ফরজ, ওয়াজিব, সুন্নাত

ওযু ও আধুনিক বিজ্ঞান

Alorpath 3 months ago Views:435

হে ঈমানদারগণ! যখন তােমরা নামাযে দাঁড়াবে, তার পূর্বে তােমরা তােমাদের মুখমণ্ডল ধৌত করবে, তারপর দু’হাতের কনুই পর্যন্ত ধৌত করবে, তারপর মাথা মাসেহ করবে, তারপর দু'পায়ের টাকনু হতে শুরু করে আঙ্গুল পর্যন্ত ধৌত করবে।


স্বাস্থ্য বিজ্ঞানীরা বলেন যে, মানুষের পেশাব পায়খানা করার সময় দেহ হতে বিষাক্ত অপবিত্র দূষিত পদার্থ নির্গত হয়, ইহা বের হওয়ার জন্য দেহের শেষ প্রান্তের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের মধ্যে জমা হয়ে অবস্থান করতে থাকে। তাই স্বাস্থ্য বিজ্ঞানীরা বলেন যে, উক্ত অপবিত্র বিষাক্ত দূষিত পদার্থকে দূর করার একমাত্র উপায় হচ্ছে, পায়খানা পেশাব করার পর সাথে সাথে দেহের উক্ত শেষ প্রান্তের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গগুলাে ভাল করে ধুয়ে ফেলা। নচেৎ ইহা দ্বারা দেহের অপূরণীয় ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। স্বাস্থ্য বিজ্ঞানীরা দেহের শেষ প্রান্তের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ হিসেবে নির্বাচন করেছেন, দেহের মাথা ও মুখমণ্ডলকে, দেহের দু’হাতের কনুই হতে দু’হাতের দশ আঙ্গুল পর্যন্ত এবং দেহের দু'পায়ের টাকনু হতে দু'পায়ের দশ আঙ্গুল পর্যন্ত অংশকে। অথচ মহানবী মুহাম্মদ (সা) উক্ত স্বাস্থ্য বিজ্ঞানীদের বহুপূর্বেই প্রত্যেক ওযুতেই নাপাকী হতে পবিত্রতা অর্জনের জন্য স্বাস্থ্য বিজ্ঞানীদের নির্বাচিত উক্ত অঙ্গ প্রত্যেঙ্গগুলাে খুব ভাল করে ধৌত করাকে ফরয বা অত্যাবশ্যক বলে নির্দেশ দিয়ে গেছেন। এতে প্রতীয়মান হয় যে, পেশাব পায়খানার সাথে সাথে শরীর হতে অপবিত্র পদার্থ নির্গত হয়ে ইহা দেহের শেষ প্রান্তের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গসমূহে গিয়ে উপনীত হতে থাকে, তা তিনি জানতেন, তাই তিনি উক্ত অপবিত্র পদার্থকে দূর করার জন্য তাঁর উম্মতের প্রতি ওযুর ব্যবস্থা করে গেছেন। অর্থাৎ অজু হচ্ছে উক্ত নাপাক অঙ্গ-প্রত্যঙ্গগুলাে ধৌত করা। যা তিনি আল্লাহ পাকের নির্দেশ হতে পেয়েছেন। যেমন- হে ঈমানদারগণ! যখন তােমরা নামাযে দাঁড়াবে, তার পূর্বে তােমরা তােমাদের মুখমণ্ডল ধৌত করবে, তারপর দু’হাতের কনুই পর্যন্ত ধৌত করবে, তারপর মাথা মাসেহ করবে, তারপর দু'পায়ের টাকনু হতে শুরু করে আঙ্গুল পর্যন্ত ধৌত করবে। (সূরা মায়িদা : আয়াত-৬)


অতএব, প্রতীয়মান হয় যে, দেহের মধ্যে ওযুর স্থানগুলাে ধৌত ইহার মধ্যে দেহের যাবতীয় জমাকৃত নাপাকী ময়লাগুলি পরিষ্কার হয়ে যায়। একজন অমুসলিম বিজ্ঞানী এক মুসলমানকে অযু করতে দেখলেন। তিনি দেখলেন যে, কজি হতে কনুই অংশ ধৌত করার সময় ব্যবহৃত পানিকে নিচ হতে নয় বরং কনুই (পর্যন্ত) হতে নিচের দিকে প্রবাহিত হয়। তিনি এই পন্থা দেখে বড়ই প্রভাবিত হলেন। এরপর তিনি মাথা ও ঘাড়ের উপর মাসেহ করার বৈজ্ঞানিক দেখলেন। তিনি চিন্তা করলেন যে, মাথা ও ঘাড় ধােয়া হলো না, যাতে উত্তপ্ত অবস্থায় ক্ষতি হওয়ার আশংকা রয়েছে।মাথা ও ঘাড় না ধুয়ে হাত বুলালেন (মাসেহ করলেন) যাতে প্রশান্তি ছাড়াও শিরার মধ্যে কম্পনের অবস্থা সৃষ্টি হয় যা ধোয়ার দ্বারা হয় না। যেহেতু কোমর ও ঘাড়ের সম্পর্ক শ্লেষার উৎস স্থলের সঙ্গে এবং মস্তিষ্ক শিরার কার্যাবলীতে এর অনেক গুরুত্ব রয়েছে। এ পদ্ধতিকে দেখে (সেই অমুসলিম বিজ্ঞানী) এমনই প্রভাবিত হন যে, তিনি ইসলামের সামনে নিজ শির নত করে দিলেন। তিনি উপলব্ধি করতে পেরেছিলেন যে, ১৪০০ বছর পূর্বে যে ব্যক্তিত্ব নামাযের পূর্বে পবিত্রতা এবং অঙ্গ-প্রত্যেঙ্গের পরিচ্ছন্নতার এ পদ্ধতি শিখিয়েছেন তিনি নবী ছাড়া আর কেউ হতে পারেন না।

