মনীষীদের জীবনী

জামায়াতে ইসলামি ও মাওলানা মওদুদী (রঃ) -মাওলানা গোলাম আজম

Alorpath 3 months ago Views:190

আমরা প্রত্যেকেই ছোটখাটো এবং খুঁটিনাটি ব্যাপারে বিভিন্ন মতের অধিকারী হয় পরস্পরের মোকাবেলায় যুক্তি প্রমাণ পেশ করে এবং বিতর্কে অবতীর্ণ হয় জামায়াতের অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারি।


ইকামতে দ্বীনের উদ্দেশ্যে জামায়াতে ইসলামিতে যোগদান করা উচিত কিনা তা যোগদানকারীর বিবেচনার বিষয় জামাতের প্রতিষ্ঠাতা হলেন মাওলানা সাইয়্যেদ আবুল 'লা মওদুদী (রঃ) তিনি দুনিয়ায় এখন না থাকলেও যেহেতু তার সম্পর্কে নানা কথা প্রচলিত আছে, সেইহেতু বর্তমান জামায়াতে ইসলামীর সাথে মাওলানা মরহুমের কি সম্পর্ক সে বিষয়ে কিছু কথা পেশ করছি:

মাওলানা সাইয়েদ আবুল 'লা মওদুদী (রঃ) আজীবন কথার ওপর জোর দিয়ে গেছেন যে, আল্লাহর রাসূল (সঃ) ছাড়া আর কোনো ব্যক্তিকে অন্ধভাবে মানা উচিত নয় একমাত্র রাসূলই ওহী দরা পরিচালিত হবার কারণে নির্ভুল অন্য কেউ ভুলের উর্ধে নয়

সুতরাং মাওলানা মওদুদীর কোন কথাকেই রাসুলের কষ্টিপাথরে যাচাই না করে আমি মানতে রাজি নই কোরআন সুন্নাহর বিচারে তার মতামত যতটুকু গ্রহণযোগ্য মনে হয় আমি ততটুকুই গ্রহণ করি এটাই জামায়াতে ইসলামীর নীতি


১৯৪১ সালে যখন জামায়াতের আমীর নির্বাচিত হন তখনই তিনি নিম্নরূপ ঘোষণা দেন: "পরিশেষ একটা কথা পরিষ্কার করে দিতে চাই, ফিকাহ ইলমে কালামের বিষয়ে আমার নিজস্ব একটা তরিকা আছে আমার ব্যক্তিগত অনুসন্ধান গবেষণার ভিত্তিতে আমি এটি নির্ণয় করেছি গত আট বছর যারা 'তারজমানুল কুরআন' পাঠ করেছেন তারা একথা ভালোভাবেই জানেন বর্তমানে এই জামায়াতের আমিরের পদে আমাকে অধিষ্ঠিত করা হয়েছে কাজেই একথা আমাকে পরিষ্কারভাবে বলে দিতে হচ্ছে যে, ফিকাহ কালামের বিষয়ে ইতিপূর্বে আমি যা লিখেছি এবং ভবিষ্যতে যা কিছু লিখব অথবা বলবো তা জামায়াতে ইসলামীর আমীর এর ফয়সালা হিসেবে গণ্য হবেনা বরং হবে আমার ব্যক্তিগত মত বিষয়ে আমার ব্যক্তিগত রায়কে জামায়াতের অন্যান্য আলেম গবেষকদের ওপর চাপিয়ে দিতে আমি চাইনা এবং আমি এও চাই না যে, জামায়াতের পক্ষ থেকে আমার উপর এমন সব বিধি নিষেধ আরোপ করা হবে যার ফলে ইলমের ক্ষেত্রে, আমার গবেষণা করার এবং মতামত প্রকাশ করার স্বাধীনতা ছিনিয়ে নেয়া হবে জামায়াতের সদস্যদেরকে (আরকান) আমি আল্লাহর দোহাই দিয়ে নির্দেশ দিচ্ছি যে, ফিকাহ কালাম শাস্ত্র সম্পর্কিত আমার কথাকে আপনারা কেউ অন্যের সম্মুখে প্রমাণ স্বরূপ প্রকাশ করবেন না অনুরূপভাবে আমার ব্যক্তিগত কার্যাবলীকেও- অন্য কেউ যেন প্রমাণ স্বরূপ গ্রহণ না করেন এবং নিছক আমি করেছি এবং করেছি বলেই যেন বিনা অনুসন্ধানে তার অনুসারী না হন ব্যাপারে প্রত্যেকের পূর্ণ স্বাধীনতা রয়েছে যারা দ্বীনের ইলম রাখেন, তারা নিজেদের গবেষণা অনুসন্ধান মোতাবেক, আর যারা ইলম রাখেন না, তারা যার ইলমের উপর আস্থা রাখেন, তার গবেষণা অনুসন্ধান মোতাবেক কাজ করে যান উপরন্তু ব্যাপারে আমার বিপরীত মত পোষণ করার এবং নিজের মত প্রকাশ করার স্বাধীনতা প্রত্যেকের রয়েছে আমরা প্রত্যেকেই ছোটখাটো এবং খুঁটিনাটি ব্যাপারে বিভিন্ন মতের অধিকারী হয় পরস্পরের মোকাবেলায় যুক্তি প্রমাণ পেশ করে এবং বিতর্কে অবতীর্ণ হয় জামায়াতের অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারি"

আরো পড়ুন- দুর্বল ঈমানের বহিঃপ্রকাশ। পর্ব- ১

জামায়াতে ইসলামী আহলি সুন্নাত ওয়া আল জামাতের আকিদায় বিশ্বাসী আহলি সুন্নাত ওয়া আল জামাতের অন্তর্ভুক্ত সকলেরই আকাঈদের ইমাম আগে থেকেই আছে আর ফিকাহার ময়দানেও জন ইমাম রয়েছেনমাওলানা জীবিতকালে জামায়াতকে জন্মদিবস পালন করার অনুমতি দেননি ইন্তেকালের পর জন্ম বা মৃত্যু দিবস পালন করেনি তিনি ব্যক্তি পূজার চরম বিরোধী ছিলেন



মন্তব্য