সিয়াম

রমজানের ফজিলত

Alorpath 2 months ago Views:1358

যখন রমযান মাস আগমন করে, তখন আসমানের দরজাসমূহ খােলা হয়, জাহান্নামের দরজাসমূহ বন্ধ করা হয় এবং শয়তানগুলােকে শৃঙ্খলাবদ্ধ করা হয়।


আবু হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন- যখন রমযান মাস আগমন করে, তখন আসমানের দরজাসমূহ খােলা হয়, জাহান্নামের দরজাসমূহ বন্ধ করা হয় এবং শয়তানগুলােকে শৃঙ্খলাবদ্ধ করা হয়। (বুখারী: হা: ১৮০০, মুসলিম: হা: ১০৭৯)


অপর বর্ণনায় আছে- যখন রযমানের প্রথম রাত আসে, শয়তান ও অবাধ্য জীনগুলােকে শৃখলিত, করা হয়, জাহান্নামের সকল দরজা বন্ধ করা হয়। খোলা হয় না তার কোন দ্বার, জান্নাতের দরজাগুলাে খুলে দেয়া হয়: বন্ধ করা হয় না তার কোনাে তােরণ এবং একজন ঘােষক ঘােষণা করে; হে পুণ্যের অন্বেষণকারী! অগ্রসর হও। হে মন্দের অন্বেষণকারী! ক্ষান্ত হও। আর আল্লাহর জন্য রয়েছে জাহান্নাম থেকে মুক্তিপ্রাপ্ত অনেক বান্দা, এটা প্রত্যেক রাতে হয়।” (তিরমিযী হা: ৬৮২, ইবনে মাজাহ : হা: ১৬৪২)


হাদীসে বর্ণিত; হে পুণ্যের অন্বেষণকারী! অগ্রসর হও। হে মন্দের অন্বেষণকারী! ক্ষান্ত হও। হে কল্যাণ অনুসন্ধানকারী! তুমি আরাে কল্যাণ অনুসন্ধান কর। এটা তােমার মুখ্য সময়, এতে অল্প আমলে তােমাকে অধিক প্রদান করা হবে। আর হে মন্দের প্রত্যাশী! তুমি ক্ষান্ত হও, তওবা কর, এটা তাওবা করার উপযুক্তসময়।


অপর বর্ণনায় আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার সাহাবিদের সুসংবাদ প্রদান করে বলেছেন-: তােমাদের নিকট বরকতময় মাস রমযান এসেছে, আল্লাহ এর সওম ফরয করেছেন। এতে জান্নাতের দ্বারসমূহ খােলা হয়, জাহান্নামের দরজাসমূহ বন্ধ করা হয়, শিকলে বেঁধে রাখা হয় শয়তানকে। এতে একটি রজনী রয়েছে যা সহস্র মাস থেকে উত্তম। যে তার কল্যাণ থেকে বঞ্চিত হলাে, সে প্রকৃত অর্থে বঞ্চিত হলাে।(নাসায়ি :হা: ৪/১২৯, আহমদ : হা: ২/২৩০, আব্দু ইবনে হুমাইদ : হা: ১৪২৯




আবু হুরায়রা অথবা আবু সাইদ খুদরী (রা) থেকে বর্ণিত, তারা বলেন :রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন- প্রত্যেক দিনে ও রাতে আল্লাহর মুক্তিপ্রাপ্ত বান্দা রয়েছে, তাদের প্রত্যেকের জন্য রয়েছে দোয়া কবুলের মহান প্রতিশ্রুতি। (আহমদ, হা: ২/২৫৪, তাবরানি ফিল আওসাত : ৬/২৫৭, বিশুদ্ধ সনদে)


জাবের (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন : রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, প্রত্যেক ইফতারের সময় আল্লাহর মুক্তিপ্রাপ্ত বান্দা রয়েছে আর তা প্রত্যেক রাতে। (ইবনে মাজাহ, হা: ১৬৪৩, আলবানি সহীহ ইবনে মাজায় হাদীসটি হাসান ও সহীহ বলেছেন)

রমজানের শিক্ষা ও মাসায়েল ১৫টি


১. রমজন মাসের ফযীলত এই যে, এতে জান্নাতের দরজাসমূহ উন্মুক্ত করা হয়, জাহান্নামের দরজাসমূহ বন্ধ করা হয় ও শয়তানগুলাে শৃঙ্খলে আবদ্ধ করা হয়। রমযানের প্রত্যেক রাতে তা সংঘটিত হয়, শেষ রমযান পর্যন্ত অব্যাহত থাকে।


২ এসব হাদীস প্রমাণ করে যে, জান্নাত-জাহান্নাম আল্লাহর সৃষ্ট দু'টি বস্তু, এগুলাের দরজাসমূহ প্রকৃত অর্থে খােলা ও বন্ধ করা হয়।(দেখুন : শারহু ইবনে বাত্তাল : ৪/২০, আল-মুফহিম: ৩/১৩৬)


৩. ফযীলতপূর্ণ মৌসুম ও তাতে সম্পাদিত আমল আল্লাহর সন্তুষ্টির কারণ ও যে কারণে জান্নাতের দরজাসমূহ খােলা ও জাহান্নামের দরজাসমূহ বন্ধ হয়।


৪. রমযানের সুসংবাদ প্রদান ও তার শুভেচ্ছা বিনিময় বৈধ। কারণ সাহাবীদের সুসংবাদ প্রদান ও তাদেরকে আমলের প্রতি উদ্বুদ্ধ করার জন্য নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রমযানের এসব বৈশিষ্ট্যের বর্ণনা দিতেন। অনুরূপ প্রত্যেক কল্যাণের সুসংবাদ প্রদান বৈধ।


