সিয়াম

রােযাদারের সুরমা ও মিসওয়াক ব্যবহার

Alorpath 1 month ago Views:1458

মিসওয়াকের সময় দাঁতের মাড়ি থেকে রক্ত বের হলে সমস্যা নেই, রােযা নষ্ট হবে না


আবু হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন : “যদি আমার উম্মতের ওপর কষ্ট না হতাে, তাহলে আমি প্রত্যেক সালাতের সময় তাদেরকে অবশ্যই মিসওয়াকের নির্দেশ দিতাম।” (বুখারী: ৮৪৭, মুসলিম-২৫২)

আয়েশা (রা) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন : “মিসওয়াক মুখ পবিত্র রাখা ও আল্লাহকে সন্তুষ্ট করার বস্তু।” (আহমদ-৬/৬২, নাসায়ি-১/১০, দারামি-৬৮৪, আবু ইয়ালা-৪৯৪৬, সহীহ ইন খুয়াইয়াহ-১৩৫, ও সহীহ ইবন হিব্বান-১০৬৭)

ইব্‌ন ওমর (রা) বলেছেন : “দিনের শুরু ও শেষে মিসওয়াক করবে”। তিনি আরাে বলেছেন : “রােযাদার শুষ্ক ভেজা মিসওয়াক দিয়ে মিসওয়াক করবে এতে সমস্যা নেই।” (ইবন আবি শায়বাহ-২/২৯৬)

আনাস ইবন মালেক (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি রােযা অবস্থায় সুরমা ব্যবহার করতেন।” (আবু দাউদ-২৩৭৮, ইব্‌ন আবি শায়বাহ-২/৩০৪, এ হাদীস মওকুফ। তিরমিযী। অধ্যায়ে নবীন থেকে মারফু কোনাে হাদীস নেই। তিরমিযি-৩/১০৫)



সাহান (র) থেকে বর্ণিত: “তিনি রােযাদার ব্যক্তির সুরমা ব্যবহারে কোনাে সমস্যা মনে করতেন না।" (ইবন আবি শায়বাহ-২/৩০৪, যুহরি (রহ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন : “রােযা পালনকারীর সুরমা ব্যবহারে কোনাে সমস্যা নেই”। ইবন আবি শায়বাহ-২০০৪) যুহরি (র) বলেন : “রােযাদারের সুরমা ব্যবহারে কোনাে সমস্যা নেই।” (ইবন আবি শায়বাহ-২/৩০৪)

শিক্ষা ও মাসায়েল ১৭টি

১. মিসওয়াকের ফযীলত, নবী করীম আর প্রত্যেক সালাতের সময় তার নির্দেশ দেয়ার ইচ্ছা করেছেন।

২ উম্মতের ওপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর দয়া যে, তিনি তাদের ওপর কষ্টের বিধান চাপিয়ে দেননি।

৩. দিনের শুরু ও শেষে রােযাদারের জন্য মিসওয়াক করা বৈধ। রােযাদার ও গায়রে রােযাদার সবার জন্য মিসওয়াক করা সুন্নাত, সবাই হাদীসের ব্যাপকতার অন্তর্ভুক্ত।

8. কাঁচা ও শুষ্ক সব মিসওয়াক রােযাদারের জন্য বৈধ। (বুখারি-২/৬৮২, ফাতহুল বারি-৪/১৫৮, দেখুন: তামহিদ-১৯৫৮)

৫. মিসওয়াকের সময় দাঁতের মাড়ি থেকে রক্ত বের হলে সমস্যা নেই, রােযা নষ্ট হবে না, তবে রক্ত গলাধঃকরণ করবে না। (ফাতাওয়া লাজনায়ে দায়েমাহ-১০/২৬৫, ফাতাওয়া-৩৭৮৫)

৬, রােযাদার সুরমা ব্যবহার করতে পারবে, অনুরূপ কান ও চোখের ড্রপ ব্যবহার করতে পারবে, যদিও স্বাদ অনুভব হয়, এ ব্যাপারে কোনাে নিষেধাজ্ঞা বা তার ইঙ্গিত নেই, দ্বিতীয়ত এগুলাে খাদ্যনালী নয়। (মাজমু ফাতাওয়া ইবন বায-১৫/২৬০-২৬১, শাইখুল ইসলাম ইবন তাইমিয়া (রহ) এটা গ্রহণ করেছেন। দেখুন: ফিকহুল ইবাদাত লি ইবন উসাইমিন-১৯১-১৯২)