অজুর দৈহিক উপকারিতা

প্রফেসর ডাক্তার মুহাম্মদ আলমগীর খান এবং আরসিপি জীবাণু হতে আত্মরক্ষার জন্য অজুর গুরুত্ব বর্ণনা করতে গিয়ে লিখেন : অজু স্বাস্থ্য সুরক্ষার মৌলনীতির একটি। এটি জীবাণুর বিরুদ্ধে এক অতি বড় ঢাল। যেসব জীবাণুর কারণে বহু রােগ জন্মলাভ করে থাকে। এসকল জীবাণু আমাদের চারদিক ঘিরে রয়েছে। বায়ু, যমিন এবং আমাদের ব্যবহৃত সব জিনিসের ওপর এ কষ্টদায়ক (জীবাণু) প্রভাব বিস্তার করে আছে। মানবদেহ একটি দুর্গের ন্যায়, ছিদ্রপথ অথবা জখমের স্থান ছাড়া এর মধ্যে কেউ প্রবেশ করতে পারে না। নাক মুখের ছিদ্রগুলাে সর্বদা জীবাণুর আক্রমণের মধ্যে আছে এবং আমাদের হাতগুলাে এসব জীবাণুকে ভেতরে প্রবেশের ক্ষেত্রে (আত্মঘাতী) সাহায্য করে থাকে । অজুর মাধ্যমে আমরা শুধু এসব ছিদ্রের মধ্যেই নয় বরং আমাদের দেহের ঐ সব অংশের দিকে কয়েকবার ধৌত করা হয়, যা কাপড় দ্বারা ঢাকা থাকে না এবং সহজে জীবাণুর আশ্রয়স্থল হয়ে থাকে, এজন্য অজু আমাদেরকে অনেক রােগ হতে রক্ষা করার উত্তম এক মাধ্যম।

আরো পড়ুন- চিকিৎসাবিজ্ঞানে খৎনার গুরুত্ব:

অজু ও মানবদেহ

হাকীম সাইয়েদ মুহাম্মদ কামালুদ্দীন হুসাইন হামদানী (যিনি মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয় আলীগড়, চিকিৎসা ও আঘাত বিভাগের প্রধান এবং বিশ্ববিদ্যালয় হতে দীনিয়াত এ ডক্টরেট ডিগ্রি লাভ করেছেন তিনি অজুর দৈহিক উপকারিতার বিষয়ে লিখেছেন : ‘অজুর দ্বারা মানুষের ঐ সব অঙ্গ যা খােলা থাকে যেমন- হাত, মুখ, নাক, চোখ, চেহারা ইত্যাদি ভালাে করে পরিষ্কার হয়ে যায়। এসব অঙ্গগুলাে সব সময় খােলা থাকায় এবং এগুলাে দুনিয়ার কাজে ব্যস্ত থাকার কারণে বিভিন্ন ধরনের দুর্গন্ধ ও নােংরা জিনিসের সাথে মিলে থাকে এবং বেশির ভাগ সক্রিয় রােগ সৃষ্টির কারণ হয়ে থাকে। অজুর মাধ্যমে এসব আবর্জনা ধৌত হয়ে পরিষ্কার হয়ে যায় । অজুর আরও উপকারিতা এই যে, ঘুম ও স্বপ্নের মাধ্যমে যে অবস্বাদ গ্রস্ততা, ক্লান্তি মানব প্রকৃতিতে সৃষ্টি হয় তা অজুর পরে দূর হয়ে যায়। মানুষের মন মগজে সতেজতা সৃষ্টি হয়ে যায় । এজন্য যে, অজু শিরার কেন্দ্রগুলােতে কম্পন সৃষ্টি করে। (ইসলামের স্বাস্থ্যগতমূলনীতি, পৃ. ৩১, ডা, সাইয়েদ হাকীম মুহাম্মদ কামালুদ্দীন, প্রকাশক হাইয়া আলাল ফালাহ সােসাইটি, আলীগড়, ভারত)।



মন্তব্য