ফরজ, ওয়াজিব, সুন্নাত

চিকিৎসাবিজ্ঞানে খৎনার গুরুত্ব:

Alorpath 3 months ago Views:260

ছেলেদেরকে খৎনা করালে উক্ত খৎনাকৃত ছেলের ভবিষ্যৎ জীবনে "এইডস" রােগ হওয়ার আশংকা ৫০% কমে যায়।


বর্তমান বিশ্বের বিখ্যাত চিকিৎসা বিজ্ঞানীরা নানাভাবে পরীক্ষা নিরীক্ষারমা মাধ্যমে গবেষণা করে দেখেছেন যে, ছেলেদেরকে খৎনা করালে উক্ত খৎনাকৃত ছেলের ভবিষ্যৎ জীবনে "এইডস" রােগ হওয়ার আশংকা ৫০% কমে যায়। পৃথিবীতে শুধু দুটি জাতি তাদের ছেলেদেরকে খৎনা করায়, ১. মুসলমান জাতি ২. ইহুদী জাতি। বিজ্ঞানীরা পৃথিবীর সকল মানব গােষ্ঠীর ছেলে মহলে জরিপ করে দেখতে পেয়েছেন যে, পৃথিবীর যে জাতির লােকেরা তাদের ছেলেদেরকে খৎনা করায়, তাদের ছেলে মহলে এই রােগের সংখ্যা ৫% ও দেখা যায় না, কিন্তু পৃথিবীর যে সকল জাতির লােকেরা তাদের ছেলেদেরকে খৎনা করায় না, তাদের ছেলে মহলে এই রােগের সংখ্যা ১০ শতাংশেরও বেশি দেখা যায়। এতে প্রমাণ করে যে, খৎনা করালে ছেলেদের ভবিষ্যৎ জীবনে এইডস রােগ হওয়ার ঝুঁকি ৫০% কমে যায়। এবং এই গবেষণা কাজ বিজ্ঞানীরা উগান্ডায় পরিচালনা করে সফল হয়েছেন তাই তারা বর্তমানে উগান্ডাকে এই প্রতিরােধের জন্য সারা বিশ্বের জন্য মডেল হিসেবে দেখাতে চেয়েছেন, কারণ তারা উগান্ডাতে ছেলেদের মধ্যে খাৎনা করার বিপুল উৎসাহ সৃষ্টি করে দেশটিতে এই আক্রান্তের সংখ্যা ১৫% হতে কমে পাঁচ শতাংশে নামিয়ে আনতে সক্ষম হয়েছে। এছাড়াও বর্তমান বিশ্বের বিখ্যাত চিকিৎসা বিজ্ঞানীরা বলেন যে, মার্কিন ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব হেলথের গত বছর পরিচালিত এক গবেষণায় দেখা গেছে যে, উগান্ডা ও কেনিয়ায় খৎনা করা বহুগামী পুরুষদের মধ্যে এইডস আক্রান্তের সংখ্যা কমপক্ষে ৫০% কমে গেছে অর্থাৎ প্রতীয়মান হয় যে, খৎনা করা ছেলেরা যদিও কোনাে কারণে বহুগামী একাধিক নষ্টা মেয়েদের সাথে যৌন কর্মে লিপ্ত থাকে তবুও তাদের এই রােগ হওয়ার ঝুঁকি ৫০% কম থাকে এবং তারা যদি পুংমৈথুনেও লিপ্ত থাকে তবুও তাদের এই রােগ হওয়ার ঝুঁকি ৫০% কম থাকে কিন্তু খৎনা ছাড়া ছেলেরা যদি বহুগামী একাধিক নষ্ট-মেয়েদের সাথে যৌনকর্মে লিপ্ত থাকে তবে তাদের 'এইডস' রােগ হওয়ার ঝুঁকি ৯৯%-এর চেয়েও বেশি থাকে এবং তারা যদি কোনাে কারণে কখনও পুংমৈথুনে লিপ্ত থাকে তবে তাদেরও এই রােগ হওয়ার ঝুঁকি ৯৯%-এরও বেশি থাকে। তাই চিকিৎসা বিজ্ঞানীরা বলেন যে, ‘এইডস' রােগের আক্রমণ হতে নিরাপদ থাকার জন্য খৎনার বিকল্প আর কিছু দেখা যায় না। (প্রথম আলাে ৫.১০.২০০৭ ইং)


মহানবী মুহাম্মদ (সা) বর্তমান যুগে চিকিৎসা বিজ্ঞানীদের প্রায় দেড় হাজার বছর পূর্বে পৃথিবীর ছেলেদের এইডস রােগ হতে বাঁচার জন্য খৎনা করানাের প্রথা চালু করেছিলেন। এবং তিনি এ প্রসংগে বলেছেন যে, ছেলেদেরকে খৎনা করানাে আমার এক বিশেষ আদর্শ, এই আদর্শটি হচ্ছে আমাদের জাতির পিতা ইব্রাহীম (আ)-এর এবং এর মধ্যে ছেলেদের জীবনে অনেক বরকত রয়েছে যা তােমরা জান না। এই পৃথিবীতে একমাত্র ইব্রাহীম (আ)-ই ছেলেদের কল্যাণের জন্য খৎনা করানাের প্রথা চালু করেছিলেন। আমাদের প্রিয় নবী মুহাম্মদ (সা) ও জাতির জনক ইব্রাহীম (আ)-এর উক্ত আদর্শটি অতি গুরুত্বসহকারে গ্রহণ করে তার উম্মতের সকল ছেলেদের খৎনা করানাের জন্য জোর নির্দেশ দিয়ে তাঁর একটি বিশেষ আদর্শ বা সুন্নাত হিসেবে ঘােষণা দিয়ে গেছেন।

