হারাম/হালাল

কৌতুক ও হাসি-ঠাট্টার মূলনীতি

Alorpath 2 months ago Views:180

তােমরা মনকে প্রফুল্ল করার জন্য কখনাে কখনাে বিনােদন কর।


কৌতুক ও হাসি-ঠাট্টা প্রয়ােজন। এর উদাহরণ হলাে তরকারিতে লবণের মত। লবণ বেশী বা কম হলে সে তরকারির স্বাদ পাওয়া যায় না। লবণ ঠিকমত হলে তরকারি স্বাদ হয়। ঠাট্টা-মশকরাও তেমনি। তা পরিমিত হতে হবে। বেশী ঠাট্টা-কৌতুক যেমন ঠিক নয়, তেমনি ঠাট্টা-কৌতুক বিহীন অবস্থাও আকাক্ষিত নয়। নিম্নের মূলনীতিগুলােকে সামনে রাখলে হাসি-ঠাট্টায় আর কোনাে সমস্যা থাকে না।

১. হাসি-ঠাট্টা ও কৌতুক সত্য হতে হবে। যেমন, তিরমিযী ও আহমাদে বর্ণিত হাদীসে এসেছে, নবী করীম (স) বলেন, আমি সত্য কৌতুক ছাড়া অন্য কৌতুক করি না।

২. মােবাহ ও জায়েয কৌতুকে বাড়াবাড়ি করা যাবে না। বেশী হাসি-ঠাট্টা, কৌতুকে বেশী হাসির উদ্রেক করে—আর অধিক হাসি অন্তরকে মেরে ফেলে। তখন অন্তর আল্লাহ থেকে উদাসীন হয়ে পড়ে। আবু হুরাইরা (রা) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (স) বলেন, তােমরা অধিক হেসাে না। অধিক হাসি অন্তরকে মেরে ফেলে।'-তিরমিযী, ইবনে মাজা

৩. ঘৃণা-বিদ্বেষ সৃষ্টিকারী কষ্টদায়ক ঠাট্টা-কৌতুক ত্যাগ করতে হবে। এর ফলে রাগ-ক্রোধ জন্ম নেয়। কোনাে কোনাে সময় এর ফলে এক সম্প্রদায়ের সাথে অন্য সম্প্রদায় কিংবা এক জাতির সাথে আরেক জাতির যুদ্ধ ও সংঘাত সৃষ্টি হয়। নবী করীম (স) বলেছেনঃ তােমার ভাইয়ের সাথে ঝগড়া ও ঠাট্টা করাে না।-(তিরমিযী, হাদীসটি হাসান ও গরীব)। তিনি এ হাদীসে শক্রতা ও ঠাট্টাকে এক সাথে বর্ণনা করেছেন। কেননা ক্ষতিকর ঠাট্টার পরিণতি মারাত্মক হতে পারে।

৪. মনের অবসাদ ও ক্লান্তি দূর করে তেজীভাব সৃষ্টি করার লক্ষে কৌতুক জায়েয। নবী (স) বলেছেন, 'তােমরা মনকে প্রফুল্ল করার জন্য কখনাে কখনাে বিনােদন কর।'-(সুনানে দাইলামী)। কৌতুক ও হাসি-ঠাট্টা বিনােদনের একটি মাধ্যম।

৫. মনের দুর্বলতা ও পেরেশানী দূর করার জন্য কৌতুকের ব্যবহার উত্তম। নবী করীম (স)-এর বর্ণিত কৌতুকগুলাের অধিকাংশই বৃদ্ধ, অসুস্থ, দুশ্চিন্তাগ্রস্ত, শিশু ও নারীদের ক্ষেত্রে প্রয়ােগ করা হয়েছে।

৬. মানুষের ইজ্জত-সম্মান নিয়ে কোনাে কৌতুক করা যাবে না। যদি কোনাে ব্যক্তির প্রতি বিদ্রুপ, অবজ্ঞা ও খারাপ উদ্দেশ্যে হাসি-ঠাট্টা করা হয় তাহলে সেটা হবে হারাম। সূরা হুজুরাতের ১১ আয়াতে আল্লাহ তা নিষেধ করেছেন।

