি। যাতে আমি আমাকে আপনি যখন যবহ করবেন তখন আমার রক্ত আপনার উপর উপর ছিটে না পড়ে। তিনি তাঁকে শক্ত করে বাঁধলেন এবং ছুরি দিয়ে তাঁকে যবহ করার ইচ্ছা করলেন, তখন তার পিছন হতে ডাক দেয়া হলহে ইবরাহীম তুমি স্বপ্নকে সত্যে পরিণত করে দেখিয়েছ

হাদীসটি দুর্বল


১৩৮। আল্লাহ তাআলা সাত আসমানকে সৃষ্টি করলেন। অতঃপর তার মধ্য হতে সর্বোচ্চটিকে পছন্দ করলেন। সেটিতে বসবাস করা শুরু করেলেন এবং তার সকল আসমানকে তার সৃষ্টির মধ্য হতে যাকে চান তাঁদের জন্য বাসস্থান বানালেন। সাত যমীনকে সৃষ্টি করলেন। তার মধ্য থেকে সর্বোচ্চটিকে তার সৃষ্টির মধ্য হতে যাকে চান তাঁদের জন্য বাসস্থান বানালেন। অতঃপর সকল সৃষ্টিকে সৃষ্টি করলেন। সৃষ্টির মধ্য হতে আদম সন্তানদের তিনি চয়ন করলেন। বানু আদমদের থেকে আরবদেরকে চয়ন করলেন। আরবদের থেকে মুযারা গোত্রকে বেছে নিলেন। মুযারা হতে কুরাইশদেরকে বেছে নিলেন। কুরাইশদের থেকে হাশেমীদেরকে বেছে নিলেন। অতঃপর আমাকে হাশেমীদের থেকে বেছে নিলেন। আমি উত্তমদের থেকে উত্তমদের শেষ সীমায়। অতএব যে ব্যাক্তি আরবদের ভালবাসবে, সে আমাকে ভালোবাসার কারণেই তাঁদেরকে ভালবেসেছে এবং যে আরবদের অপছন্দ করবে সে আমাকে অপছন্দ করার কারণেই তাঁদেরকে অপছন্দ করেছে

হাদীসটি মুনকার

১৩৯। ইদরীস ছিলেন মালাকুল মাওতের বন্ধু। তিনি তার নিকট জান্নাত এবং জাহান্নাম দেখত চাইলেন। তিনি ইদরীসকে নিয়ে উপরে উঠলেন। অতঃপর তাঁকে জাহান্নাম দেখালেন। তিনি তাতে অত্যন্ত ভীত হয়ে পড়লেন, এমনকি বেহুশ হওয়ার উপক্রম হলেন। মালাকুল মাওত তাঁকে তার বাহু দ্বারা জড়িয়ে ধরলেন। মালাকুল মাওত বললেনঃ আপনি কি তা দেখেননি? তিনি বললেনঃ হ্যাঁ, কখনও দিনের ন্যায় কিছু দেখিনি। অতঃপর তাঁকে নিয়ে চললেন। তাঁকে জান্নাত দেখালেন। তাতে তিনি প্রবেশ করলেন। মালাকুল মাওত বললেনঃ আপনি চলুন তা আপনি দেখেছেন। তিনি বললেনঃ কোথায়? মালাকুল মাওত বললেনঃ যেখানে ছিলাম। ইদরীস বললেনঃ আল্লাহর কসম না! আমি তাতে প্রবেশ করবার পরে তা (জান্নাত) থেকে বের হবে না। মালাকুল মাওত কে বলা হলঃ আপনি কি বিশেষ ভাবে তাঁকে প্রবেশ করিয়ে দেননি? তাতে যে কেও প্রবেশ করলে তাকে আর বের করা হয় না

হাদীসটি জাল

পরিবার গঠন ও দাম্পত্য জীবনে সৌহার্দ্যের গুরুত্ব

১৪০। তোমরা সন্তানদের মধ্যে সমানভাবে হাদিয়া দাও। যদি কাউকে বেশী দিতাম তাহলে নারীদেরকে বেশী দিতাম

হাদীসটি দুর্বল

১৪১। তিনি অন্ধকারেও দেখতেন যেরূপ আলোতে দেখতেন

হাদীসটি জাল

১৪২। মা হাওয়া যখন গর্ভবতী হলেন, তখন ইবলীস তাঁকে নিয়ে তাওয়াফ করল। তার (হাওয়ার) সন্তান জীবন ধারণ করত না। অতঃপর (ইবলিস) বললঃ তার নাম রাখুন আব্দুল হারেস। তিনি তার নাম রাখলেন আব্দুল হারেস। ফলে সে জীবন ধারণ করল। এটি ছিল শয়তানের ওহী হতে এবং তার নির্দেশে

হাদীসটি দুর্বল

১৪৩। রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পড়া লিখার পূর্বে মৃত্যুবরণ করেননি

হাদীসটি জাল

১৪৪। কোন বান্দা দুনিয়াতে তার মর্যাদা উচ্চ হওয়াকে ভালবাসলে, সে মর্যাদাবান হয় এবং আল্লাহ আখেরাতে তার জন্য আরও বৃহৎ দীর্ঘ মর্যাদা তৈরি করে দেন। অতঃপর পড়লেনঃ (আখেরাত বড় বড় মর্যাদা আর বড় বড় সম্মান রয়েছে) [সূরা ইসরাঃ ২১]

হাদীসটি জাল

১৪৫। বানু হাশেমরা ছাড়া এক ব্যক্তি অন্য ব্যক্তির জন্য দাড়াবে। তারা কারো জন্য দাঁড়াবে না

হাদিসটি জাল

১৪৬। যেভাবে আজমীরা (অনারবরা) দাঁড়ায় সেভাবে তোমরা দাঁড়াবে না, তাদের একজন (দাঁড়িয়ে) অন্যজনকে সম্মান দেখায়

হাদীসটি দুর্বল

১৪৭। উম্মাত শরীয়তের উপর প্রতিষ্ঠিত থাকবে যতক্ষণ পর্যন্ত তাদের মধ্যে তিনটি বস্তু প্রকাশ না পাবেঃ যতদিন তাদের মধ্য হতে জ্ঞানকে উঠিয়ে না নেয়া হবে, তাদের মধ্যে কুসন্তানের আধিক্য না হবে এবং যতদিন সাক্কারুনরা প্রকাশিত না হবে। তারা বললঃ সাক্কারুন কারা হে আল্লাহর রসূল? তিনি বললেনঃ শেষ যামানার মানুষ, যখন তারা একে অপরে মিলিত হবে তখন তাদের অভিনন্দনের ভাষা হবে অভিশাপ

হাদীসটি মুনকার

১৪৮। সে টিকটিকির বাচ্চা টিকটিকি (কাপুরুষের বাচ্চা কাপুরুষ), অভিশপ্তের বাচ্চা অভিশপ্ত; অর্থাৎ মারওয়ান ইবনুল হাকাম

হাদীসটি জাল

১৪৯। হিমইয়ারীদের আল্লাহ রহম করুন। তাদের মুখমণ্ডলগুলো শান্তি স্বরূপ এবং হাতগুলো খাদ্য স্বরূপ। তারা নিরাপত্তা এবং ঈমানের অধিকারী

হাদীসটি জাল। 

১৫০। যে মৃত্যুবরণ করল এমতাবস্থায় যে, সে তার যুগের ইমামকে চিনল না, সে জাহেলিয়াতের মৃত্যুবরণ করল

বাক্যে হাদীসটির কোন ভিত্তি নেই। 



মন্তব্য