ফরজ, ওয়াজিব, সুন্নাত

মেহমানের জন্য করণীয় আদাব

Alorpath 2 months ago Views:229

কোনাে মুসলিম ভাইয়ের জন্য এটা হালাল নয় যে, সে তার অপর ভাইয়ের নিকট অবস্থান করবে এবং তাকে বিপাকে ফেলবে।


এক- কারাে বাড়িতে মেহমান হলে খাওয়ার সময়কে বেছে নেবে না। কারণ, এতে মানুষের কষ্ট হয়। তারা তাে তার জন্য খাবার পাক করে রেখে দেয় নি, তবে যদি আগের থেকে জানা থাকে তবে তাতে কোনাে অসুবিধা নেই। সুতরাং এমনভাবে মেহমান হবে, যাতে তারা তার জন্য রানা করে খাওয়ারের ব্যবস্থা করতে পারে। আল্লাহ তা'আলা বলেন, “হে মুমিনগণ, তােমরা নবীর ঘরসমূহে প্রবেশ করাে না; অবশ্য যদি তােমাদেরকে খাবারের অনুমতি দেওয়া হয় তাহলে (প্রবেশ কর) খাবারের প্রস্তুতির জন্য অপেক্ষা না করে। আর যখন তােমাদেরকে ডাকা হবে তখন তােমরা প্রবেশ কর এবং খাবার শেষ হলে চলে যাও আর কথাবার্তায় লিপ্ত হয়াে না”। [সূরা আল-আহযাব, আয়াত: ৫৩]

দুই- কারাে বাড়িতে মেহমান হলে, তাদের অবস্থার প্রতি সুক্ষ্ম দৃষ্টি রাখবে। তারা যদি কোনাে কিছু খেতে বলে, তখন যদি সত্যিকার অর্থে খেতে বলছে নাকি লজ্জায় খেতে বলছে, তা বুঝার চেষ্টা করবে। যদি লজ্জায় বলে, তখন খাবে না বরং খাওয়া থেকে বিরত থাকবে।

তিন- নির্দিষ্ট কোনাে খাদ্যের চাহিদা প্রকাশ করবে না । তারা যা ব্যবস্থা করবে, তাই খেয়ে আসবে। যদি দু'টি খাদ্যের যে কোনাে একটি পছন্দ করতে বলে তখন যেটি সহজ সেটি গ্রহণ করবে। দাওয়াতে গিয়ে খাওয়াটাকেই বড় মনে করবে না। আল্লাহর রাসূলের সুন্নত পালন করার নিয়ত করবে।

চার- খাওয়ার জন্য কোনাে খাওয়ার সামনে পেশ করলে, তাকে তুচ্ছ করবে না। সীমিত খাওয়ার গ্রহণ করবে অধিক পরিমাণে খাবে না।

পাঁচ- বাড়ি ওয়ালার নিকট কোনাে কিছু চাইবে না।প্রয়ােজন হলে কিবলা সম্পর্কে এবং পােশাব খানা ও পায়খানা সম্পর্কে জানতে চাইবে।

ছয়- ভালাে জায়গায় বসার চেষ্টা করবে না, বরং বাড়ী ওয়ালা যেখানে বসতে বলে সেখানে বসে যাবে। তার ব্যবস্থার বাইরে যাবে না।

সাত- খুব বিনয় ও নম্র-ভদ্র হয়ে থাকবে। বাড়ীর লােকের অসুবিধা হয় এমন কোনাে কাজ করবে না এবং তাকে বিপাকে ফেলবে না। কারণ, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ ধরনের কর্ম থেকে নিষেধ করেছেন। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেন, “কোনাে মুসলিম ভাইয়ের জন্য এটা হালাল নয় যে, সে তার অপর ভাইয়ের নিকট অবস্থান করবে এবং তাকে বিপাকে ফেলবে। সাহাবীগণ জিজ্ঞাসা করলেন, হে আল্লাহর রাসূল, তাকে কীভাবে বিপাকে ফেলবে? তিনি বললেন, “তার নিকট অবস্থান করতে থাকবে অথচ তার ঘরে তাকে মেহমানদারি করার মত কিছুই নেই”। (সহীহ মুসলিম হাদিস নং ১৩৫৩)

আট- রান্না ঘর বা খাওয়ার যেখানে তৈরি করে, সেখানে গিয়ে ঘুর ঘুর করবে না। খাওয়ার দিক তাকাবে না এবং বাড়ির বেগানা মেয়েদের প্রতি দেখবে না। মাথাকে অবনত রাখবে এবং চোখের হেফাযত করবে। সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ১৩৫৩/৩

আরো পড়ুন- পুরুষের অধিকার

নয়- যদি কোনাে খারাপ কর্ম বা কু-সংস্কার পরিলক্ষিত হয়, সম্ভব হলে তা বিনয়ের সাথে সংশােধন করবে। অন্যথায় মুখে বলে চলে আসবে। বাড়াবাড়ি করবে না।
দশ- খাওয়ার পর বাড়ী ওয়ালার জন্য দো'আ করবে। আমাদের মনীষীরা দো'আ করতেন। তারা বলতেন, “হে আল্লাহ যদি এ খাদ্যগুলাে হালাল হয়ে থাকে, তাহলে তার আরও প্রশস্ত করে দাও এবং তাকে তুমি উত্তম বিনিময় দান কর, আর যদি হারাম বা সন্দেহযুক্ত হয়, তাহলে তুমি আমাকে এবং তাকে ক্ষমা করে দাও। কিয়ামতের দিন তুমি অনুসারী সাথীদের প্রতি সন্তুষ্ট হও। আমরা তােমার নিকট তােমার রহমত কামনা করি। হে পরম দয়ালু মেহেরবান”।

এগার- যার বাড়িতে দাওয়াত খেতে গেলে তার জন্য বিশেষ দো'আ করবে এবং বলবে, “তােমার খাবার নেককার বান্দারা খেয়েছে, তােমার নিকট সাওম পালনকারীগণ ইফতার করেছে, আল্লাহর পছন্দনীয় ফিরিশতারা তােমার জন্য রহমত কামনা করছে এবং আল্লাহ তা'আলা তাঁর কাছের ফিরিশতাদের মধ্যে তােমার আলােচনা করেছে।

বার- কারাে বাড়িতে প্রতিদিন মেহমান হবে না। অনেক দিন পর পর মেহমান হবে, তাতে মহব্বত বাড়বে। কারণ, আব্দুল্লাহ ইবন উমার রাদিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণিত, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, “কিছু দিন পর পর দেখতে আস, তাতে মহব্বত বাড়বে”। (ইবন আবিদ দুনিয়া, হাদীস নং ১৫৬, ১০৪)

তের- কারাে বাড়িতে তিন দিনের বেশি অবস্থান করবে না। আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “মেহমানদারি তিন দিন। তিন দিনের বেশি মেহমানদারি করা সদকা।” (সহি বুখারি হাদিস নং ৫৬৮৮)

- জাকেরুল্লাহ আবুল খায়ের।



মন্তব্য