দাম্পত্য জীবন

পুরুষের অধিকার

Alorpath 2 months ago Views:316

যখন তুমি তাকে দেখ তােমার অন্তর আনন্দিত হয়ে যায়, যখন তুমি তাকে কোন আদেশ কর, সে তা পালন করে এবং যখন তুমি অনুপস্থিত থাক, সে তােমার ধন-সম্পদ ও তার ওপর তােমার যাবতীয় অধিকার সংরক্ষণ করে।


দায়িত্ব পালনের প্রেক্ষিতে পুরুষকে যে সকল অধিকার দেয়া হয়েছে, তা উল্লেখ করা হলো-

১. গােপনীয় বিষয়সমূহের হেফাযত করাঃ নারীর ওপর পুরুষের প্রথম অধিকারকে কুরআন মজীদ এমন শব্দে বর্ণনা করেছে যার বিকল্প অন্য কোন ভাষায় বর্ণনা করা সম্ভব নয়। কুরআন বলেঃ “সুতরাং সতী নারীরা তাদের স্বামীদের অনুরক্ত হয়ে থাকে এবং তাদের অবর্তমানে আল্লাহর অনুগ্রহে তার যাবতীয় অধিকার সংরক্ষণকারিণী হয়ে থাকে” (সূরা নিসাঃ ৩৪)।

এখানে স্বামীর যাবতীয় জিনিস যা তার অনুপস্থিতিতে স্ত্রীর কাছে আমানত হিসাবে রক্ষিত থাকে তার হেফাযত করা বােঝানাে হয়েছে। এর মধ্যে তার বংশের হেফাযত, তার বীর্যের হেফাযত, তার ইজ্জত-আব্রুর হেফাযত, তার ধন-সম্পদের হিফাযত, মােটকথা এর মধ্যে সব কিছুই এসে যায়। যদি স্ত্রী উপরােল্লেখিত অধিকারসমূহ থেকে কোন একটি অধিকার পূর্ণ করতেও ত্রুটি করে তা হলে স্বামীর সামনে উল্লিখিত ক্ষমতা ও এখতিয়ার প্রয়ােগ করতে পারবে।


২. বাড়ীর আনুগত্যঃ স্বামীর দ্বিতীয় অধিকার হচ্ছে, স্ত্রী তার আনুগত্য করবে। ‘যারা নেক, সৎ ও চরিত্রসম্পন্না স্ত্রী তারা স্বামীর খেদমতগার হয়ে থাকে। এ হচ্ছে একটি সাধারণ নির্দেশ, যার ব্যাখ্যায় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লাম বিভিন্ন জিনিস বর্ণনা করেছেন। যেমনঃ তাদের ওপর তােমাদের এ অধিকার রয়েছে যে, তারা এমন কোন ব্যক্তিকে তােমাদের ঘরে আসতে দেবে না যাকে তােমরা আদৌ পছন্দ কর না।”

স্বামীর অনুমতি ব্যতিরেকে তার ঘরের কোন বস্তু সে দান-খয়রাত করবে না। সে যদি এরূপ করে তাহলে এর সওয়াব স্বামীই পাবে। কিন্তু স্ত্রীর হবে গুনাহু। স্বামীর অনুমতি ছাড়া স্ত্রী বাড়ীর বাইরেও যাবে না।” স্বামীর উপস্থিতিতে স্ত্রী তার অনুমতি ব্যতিরেকে রমযানের রােযা ছাড়া কোন নফল রােযা রাখবে না। সর্বোত্তম স্ত্রী হচ্ছে, যখন তুমি তাকে দেখ তােমার অন্তর আনন্দিত হয়ে যায়, যখন তুমি তাকে কোন আদেশ কর, সে তা পালন করে এবং যখন তুমি অনুপস্থিত থাক, সে তােমার ধন-সম্পদ ও তার ওপর তােমার যাবতীয় অধিকার সংরক্ষণ করে।