৭. ভয়-ভীতি প্রদর্শনের উদ্দেশ্যে কৌতুক ও হাসি-ঠাট্টা জায়েয নেই । একবার নবী করীম (স)-এর সাথে সাহাবায়ে কেরাম সফরে বের হন। একজন সাহাবী পথে ঘুমিয়ে পড়েন। অন্য একজন সাহাবী ঘুমন্ত সাহাবীর তীর হাতে তুলে নেন। তখন ঐ সাহাবী হঠাৎ ঘুম থেকে জেগে ভীত হয়ে পড়েন। তখন নবী করীম (স) বলেন : “কোনাে মুসলমান অন্য কোনাে মুসলমানকে ঠাট্টা করে হলেও ভয় দেখানাে জায়েয নেই।”-আহমদ, আবু দাউদ

৮. কেবলমাত্র হাসানাের উদ্দেশ্যে লক্ষ্যহীন কৌতুক বলা নাজায়েয। হযরত আনাস (রা) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (স) বলেছেন, “তােমাদের মধ্যে এমন ব্যক্তিও কি আছে যে লােকদেরকে হাসানাের জন্য কথা বলে যার ফলে সে আসমান থেকেও আরাে দূরবর্তী স্থানে পতিত হয় ? তােমাদের মধ্যে কি এমন ব্যক্তিও আছে যে কেবলমাত্র নিজ সাথীদেরকে হাসায়, ফলে আল্লাহ তার উপর অসন্তুষ্ট হন এবং তাকে দোযখে প্রবেশ করানাের আগ পর্যন্ত তিনি ক্ষান্ত হন না।”-আবুশ শেখ-সনদ হাসান 

আরো পড়ুন- ইসলামের প্রথম শহীদ সুমাইয়া (রা) একজন মহিলা সাহাবী


৯, ইসলামী আকীদা-বিশ্বাসের পরিপন্থী কোনাে কৌতুক ও ঠাট্টা করা হারাম। সেটা কোনাে কমেডি ও ট্রাজেডী যাই হােক না কেন, আল্লাহ বলেন : “তাদের বলাে, তােমরা কি আল্লাহ, তাঁর আয়াত ও রাসূলের সাথে ঠাট্টা করছাে?”-সূরা আত তাওবা ঃ ৬৫

১০. অমুসলিমদের অনুকরণে কৌতুক নিষিদ্ধ। যেমন, এপ্রিল ফুল। এটা স্পেনের মুসলিম হত্যার দুঃখজনক ঘটনার স্মৃতি। খৃষ্টান জগত সে হত্যাকাণ্ডকে আনন্দ প্রকাশের জন্য কৌতুকের মাধ্যমে তাদের মধ্যে স্মরণীয় করে রেখেছে। মুসলমানরা কি করে আপন ভাইদের সে দুঃখজনক স্মৃতির ব্যাপারে খৃষ্টানদের সাথে একাকার হতে পারে? ঈমান থাকলে তা কখনােও সম্ভব নয়।

১১. দাম্পত্য জীবনের গােপন বিষয় অন্যদের সামনে ঠাট্টা আকারে পরিবেশন করা হারাম। নবী করীম (স) বলেছেন, কেয়ামতের দিন ব্যক্তির মর্যাদা হবে সর্বাধিক নিকৃষ্ট যে নিজ স্ত্রীর সাথে মিলনের পর তা তার বন্ধুর কাছে প্রকাশ করে।'-মুসলিম

১২. তিন বিষয়ে ঠাট্টা নিষিদ্ধ। আবু হুরাইরা (রা) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (স) বলেছেনঃ তিনটি বিষয় এমন যে ঠিকমত বললেও হয়ে যাবে এবং ঠাট্টা করে বললেও হয়ে যাবে। ১. বিয়ে, ২. তালাক, ৩. তালাকের পরে স্ত্রীকে ফিরিয়ে আনা -তিরমিযী
কৌতুক ও হাসিঠাট্টার বিষয়ে ইসলামের মূলনীতি অবশ্যই সামনে রাখতে হবে।

- এ, এন, এম, সিরাজুল ইসলাম।



মন্তব্য