ফরজ, ওয়াজিব, সুন্নাত

সফল নেতার গুপ্ত রহস্যঃ দ্যুতিময় স্মিত হাসি। পর্ব -২

Alorpath 3 months ago Views:476

তিনি খুব বেশি হাসতেন না আবার স্মিত হাসির ভান করতেন না; বরং তিনি তাঁর স্মিত হাসির দীপ্তি দিয়ে এবং অনুচ্চ ও কোমল হাসি দিয়ে তাঁর সাহাবী (রাঃ) এদের হৃদয়কে পরিশুদ্ধ করতেন।


হাস্যময় মহানবী (সাঃ)

পথ প্রদর্শক রসূলে করীম (সাঃ) ছিলেন বিশুদ্ধতম হৃদয়, সবচেয়ে দাপ্তময় চেহারা এবং সবচেয়ে সুন্দর হাসির অধিকারী। তিনি খুব বেশি হাসতেন না আবার স্মিত হাসির ভান করতেন না; বরং তিনি তাঁর স্মিত হাসির দীপ্তি দিয়ে এবং অনুচ্চ ও কোমল হাসি দিয়ে তাঁর সাহাবী (রাঃ) এদের হৃদয়কে পরিশুদ্ধ করতেন।

মহানবী (সাঃ) স্মিত হাসতেন

এই মহান শিক্ষক (সাঃ) এর জীবনের পাতাগুলি উল্টালে যা দেখবেন ও পাঠ করবেন তাতে অবাক হয়ে যাবেন। জীবনীকার সেখানে বলেছেন: “মহানবী (সাঃ) ততক্ষণ পর্যন্তই স্মিত হাসতেন যতক্ষণ পর্যন্ত না আপনার মনে হয় তিনি কখনই বিরাগভাজন দেখান না।”


দুঃখ-কষ্ট-দুর্বিপাকেও পরিবর্তন না হওয়া একজন

মহান নেতা নবী (সাঃ) তত কঠিন দুঃখ-কষ্ট ও অসহনীয় ক্লেশ ও দুর্বিপাকের অধ্যায় পার হয়ে এসে অবশেষে ইন্তেকাল করেন। তবে তাতে তাঁর খুশী ও প্রশান্ত চেহারায় কোনাে পরিবর্তন ঘটেনি। এসব সমস্যা সংকটের কোনাে লক্ষণ যা শােক-দুঃখের চিহ্ন তাঁর বিশুদ্ধ মুখমন্ডলের মধ্যে খুঁজে পাওয়া যেত না। সমৃদ্ধির সময় কি প্রতিকূল পরিস্থিতিতে, আনন্দময় কি নিরানন্দ ঘটনায়, মিম্বারে কি কুলুঈতে, শান্তিতে কি যুদ্ধে, মদিনায় কি সংক্ষিপ্ত যাত্রাকালে, রােগ ব্যধিতে কি নিজের জীবনের অন্তিমলগ্নে সব সময় ও সবখানে তার মুখে স্মিত হাসি লেগে থাকত।

প্রতুষের হাসিই হলাে মধুরতম হাসি

প্রতুষ্যেই একজন মানুষের প্রকৃত চেহারাটা ফুটে উঠে। যে কারণে তাঁর হৃদয়ের ভিতর কি চলে সে সময় তার এক বাস্তব ও নিখাদ ধারণার পরিচয় পাওয়া যায়। দিনের আলাে ফুটে উঠার বা সূর্যোদয়ের আগে সেই হৃদয় যদি দীপ্তিমান হয় তাহলে তােমার প্রভুর নামে আমাকে বল অন্ধকার মুছে গেলে সুর্যোদয় হলে এবং আলাের আবির্ভাব ঘটলে সেই হৃদয় কেমন হবে?