এই আনুগত্যের সাধারণ আদেশের মধ্যে কেবল একটি জিনিসেরই ব্যতিক্রম, তা হচ্ছে স্বামী যদি স্ত্রীকে আল্লাহর নাফরমানী করার নির্দেশ দেয় তাহলে এ আদেশ পালন করতে স্ত্রী অস্বীকার করতে পারে, বরং সে তা অস্বীকার করবে। যেমন সে যদি কোন ফরয নামায পড়তে ও ফরয রােযা রাখতে নিষেধ করে বা মদ্য পানের আদেশ দেয় অথবা শরীআত নির্দেশিত পর্দা বর্জন করতে বলে কিংবা তাকে দিয়ে গর্হিত কাজ করাতে চায়, তাহলে স্বামীর এ নির্দেশ প্রত্যাখ্যান করা স্ত্রীর জন্য শুধু জায়েযই নয়, বরং ফরয। কেননা স্রষ্টার আইন লংঘিত হয়, এমন কাজে সৃষ্টির আনুগত্য করা জায়েয নেই। হাদীসে বর্ণিত আছেঃ স্রষ্টার নাফরমানীমূলক কাজে সৃষ্টির আনুগত্য করা যাবে না। এ বিশেষ দিকগুলাে ছাড়া অন্য সব অবস্থায় স্বামীর আনুগত্য করা স্ত্রীর জন্য ফরয, তা না কল্পলে সে অবাধ্য বলে গণ্য হবে। এ ক্ষেত্রে স্বামী তার প্রয়ােগ কতে পারবে যার বর্ণনা সামনে আসছে।

পুরুষের ক্ষমতাসমূহ

ইসলামী আইন যেহেতু পুরুষকে কর্তা বা পরিচালক বানিয়েছে এবং তার ওপর স্ত্রীর মােহর, ভরণ-পােষণ, রক্ষণাবেক্ষণ ও দেখাশােনার দায়িত্ব অর্পণ করেছে এজন্য তা পুরুষকে স্ত্রীর ওপর এমন কতকগুলাে ক্ষমতা ও এখতিয়ার প্রদান করেছে, যা পারিবারিক জীবনের শৃঙ্খলা বজায় রাখতে, পরিবারে সদস্যদের আমল-আখলাক, চাল-চলন ও সামাজিকতার সংব্রক্ষণে এবং নিজেদের অধিকারসমূহৎবিলুপ্ত হওয়া থেকে রক্ষা করার জন্য তার হাতে থাকা প্রয়ােজন। ইসলামী আইনে এসব এখতিয়ারের বিস্তারিত বর্ণনা দেয়া হয়েছে এবং যে সীমার ভেতর এ ক্ষমতা প্রয়ােগ করা যাবে তা নির্ধারণ করে দেয়া হয়েছে।

উপদেশ, সদাচরণ ও শাসন 

স্ত্রী যদি তার স্বামীর আনুগত্য না করে অথবা তার অধিকার খর্ব করে, তাহলে এ অবস্থায় স্বামীর প্রথম কর্তব্য হচ্ছে তাকে উপদেশ দেয়া। সে তা অমান্য করলে স্বামী তার ব্যবহারের প্রয়ােগফল অনুযায়ী কঠোরতা অবলম্বন করবে। এরপরও যদি সে তা মান্য না করে তাহলে তাকে মারধােরও করতে পারে।

আরো পড়ুন- রমজান মাসের ফজিলত

আর তােমরা যে সমস্ত নারীর অবাধ্য হওয়ার আশংকা করবে, তাদেরকে বােঝাতে চেষ্টা কর, বিছানায় তাদের থেকে দূরে থাক এবং প্রহার কর।

অতঃপর যদি তারা তােমাদের অনুগত হয়ে যায় তাহলে তাদের ওপর নির্যাতন চালাবার অজুহাত তালাশ করাে না” (সুরা নিসাঃ ৩৪)।



মন্তব্য