৫. অবাধ্য শয়তানগুলাে এ মাসে আবদ্ধ করা হয়, ফলে তাদের প্রভাব কমে যায় ও মানুষ অধিক নেক আমল করার সুযােগ পায় ।


৬. বান্দার ওপর আল্লাহর অনুগ্রহ যে, তিনি তাদের সিয়াম হিফাজত করেন, তাদের থেকে অবাধ্য শয়তানের প্রভাব দূর করেন, যেন সে তাদের ইবাদত বিনষ্ট করার সুযােগ না পায়। (জাখিরাতুল উকবা : ২০/২৫৫)


৭ এসব হাদীস থেকে শয়তানের অস্তিত্বের প্রমাণ মিলে। তাদের শরীর রয়েছে যা শিকলে বাঁধা যায়। তাদের কতিপয় অবাধ্য, রমযানে যাদেরকে শৃঙ্খলাবদ্ধ করা হয়। (যাখিরাতুল উকবা : ২০/২৫৫)


৮. রমানের বিশেষ মর্যাদা সেসব মুমিনগণ অর্জন করবে, যারা এর যথাযথ মর্যাদা দেয় ও এতে আল্লাহর বিধান পালন করে। পক্ষান্তরে কাফের, যারা এতে পানাহার করে, এর কোনাে মর্যাদা দেয় না, তাদের জন্য জাহান্নাতের দরজাসমূহ খােলা ও জাহান্নামের দরজাসমূহ বন্ধ করা হয় না। তাদের শয়তানগুলাে বন্দি করা হয় না, তারা জাহান্নাম থেকে মুক্তির যােগ্য নয়।(দেখুন : ফাতাওয়া শায়খুল ইসলাম : ৫/১৩১-৪৭৪), অতএব এ মাসে তাদের মৃতরা আল্লাহর শাস্তি থেকে মুক্তি পাবে না।


৯. যে মুসলিম কাফেরদের সঙ্গে মিল রাখল, যেমন রমযানের মূল্য দিল না, এতে পানাহার করল, সওম ভঙ্গের কাজ করল, অথবা সওমের সওয়াব হ্রাসকারী কর্মে লিপ্ত হল, যেমন গীবত, চোগলখুরী, মিথ্যা সাক্ষ্য দেয়া ও এসব বৈঠকে উপস্থিত হওয়া, বলা যায় সে রমযানের ফযীলত থেকে বঞ্চিত হবে, তার জন্য জান্নাতের দরজাসমূহ উন্মুক্ত ও জাহান্নামের দরজাসমূহ বন্ধ করা হবে না, তার শয়তানগুলাে শৃঙ্খলাবদ্ধ থাকবে না।


আরো পড়ুন- রমজান মাসের শুরু-শেষ নির্ধারণ


১০, সূরায়ে সাদ’ এর ৫০নং আয়াতে জান্নাতের প্রশংসায় বলা হয়েছে- চিরস্থায়ী জান্নাত, যার দরজাসমূহ থাকবে তাদের জন্য উন্মুক্ত। (সূরা সাদ : ৫০)এ আয়াত রমযানের উপরিউক্ত বৈশিষ্ট্যের বিপরীত নয়, কারণ এ আয়াত জান্নাতের দরজাসমূহ সর্বদা উন্মুক্ত থাকার দাবি করে না। (দ্বিতীয়ত এ আয়াত কিয়ামতের দিন সম্পর্কে। অনুরূপ জাহান্নাম সম্পর্কে সূরায়ে জুমারের ৭১ নং আয়াত. অবশেষে তারা যখন জাহান্নামের কাছে এসে পৌছবে তখন তার দরজাগুলাে খুলে দেয়া হবে । (সূরা যুমার : ৭১) হতে পারে এর পূর্বে জাহান্নামের দরজাসমূহ বন্ধ থাকবে। (যাখিরাতূল উকবা : ২০/২৫৩)


১১. লাইলাতুল কদর ফযীলতপূর্ণ। এ রাত লাইলাতুল কদর বিহীন হাজার মাস থেকে উত্তম। এ রাতের বরকত থেকে যে বঞ্চিত হলাে, সে অনেক কল্যাণ থেকে বঞ্চিত হলাে।


১২. রমযানের প্রত্যেক রাতে আল্লাহর মুক্ত করা কতিপয় বান্দা থাকে। যারা আল্লাহর মহব্বত, সওয়াবের আশা ও শাস্তির ভয়ে সওম রাখে, সওম হিফাজত করে, কিয়াম করে, ইহসানের প্রতি যত্নশীল থাকে ও অধিক নেক আমল অর্জন করে, তারা মুক্তির বেশি হকদার।


১৩, জাহান্নাম থেকে মুক্ত এসব বান্দার জন্য আল্লাহর নিকট দোয়া কবুলের ওয়াদা রয়েছে। তারা দু'টি কল্যাণ লাভ করেছে- জাহান্নাম থেকে মুক্তি ও দোয়া কবুলের প্রতিশ্রুতি।


১৪. মুসলিমদের উচিত সওয়াব বিনষ্ট বা হ্রাসকারী কর্ম থেকে সওম হিফাজত করা, যেমন চোখ কান ও জবান সংরক্ষণ করা, তাহলে ইনশাআল্লাহ জাহান্নাম থেকে মুক্তির সনদ মিলবে।


১৫, সওম পালনকারীর উচিত পরিমাণে অধিক দোয়া করা, কারণ রােযাদার ব্যক্তির দোয়া কবুলের সম্ভাবনা রয়েছে।



মন্তব্য