সেটা হলাে আত্মার প্রভাময় দীপ্তি

সিমাক ইবনে হার্বের বরাতে বলা হয়েছে : “আমি যারীর ইবনে সামুরাহকে জিজ্ঞাসা করলাম : ‘তুমি কি নবী (সাঃ) এর সন্নিধ্যে উপবেশন করেছিলে?সে বলল; “হ্যা, প্রায়শই করেছি। তিনি একটা জায়গায় বসতেন। সেখানে তিনি সূর্যোদয় বা সূর্য উঠে যাওয়া অবধি ফজরের সালাত আদায় করতেন। অত:পর তিনি উঠে দাঁড়াতেন এবং তারা (সাহাবীরা) তাঁর সাথে জানা বিভিন্ন বিষয় (সেই সময়কার) নিয়ে কথাবার্তা বলতেন। তারা (ওসব বিষয় নিয়ে) হাসাহাসি করতাে এবং তিনি শুধু স্মিত হাসি দিতেন।”(সহিহ মুসলিম হাদিস নাম্বার ৪৪০)

ক্রুদ্ধ ব্যক্তির স্মিত হাসি

কাব ইবনে মালিক (রাঃ) তাবুক যুদ্ধে তাঁর অংশ গ্রহণ না করার কারণ প্রসঙ্গে বলেছেন- “যারা (তাবুক) যুদ্ধে অংশ নিতে পারেনি তারা মহানবী (সাঃ)-এর কাছে এসে নানা ধরনের অজুহাত দিতে এবং তার কাছে ওয়াদা করতে শুরু করেছিল। ওরা ছিল সংখ্যায় আশিজনের বেশি। রসূলে করীম (সাঃ) তাদের দেয়া অজুহাতগুলাে মেনে নিয়ে তাদের আনুগত্যের ওয়াদা গ্রহণ করেছিলেন এবং তাদের জন্য আল্লাহর ক্ষমা প্রার্থনা করেছিলেন এবং তাদের হৃদয়ের ভিতর যা কিনা লুকিয়ে আছে তা বিচার করার ভার আল্লাহর ওপর ছেড়ে দিয়েছিলেন। এরপর আমি তার কাছে এলাম। আমি তাকে সালাম জানালে তিনি একজন ক্রুদ্ধ ব্যক্তির স্মিত হাসি দিলেন তারপর বললেন, যাও যতক্ষণ পর্যন্ত না আল্লাহ তােমাদের বিষয়টির বিচার না করেন।”(সহি বুখারি হাদিস নাম্বার ৪৪০৭)

আরো পড়ুন- সফল নেতার গুপ্ত রহস্যঃ দ্যুতিময় স্মিত হাসি। পর্ব -১

ধর্ম প্রচারে স্মিত হাসি

উম্মে কায়িস বিনতে মুহসান (রাঃ) -এর বরাতে বলা হয়, “আমার পুত্র মারা গেলে আমি তার জন্য শােক করছিলাম। দাফন-কাফনের জন্য লাশ গােসল করছিলেন এমন একজনকে আমি বললাম ওকে ঠাণ্ডা পানিতে গােসল করিও না। কেননা, তাহলে মারা যেতে পারে। একথা শুনে উকাশাহ ইবনে মুহসান মহানবী (সাঃ) -এর কাছে ছুটে গিয়ে তাঁকে জানালেন আমি কি বলেছি। মহানবী (সাঃ) তখন স্মিত হেসে বললেন, সে কি বলেছে আল্লাহ তার জীবন দীর্ঘায়িত করুক? আমরা এমন কোনাে মহিলার কথা জানি না যিনি তার মতাে এতাে দীর্ঘ জীবনের অধিকারী হয়েছেন।” (আল বাইহাকী হাদিস নাম্বার ১৮৬৭)

মেজবানের স্মিত হাসি

সুহারীর (রাঃ) জানিয়েছেন যে, “আমি মহানবী (সঃ)-এর কাছে এলাম। তার কাছে কিছু রুটি ও খেজুর ছিল। মহানবী বললেন, এসাে কিছু খাও’ আমি কিছু খেজুর নিয়ে খেলাম । মহানবী (সাঃ) বললেন, “তুমি খেজুর খাচ্ছাে আর তােমার চোখ ব্যথা করছে’? সুহারীর (রাঃ) বললেন, “আমি (যে চোখটা ভাল আছে সেই দিকে) অন্যদিকে থেকে চিবাচ্ছি, রসূল করিম (সাঃ) স্মিত হাসলেন। (ইবনে মাজহর হাদিস নং -৩৪৫৮)



মন্তব্য