৭ নাকের ড্রপ যদি পেটে যায়, তাহলে রােযা ভেঙে যাবে, কারণ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নাকে বেশি পানি দিতে নিষেধ করেছেন, যদি পেটে না পৌছে, কোনাে সমস্যা নেই। (দেখুন : ফাতাওয়া ইবন বায-১৫/২৬০, ফাতাওয়া ইবন উসাইমিন-১/৫২০)

৮. ইনহেলার (হাঁপানির স্প্রে) ও এ জাতীয় বস্তু যা ফুসফুসে যায়, রােযাদার ব্যবহার করতে পারবে, এতে কোনাে সমস্যা হবে না । (ফাতাওয়া ইবন বায-১/২৬৫, ফাতাওয়া ইবন উসাইমিন-১/৫০০) ইনজেকশনে রােযা ভাঙ্গবে না, মাংস বা রগ যেখানে গ্রহণ করা হােক, হ্যা খাদ্যের জন্য ব্যবহৃত ইনজেকশনে রােযা ভাঙ্গবে। (মাজমুউ ফাতাওয়া ও রাসায়েল লি ইবন উসাইমিন-১৯২১৩-২১৫)

১০, রােযাদার যদি খাদ্য জাতীয় ইনজেকশন নিতে বাধ্য হয়, তাহলে অসুস্থতার জন্য সে তা নিবে ও পরে রােযাটি কাযা করবে।

আরো পড়ুন- রমযানে দিনে সহবাস করলে কি বিধান?


১১. যদি রােযাদার কঠিন ঘ্রাণযুক্ত তেল ব্যবহার করে, রােযা ভঙ্গ হবে না, কারণ ঘ্রাণ যত শক্তিশালী হােক রােযা ভঙ্গের কারণ নয়।(মাজমুউ ফাতাওয়া ও রাসায়েল লি ইবন উসাইমিন-১৯/২২৫-২২৮)

১২ অসুস্থতার জন্য ডুশ (সাপােজিটার) ব্যবহার করলে রােযা ভঙ্গ হবে না, অতএব রােযা পালনকারী এটা ব্যবহার করতে পারে। (ফাতাওয়া ইবন উসাইমিন-১/২০৫)

১৩. দাঁতের মাজন রােযা ভঙ্গকারী নয়, বরং তা মিসওয়াকের মতােই, তবে পেটে যেন না যায় সে জন্য সতর্কতা অবলম্বন করা জরুরি, যদি অনিচ্ছায় পেটে যায়, তবে সমস্যা নেই। (মাজমুউ ফাতাওয়া ইব্‌ন উসাইমিন-১/২০৫, মাজন দ্বারা রাতে দাঁত মাজাই উত্তম।)

১৪. গড়গড়ার ওষুধের কারণে রােযা ভঙ্গ হবে না, যদি তা গলাধঃকরণ না করে, তবে বিশেষ প্রয়ােজন ব্যতীত রাত পর্যন্ত অপেক্ষা করা উত্তম। (মাজমুউ ফাতাওয়া ও রাসায়েল লি ইবন উসাইমিন-১৯৯০)

১৫. মুখের দুর্গন্ধ দূর করার জন্য স্প্রে ব্যবহার করা বৈধ, যদি তার মূল ধাতু গলায় না পেীছে। (আল-মুনতাকা-৩/১৩০)

১৬. রােযাদারের থু থু গলাধঃকরণে সমস্যা নেই, কিন্তু নাকের শ্লেষ্ম বা কফ গলাধঃকরণ বৈধ নয়, কারণ এগুলাে থেকে বিরত থাকা সম্ভব। (ফাতাওয়া লাজনায় দায়েমাহ-৯৫৮৪, ফাতাওয়া ইবন বায-৩/২৫১)

১৭ মলদ্বারে সিরিজ দ্বারা তরল পদার্থ প্রবেশ করালে রােযা ভাঙ্গবে না। (তুহফাতুল ইখওয়ান লি ইন বাঘ-৮২)



মন্তব্য