ফরজ, ওয়াজিব, সুন্নাত

সফল নেতার গুপ্ত রহস্যঃ দ্যুতিময় স্মিত হাসি। পর্ব -৩

Dr.Romesh 3 months ago Views:411

আগ্নেয়গিরির লাভায় তৈরি মদিনার দুই সমভূমির মধ্যে আমার পরিবারের চাইতে গরিব আর কোন পরিবার নেই।' একথা শুনে নবী (সঃ) হেসে উঠলেন। তাঁর মাড়ির দৃশ্যমান হলাে। তিনি বললেন, তাহলে তােমার পরিবার এগুলাে খাবে।


বক্তার স্মিত হাসি

আনাস ইবনে মালিক (রাঃ) বলেছেন, মহানবী (সাঃ) -এর জীবদ্দশায় জনগােষ্ঠী একবার দুর্ভিক্ষের করাল গ্রাসে নিপতিত হয়েছিল। একদিন মহানবী(সাঃ) জুমআর জামাতে মিম্বরে দাঁড়িয়ে খুতবা দিচ্ছিলেন। এমন সময় এক ব্যক্তি উঠে দাড়িয়ে বললেন। “হে রসূলে করীম (সাঃ) অশ্ব ও মেষগুলি মরে গেছে। সন্তানরা অনাহারে কষ্ট পাচ্ছে। কাজেই বৃষ্টি জন্য আল্লাহর কাছে মােনাজাত করুন। আনাস (রাঃ) বলেন, “তিনি মহানবী (সাঃ) তখন দুবাহু প্রসারিত করে বৃষ্টির জন্য মােনাজাত করলেন। আকাশটা কাঁচের রূপধারণ করল। বাতাসের আলােড়ন উঠল। মেঘ তৈরী হলাে। তারপর মেঘমালা স্থির হয়ে ঝাড়ল। আমরা বৃষ্টির মধ্যে নেমে পড়লাম এবং বৃষ্টির পানি মাড়িয়ে বাড়িতে পৌছলাম।বৃষ্টিপাত পরবর্তী শুক্রবার পর্যন্ত চলল। সেই লােকটি বা আরেকজন লোক উঠে দাঁড়িয়ে বললেন, “হে রসুলে করীম (সাঃ) আমাদের বাড়ি-ঘর ধসে পড়বে। কাজেই আল্লাহকে বৃষ্টি থামাতে বলুন। তিনি মহানবী (সাঃ) স্মিত বললেন, “বৃষ্টি আমাদের চারপাশে ঝড়ুক তবে আমাদের ওপর নয়। আমি মেঘমালার দিকে তাকিয়ে দেখলাম বন্ধনীর মতাে মদিনার চার পাশে ছড়িয়ে গেল।(সহিহ বুখারি হাদিস নং ৩৪১৫)


জুমআর জামাতে মিম্বরে অবস্থানকালে এবং খুতবা প্রদানের সময় কেউ তাঁর বাগ্মিতাপূর্ণ ভাষণ ও কঠোর হুশিয়ারী উচ্চারণে ছেদ ঠেনে প্রশ্ন করলে তিনি সাড়া দিতেন। খুতবা দেয়া বন্ধ করে তিনি প্রশ্নকর্তাকে দু'এক জবাব দিতেন। তখনও তার মুখে স্মিত হাসি দেখা যেত।

হজ্ব যাত্রীর স্মিত হাসি

আসমা বিনতে আবু বকর (রাঃ) এ উল্লেখ করেছেন, “আমরা রসূলে করীম (সাঃ)-এর সাথে হজ্ব পালনের জন্য রওয়ানা দিলাম। আল-আর পৌছালে রসূলে করীম(সঃ) উঠের পিঠ থেকে অবতরণ করলেন। আমরাও অবতরণ করলাম। আয়েশা বিশ্ব মহানবী (সাঃ -এর পাশে গিয়ে বসলে এবং আমি আমার পিতা আবু বকর (রাঃ) এর পাশে ছিলাম। আবু বকর (রাঃ) ও মহানবী (সাঃ) এদের ব্যক্তিগত জিনিসপত্র একটি উটের পিঠে আবু বকর (রাঃ) এর ক্রীতদাসের হাতে রাখা ছিল। আবু বকর (রা) বসে বসে সে ক্রীতদাসের আগমনের অপেক্ষা করছিলেন। এ পর্যায়ে সে এসে উপস্থিত হলাে। কিন্তু তার সাথে কোনাে উট ছিল না তাকে তিনি (আবু বকর (রাঃ)) তখন জিজ্ঞাসা করলেন, “তােমার উট কোথায় ক্রীতদাস উত্তর দিল, আমি গতরাতে ওটাকে হারিয়ে ফেলেছি। আবু বকর (রাঃ) বললেন, একটিমাত্র উট ছিল, সেটাও তুমি হারিয়ে ফেললে? তিনি তখন তাকে (মৃদু) প্রহার করতে লাগলেন। মহানবী (সাঃ) (স্মিত) হাসছিলেন তিনি বললেন, ‘পবিত্র অবস্থায় (ইহরাম পরিধান করা) এ লােকটিকে দেখ সে কি করছে!' (কথাগুলাে বলার সময়) সে স্মিত হাসছিল। (আবু দাউদ, হাদিস নং ১৮৫৩)

