সিয়াম

সমাগত রামাযান, সর্বাত্মক প্রস্তুতির আহ্বান।

Alorpath 2 months ago Views:1341

পারলে রমজানের তিন দিনে এক বার না পারলে সপ্তাহে একবার না পারলে পনের দিনে একবার তাও না পারলে পুরো রমজানে একবার কুরআনকে তেলোয়াতে রিভিশন দেওয়ার প্রস্তুতি সেরে নিই।


হায়াত সীমিত, রিযিক নির্ধারিতমৃ মৃত্যুবধারিত। তবুও আমরা পরকাল বাদ দিয়ে দুনিয়া নিয়েই ব্যস্ত।

এই ব্যস্ততার মাঝে পরকালের সামানা গোছিয়ে নেওয়ার হাতছানি দিয়ে রমজান প্রায় দোরগোড়ায়! রমজান আসবে চলেও যাবে! এই আসা যাওয়ার মাঝে জীবনে কতটা রমজান পাওয়া যাবে সেটি যেমন আমাদের সবার অজানা,তেমনি আগামী বছর আর এই রাজা মাসটিকে পেয়ে নেকি কামাতে পারবো কিনা তাও অজানা!

তাই আসুন আনন্দিত হই রমজান দোরগোড়ায় এসে গেল তাই। আসুন রমজান বরণ করতে আনন্দের পাশাপাশি আমলের পসরা বা ডালি সাজিয়ে বাঁকি সময়টুকু প্রহর গুনি আর দোয়া করি রমজানে যেন আল্লাহ পৌছে দেন আমাদের। নেক আমলে রেকর্ড ভেঙে নতুন রেকর্ড গড়ার তৌফিক দেন, নিজের রেকর্ড তো বটেই,পারলে এলাকার রেকর্ড, আরো পারলে জেলার রেকর্ড, আরো পারলে বিভাগীয় রেকর্ড, আরো পারলে জাতীয় বা দেশ-সেরা রেকর্ড, আরো পারলে বিশ্ব রেকর্ড গড়তে চেষ্টা করে যেন আমার রেকর্ড ভুক্ত নামটি উঠে যায় গ্রিনিচ-বুক নয় মহান মালিকের সম্মানিত ফেরেশতাদ্বয়ের বুকে তথা আমলনামায়। যা দেখে আমি আনন্দিত হবো বিচারের দিন, হাস্যউজ্জল হবে আমার মুখ ইনশাআল্লাহ। যদিও কারো মুখ সেদিন হবে মলিণ এবং নিমজ্জিত সূরা ওকেয়াহ আয়াত ৩-৪.



যেভাবে সাজাতে পারি আমাদের প্রিয় রমজানকে।

১. সিয়ামঃ

সিয়াম সাধনার মাধ্যমে তবে তা যেন হাদিসের ভাষায় খাদ্য ও পানীয় ত্যাগ সর্বস্ব "রোজা" না হয়ে আল্লাহর সকল নিষিদ্ধ কর্ম পরিত্যাগ করে সিয়ামই হয়। যার পুরস্কার আল্লাহ নিজে হাতে দিবেন। বুখারী।

২. কিয়ামঃ

ফরজ সলাত বা কিয়াম তো বটেই সাথে যেকোন মূল্যে তারাবী বা তাহাজ্জুদ যেন মিচিং না হয় আমার। তবে তা যেন রাকাত সর্বস্ব ও সিডর সাইক্লোনের গতিতে না হয়ে চিরস্থিরতার সাথে অনুগত মন,তাকওয়ার সাথে ও বিনয়ের সাথেই হয়।তাহলে পূর্বের সকল গুনাহ মাফের কথা এসেছে হাদিসে। বুখারী হাদিস ৩৫,৩৭,৩৮.