উক্তত আলােচনা প্রসঙ্গে মহানবী (সা)-এর একটি হাদীস নিম্নে বর্ণনা করা হলাে- আবু হুরায়রা (রা) হতে বর্ণিত, মহানবী (সা) বলেছেন, ফিৎরাতে ইব্রাহীম অর্থাৎ ইব্রাহীম (আ)-এর আদর্শ হচ্ছে পাঁচটি। ১, খৎনা, ২. মেয়েদের কান, নাক ছিদ্র করা, ৩. গোঁফ কাটা, ৪, হাত-পায়ের আঙ্গুলের নখ কাটা ৫, বগল তলের পশম তুলে ফেলা।(নাসায়ী, হা/৯ ১ম খণ্ড, কিতাবুত তাহারাত, পৃষ্ঠা নং ৭)

এছাড়াও দ্যা আমেরিকান অ্যাকাডেমি অব পেডিয়াট্রিকসের সাম্প্রতিক রিপাের্ট মতে, খৎনা করালে শিশু ছেলেদের মূত্রপথের সংক্রমণ রােগ প্রতিহত হয়। অধিকাংশ ছােট ছেলেদের মূত্রপথের সংক্রমণ রােগে আক্রান্ত হয়। এর ফলে প্রস্রাবে জ্বালা পােড়া, জ্বর, খাবারে অনীহা এবং স্বাস্থ্য ভালাে না হওয়া ইত্যাদি সমস্যা লেগেই থাকে। খৎনা করালে এসব সমস্যা দূর হয়। প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষরাও খৎনা করালে অবশ্যই কিছু সুফল পান, যেমন খৎনা পুরুষদের লিঙ্গের ক্যান্সার প্রতিরােধ করে। খৎনা যৌনবাহিত রােগের ঝুঁকি কমায়।

আরো পড়ুন- আংটি ও অন্যান্য অলংকারাদি প্রসঙ্গে শরয়ী হুকুম

বিশ্বস্বাস্থ্যয সংস্থার মতে, পুরুষের খৎনা এইচআইভি প্রতিরােধে একটি কার্যকর ব্যবস্থা। তবে এটা আংশিক সুরক্ষা দেয়। বহুগামিতার ফলে এইচআইভির বিস্তার প্রতিরােধ করতে পারে না। লিঙ্গের মাথায় প্রদাহ হলে লিঙ্গাগ্রের ত্বকে চুলকানি ও জ্বালা পােড়া করলে, খৎনা করালে তা সেরে যায়। স্বাস্থ্য বিজ্ঞানীরা বলেন যে, খৎনা হচ্ছে সবল পুরুষত্বের প্রতীক, জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা যেকোনাে পুরুষের স্বাস্থ্য সচেতনতার জন্য বিশেষ করে এইচআইভি নিয়ন্ত্রণের জন্য খৎনা করানাের নির্দেশ দেন। লিঙ্গমুণ্ডুতে প্রদাহ এবং লিঙ্গের ক্যান্সারের চিকিৎসায়ও খৎনা করানাে হয়। থাইমােসিসের চিকিৎসায় অহরহ খৎনা করানাে হচ্ছে। (নয়া দিগন্ত তাং ৬.১.২০০৮ ইং)

খৎনার উপকারিতা:

আমেরিকার চিকিৎসা বিষয়ক ম্যাগাজিনের মার্চ ১৯৯০ ইং সংখ্যায় খৎনা সম্পর্কে একটি প্রবন্ধ প্রকাশ করা হয়েছে। এ প্রবন্ধ হতে জানা যায়, আমেরিকায় ৬১% হতে ৮৫% শিশুর খৎনা করানাে হয় জন্মের পরেই। আমেরিকায় ইহুদীর সংখ্যা কম, মুসলমানের সংখ্যাও কম । খ্রিস্টানরাই খৎনার সুন্নাত পালন করছে। সেখানে খৎনা করানাে হয় জন্মের পরেই। এর কারণ কী? খ্রিষ্টানরা সাধারণত খৎনা করায় না। ইউরােপীয় খ্রিস্টানরা তাে খৎনার বিপক্ষে। আমেরিকার শিশু বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকগণ প্রতিটি শিশুর খৎনা করানাের উপর গুরুত্বারােপ করেন। এতে মহান আল্লাহর নিকট শুকরিয়া আদায় করা আমাদের কর্তব্য। রাসূল (সা)-এর নির্দেশিত একটি স্বাভাবিক সুন্নাত আমেরিকায় ব্যাপকভাবে পালন করা হচ্ছে। 



মন্তব্য