রােগির স্মিত হাসি

আয়েশা (রাঃ) জানিয়েছেন, “একদিন নবী (সাঃ) একজনকে দাফন করে আল-বাকি থেকে ফিরে এলেন। আমার মাথা ধরেছিল এবং আমি বলছিলাম, 'কি বিচ্ছিরি এই মাথা ব্যথা।' নবী (সাঃ) শুনে বললেন, 'আমার বরং বলা উচিত মাথা ব্যথা আর এমন কি?' তিনি বললেন, যদি তুমি আমার আগে মারা যাও এবং তারপর আমি তােমার লাশ গােসল করাই দাফনের কাপড় পরাই, তােমার যানাজা পড়াই এবং অত:পর তােমাতে দাফন করি? আয়েশা তখন বললেন, আমি কল্পনা করি যে আমার মৃত্যু হলে আপনি কোনাে না কোনাে পত্মীর বাড়িতে গিয়ে তাদের সাথে থাকবেন। শুনে তিনি স্মিথ হাসলেন এবং পীরিত বোধ করতে লাগলেন। এই ব্যাধি থেকে তিনি আর সুস্থ হয়ে ওঠেননি, শেষ পর্যন্ত ইন্তেকাল করেছিলেন।(সহীহ ইবনে হিব্বান হাদিস নং ৬৬৯৮)

বিদায় হাসি

আনাস ইবনে মালিক (রাঃ) বলেছেন, “সােমবার মুসলমানরা ফজরের নামাজ আদায় করছিল । নবীর(সাঃ) অসুস্থতার কারণে আবু বকর (রাঃ) নামাজে ইমামত করছিলেন। এই অসুস্থতাই শেষ পর্যন্ত নবী (সাঃ) -এর মৃত্যুর কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল। যাহােক, সেদিনের সে ফযরের নামাজের সময় নবী (সাঃ) আয়েশা (রাঃ) -এর ঘরের পর্দা সরিয়ে নামাজের জন্য কাতারবন্দী মুসল্লীদের দিকে তাকালেন। নবী (সাঃ) সন্তোষবােধ করলেন ও স্মিত হাসলেন। আবু বকর (রাঃ) ইমামের জায়গা থেকে পিছনে সরে এসে কাতারে দাড়ালেন তাঁর মনে হলাে রসূলে করীম (সাঃ) নামাজ আদায়ের জন্য আসতে চাইছেন।” আনাস (রাঃ) উল্লেখ করেছেন, “মুসল্লীরা নবী (সা)-কে দেখে এত খুশী হয়েছিল যে, তারা নামাজ গােলমাল করে ফেলার উপক্রম করল। কিন্তু নবী (সাঃ) হাতের ইশারায় তাদেরকে নামাজ সম্পন্ন করতে বললেন। রসূল (সাঃ) নিজের ঘরে ফিরে গিয়ে পর্দা টেনে দিলেন। তিনি (ঘটনার বর্ণনাকারী) বলেছেন, নবী (সঃ) ঐ দিনই শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করলেন।(সহি বুখারি হাদিস নং ৬৯৫)

আরো পড়ুন- সফল নেতার গুপ্ত রহস্যঃ দ্যুতিময় স্মিত হাসি। পর্ব -২

সে রমযান মাসে দিনের বেলা সহবাস করেছিল।

মহানবী হেসে উঠলেন

আবু হুরায়রা (রাঃ) বরাতে বলা হয়েছে। “জনৈক ব্যক্তি নবী (সাঃ) এর কাছে এবংএসে বলল, “রসূলে করীম (সাঃ) জিজ্ঞেস করলেন। “কিসে তােমার সর্বনাশহয়েছে? সে বলল, রমযান মাসে দিনের বেলায় আমি স্ত্রীর সাথে সহ-বাস করেছি। একথা শুনে তিনি (নবী) বললেন, তাহলে একজন দাসকে মুক্ত করে দাও।' সে বলল আমার কোনাে দাস নেই।” তিনি (নবী) বললেন, ‘তাহলে টানা দুমাস রােযা রাখ। লােকটি বলল, “সেটা আমি পারবাে না। তিনি (নবী) বললেন, সেক্ষেত্রে ষাটজন গরিব লােককে ধাওয়াও। সে ব্যক্তি বলল, তেমন খাবার আমার কাছে নেই। একটা ঝুড়িতে কিছু খেজুর ছিল। সেটা নবী (সাঃ) এ -এর কাছে আনা হলাে। তিনি (নবী) লােকটিকে বললেন, ‘এগুলাে (খেজুর) দান করে দাও। সে (লােকটা) বলল, এমন কাউকে কি দেব যে আমার চেয়েও গরিব? আগ্নেয়গিরির লাভায় তৈরি মদিনার দুই সমভূমির মধ্যে আমার পরিবারের চাইতে গরিব আর কোন পরিবার নেই।' একথা শুনে নবী (সঃ) হেসে উঠলেন। তাঁর মাড়ির দৃশ্যমান হলাে। তিনি বললেন, তাহলে তােমার পরিবার এগুলাে খাবে।

- সূলাইমান বিন আওয়াদ ক্বিয়ান



মন্তব্য