৩. সদাকাঃ

সিয়ামের সম্মানিত মাসে সদাকা করে ফেলি নিত্য সঙ্গী। এমাসে রাসূল সাঃ দানে হতেন দক্ষিণা বাতাসের ন্যায় অগ্রগামী[ মিশকাত] সদাকা তো দলিল,যা আল্লাহর রাগকে ঠান্ডা করে দেয়।তাই প্রতিদিন কিছু না কিছু সদাকা করার মনস্তাত্ত্বিক প্রস্ততি সেরে নেই সকলে।আর ফরজ সদাকা তথা জাকাত ফরজ হলে এ মাসে আদায় করা নেকির দিক থেকে সীমাহীন হবে বলে আশা করা যায়,ইংশাআল্লাহ।

৪. কুরআন তেলোয়াতঃ

এ মাসে তাফসীর অন্য কিতাব পড়ার চেয়ে আমার কাছে খুব বেশি করে একনিষ্ঠ তেলোয়াতে মশগুল হওয়া সর্বোত্তম মনে হয়। পারলে রমজানের তিন দিনে এক বার না পারলে সপ্তাহে একবার না পারলে পনের দিনে একবার তাও না পারলে পুরো রমজানে একবার কুরআনকে তেলোয়াতে রিভিশন দেওয়ার প্রস্তুতি সেরে নিই। আর ফরজ সলাতে দাড়িয়ে পুরো কুরআন তেলোয়াত শোনার সেভাগ্য হলে তো সোনায় সোহাগা।

৫. তওবা- এস্তেগফারঃ

বিশেষ করে এমাসে ও সকল সময় তওবা তথা এস্তেগফারকে নিত্য সঙ্গী বানিয়ে নেই।এস্তেগফার অব্যাহত থাকা কালীন স্বয়ং আল্লাহ বান্দার ওপর শাস্তির।অধ্যাদেশ জারি করেন না।আনফাল আয়াত ৩৩. আর রমজানে গোনাহ ক্ষমা না করাতে পারলে তার ধ্বংস কামনা করেছেন স্বয়ং আল্লাহর রাসূল সাঃ।মিশকাত।

৬. জিকির ও দোয়াঃ

সিশাম রত অবস্থায় দোয়া কবুলের সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য সময়।মিশকাত তাই সর্ব হালাল বিষয়ে দেশ ও জাতির কল্যাণ কামনা সহ দুনিয়া ও আখিরাতে সর্বোচ্চ কল্যাণ ও মর্যাদার জন্য বেশি থেকে বেশি দোয়া করুন।
আর নিশ্চয় আল্লাহর জিকিরই অন্তর প্রাশান্ত হয় সূরা রাদ আয়াত ২৮।তাই বেশি বেশি জিকিরে জিহ্বাকে সঞ্চালিত রাখি।প্রসঙ্গত সর্বোত্তম জিকওর লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ ও সর্বোত্ত দোয়া। আলহামদুলিল্লাহ।,বুখারী।

৭. শেষ দশকের ইতিকাফঃ

পুরুষ মহিলা সকলে শেষ দশকে এতেকাফের নিয়ত চূড়ান্ত করে ফেলি এখন থেকেই এবং সর্বাত্মক প্রস্তুতি গ্রহন করি।কারণ রাসূল সাঃ প্রত্যেক রামাজানের শেষ দশকের ইতিকাফ কিন্ত ছাড়েননি। বুখারী।

৮. লাইলাতুল কদর তালাশ ও জাগরণঃ

শুধু সাতাইশ রামাদান কিন্তু নয় শেষ দশকের বেজোড় রাতগুলো(২১,২৩,২৫,২৭,২৯ রামাদান) কিন্তু রাসূল সাঃ লািলাতুল কদর তালাশ করতে বলেছেন বুখারী।

৯. ইফতার করানোঃ

সায়েম তথা রোজাদারদের এফতার করা রোজাদারের তথা সায়েমের সমান নেকি, বুখারী তাই বোনাস ও মারাত্বক অফারটি কোনভাবেই যেন হাতছাড়া আমার না হয়।আর এ মহামারীর মধ্যে এ সুযোগটি তো ডবল বোনাস আল্লাহর কাছে আশা করতেই পারি। তবে ইফতারের বাহারী আয়োজন সুন্নাহ সম্মত নয় বরং তা পরিত্যাজ্য।এটা বাজারে দ্রব্যমূল্য বেড়ে যাওয়ার অন্যতম কারণ।আর সাতপেটে খায় তো শয়তান অতএব সাবধান।আর অতি খাওয়ায় কিন্তু শরীরে।অতি অসুস্থতা সত্ত্বর চলে আসে।বিষয়টি সকলে ভেবে দেখবো ও আমলে নিব।

১০. সদাকাতুল ফিতর প্রদানঃ

রামাজান শেষে ঈদের দিন ঈদের সলাত পড়তে যাওয়ার আগেই আমাদের খাদ্য দ্রব্য দিয়ে সদাকাতুল ফিতর আদায়ের প্রস্তুতি শুরু থেকে নিয়ে রাখা উচিৎ।টাকা দিয়ে কিন্তু নয় খাদ্যদ্রব্য এক সা' প্রদান করা হত রাসূল সাঃ এর যুগে।বুখারী।

১১. এতিম অসহায়দের পাশে দাঁড়াইঃ

এতিম অসহায় বিধবাদের সাহায্য সহযোগীতা সারা রাত্র তাহাজ্জুদ ও সারা বছর নফল সিয়ামের নেকি হয়।
তাই রমজানে এ সুযোগটি হাতছাড়া না করি।

১২. এহসানঃ

সকল মানুষের ওপর রমজান মাসে এহসানের করুন তাতে আল্লাহর রহমত আগণিত হারে বর্ষিত হবে ইংশাআল্লাহ।এর মধ্যে ব্যবসায়ীগণ রমজানের সম্মানের সকল পণ্যের দাম একটু হলেও লাভ কম করে কমিয়ে দিন,আল্লাহ আপনাকে সম্মানিত করবেন ও বারাকাত দিবেন। মালিকগণ শ্রমিকদের কাজ কমিয়ে দিন আল্লাহ আপনার ব্যবসায়ে বরকত দিবেন।

আরো পড়ুন- ফরজ রােযার নিয়ত


রিকশা চালক ও অন্যান্য কঠিন কাজপর মানুষদের ডবল পারিশ্রমিক দিন যাতে তারা অল্প সময়ে কাজ করে সিয়ামের জন্য বিশ্রাম নিয়ে সিয়াম চালিয়ে যেতে পারে।

১৩. হারাম পরিত্যাগঃ

খাদ্যে ভেজাল,অতি মুনাফাখোরী,অবৈধ মজুদের মাধ্যমে কৃত্রিম অভাব সৃষ্টি কারী দুর্নীতি, সুদ, ঘুষ, মাদক, হত্যা, জুলুমের মত জঘন্য হারাম বা পাপাচার সহ আল্লাহ কর্তৃক সকল নিষিদ্ধ কর্ম থেকে বিরত থাকতে সর্বাত্মক প্রস্তুতি গ্রহন করি।রমজান উপলক্ষে পরিত্যাগ করি এবং জীবনের মত ত্যাগ ও তওবা করি।

১৪. সাহরীঃ

রামাজান মাসের সাহরী অনেক।নেক ইবাদাতের মধ্যে একটি।এই সাহরী কিন্ত আমাদের চলমান মহামারীর টিকাও হয়ে যেতে পারে।কারণ রাসূল সাঃ বলেছেন তোমরা সাহরী খাও কেননা সাহরীতে বারাকা রয়েছে। মেশকাত। তাছাড়া যারা সাহরী করতে জাগে স্বয়ং।আল্লাহ ও ফিরিশতা মন্ডলী তাদের কল্যাণ চান।তাই এ বিষয়টিও খুব জরুরি। 

১৫. এখলাসঃ

সকল কাজ নেক আমল একমাত্র শুধুমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টির নিমিত্তেই করব।ছলে বলে, কৌশলে, ইশারায়, ইঙ্গিতে কোন বিশেষ ভঙ্গিতে যদি আমি মানুষের মন জয়, বাহবা, প্রশংসা, পরহেজগার খেতাব,ভাল মানুষ খেতাব প্রভৃতি পেতে আমরা চেষ্টা করি তাহলে আমাদের সকল আমল পন্ড তো বটেই বরং তা বুমেরাং হয়ে শির্কে রুপান্তর হবেযায়। প্রমাণ সূরাতুল কাহাফ আয়াত ১১০। অতএব এ ব্যাপারে সবচেয়ে বেশি সতর্ক ও সাবধান হওয়া ভীষণ জরুরী প্রত্যেক মুমিন পুরুষ ও নারীর জন্য।

- শাইখ কাজী ইউসুফ জাহান



মন্তব্য