সিয়াম

ঋতুবতী নারীর রােযা ভাঙ্গা ও কাযা করা

Alorpath 1 month ago Views:1394

নারীর ওপর ইসলামি শরীয়তের ছাড় এই যে, তাদেরকে সালাত কাযার নির্দেশ দেয়া হয়নি, কারণ সালাত দিনে একাধিক বার, যার কাযা খুব কষ্টকর। এ জন্য নারীদের উচিত আল্লাহর শােকর আদায় করা।


মুয়াযাহ বিনতে আব্দুল্লাহ আল-আদাবি (র) বলেন : আমি আয়েশা (রা)-কে জিজ্ঞেস করি : ঋতুবতী কেন রােযা কাযা করে, সালাত কাযা করে না। তিনি বললেন : তুমি কি হারুরি? আমি বললাম : আমি হারুরি না, কিন্তু আমি জিজ্ঞাসা করছি, তিনি বললেন : আমাদের এমন হতাে, অতঃপর আমাদেরকে শুধু রােযা কাযার নির্দেশ দেয়া হতাে, সালাত কাযার নির্দেশ দেয়া হতাে না।(বুখারী-৩১৫, মুসলিম-৩৫)


মুয়াযাহ থেকে ইমাম তিরমিযীর এক বর্ণনায় আছে, আয়েশা (রা) বলেন : “আমাদের প্রত্যেকে কি ঋতুকালীন সালাত কাযা করবে? তিনি বললেন : তুমি কি হারুরি? আমাদের কারাে ঋতুস্রাব হলে, কাযার নির্দেশ দেয়া হত না। (তিরমিযী-১৩০)

আয়েশা (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যুগে ঋতুবতী হতাম, অতঃপর পবিত্রতা অর্জন করতাম, তিনি আমাদেরকে রােযা কাযার নির্দেশ দিতেন, কিন্তু সালাত কাযার নির্দেশ দিতেন না। এ হাদীস ইমাম তিরমিযী বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন হাদীসটি হাসান। অতঃপর তিনি বলেন: এ হাদীস অনুযায়ী আহলে ইলমের আমল, অর্থাৎ ঋতুবতী নারী রােযা কাযা করবে, সালাত কাযা করবে না। এ ব্যাপারে তাদের দ্বিমত সম্পর্কে জানি না। (তিরমিযী-৭৮৭)



আয়েশা (রা) তুমি কি হারুরি” বলে, এ প্রশ্নের প্রতি অনীহা ও বিরক্তি প্রকাশ করেছেন। হারুরি খারেজি সম্প্রদায়ের একটি গ্রুপ। কুফার নিকটে অবস্থিত হারুরা শহরে তাদের বসতি, এ জন্য তাদেরকে হারুরি বলা হয়, সেখান থেকে তাদের উৎপত্তি। তাদের মধ্যে ছিল দ্বীনের ব্যাপারে বাড়াবাড়ি ও কঠোরতা। (ফাতহুল বারি : ১/৪২২) তাদের কেউ হাদীস ও ইজমার বিপরীত ঋতুবতী নারীর ওপর ঋতুকালীন সালাতের কাযার নির্দেশ দিত। (দেখুন : আল-মুগনি: ১/১৮৮, হাশিয়া সিনদি আলা সুনানে নাসায়ি : ৪/১৯১, উমদাতুল কারি: ৩/৩০০ এ জন্য তিনি বিরক্তি প্রকাশক শব্দ দ্বারা তাকে জিজ্ঞাসা করেছেন, তুমি কি তাদের কেউ? '

শিক্ষা ও মাসায়েল ১০টি

১. দ্বীনের মধ্যে বাড়াবাড়ি ও কঠোরতা হারাম। কুরআন হাদীসের সীমারেখায় অবস্থান করা ও সে অনুযায়ী আমল করা ওয়াজিব আল্লাহর দেয়া শিথিলতা বা রুখসত গ্রহণ করা। দ্বীনের ব্যাপারে যেরূপ বাড়াবাড়ি খারাপ, অনুরূপ বাহানা তালাশ নিন্দনীয়। মধ্যমপন্থা অবলম্বন করা উত্তম, অর্থাৎ কুরআন-হাদীসের ওপর আমল করা।

২ দ্বীনের ব্যাপারে কঠোরতা আরােপকারীদের নিষেধ করা বৈধ, যেন সঠিকভাবে শরীয়তের বাস্তবায়ন হয় এবং কোন সমস্যার সৃষ্টি না হয়।

৩. কোন প্রশ্নের কারণে প্রশ্নকারী সম্পর্কে যদি মুফতির মনে খারাপ ধারণা জন্মায় তাহলে প্রশ্নকারীর ব্যাখ্যা দেয়া উচিত যে, তিনি গােড়া নন বরং জানতে ইচ্ছুক, যেমন মুয়াযাহ বলেছেন : “আমি হারুরি নই, কিন্তু প্রশ্ন করছি” তখন মুফতির কর্তব্য দলিল দ্বারা তার প্রশ্ন দূর করা, যেমন আয়েশা (রা) করেছেন।

৫. ইবনে আব্দুল বার (রহ) বলেছেন : “ঋতুবতী নারী রােযা পালন করবে না, বরং কাযা করবে, তবে সালাত কাযাও করবে না। এ বিষয়ে উম্মতের ইজমা রয়েছে। আল-হামদুলিল্লাহ। সকল মুসলিম যেখানে একমত, সেটা সঠিক ও চূড়ান্ত সত্য (তামহিদ-২২/১০৭)

আরো পড়ুন- রােযার ফযীলত


৬. নারীর ওপর ইসলামি শরীয়তের ছাড় এই যে, তাদেরকে সালাত কাযার নির্দেশ দেয়া হয়নি, কারণ সালাত দিনে একাধিক বার, যার কাযা খুব কষ্টকর। এ জন্য নারীদের উচিত আল্লাহর শােকর আদায় করা।

৭ নারী যদি ফজর উদিত হওয়ার সময় পাক হয়, তাহলে সে দিনের রােযা তার শুদ্ধ হবে না, কাযা করা জরুরি, কারণ যখন ফজর উদিত হয়েছে, তখন সে ঋতুবতী। নারী যদি সূর্যাস্তের সামান্য আগে ঋতুবতী হয়, তাহলে তার রােযা বাতিল কাযা করা ওয়াজিব। (ফাতাওয়া লাজনায় দায়েমা : ১০/১৫৫, ফাতাওয়া নং: (১০৩৪৩)

৮. নারী যদি সূর্যাস্ত যাওয়ার সামান্য পর ঋতুবতী হয়, তাহলে সে দিনের রােযা শুদ্ধ।

৯. নারী যদি রােযা অবস্থায় রক্ত আসা অথবা তার ব্যথা অনুভব করে, সূর্যাস্তের আগে বের না হয়, তাহলে তার রােযা শুদ্ধ। (ফাতাওয়া আল-জামেয়াহ লিল মারআল মুসলিমাহ লি ইবনে উসাইমিন : ১/৩২৫)

১০. এ হাদীস থেকে বুঝায়, অসুস্থ ব্যক্তি রােযা ভঙ্গ করতে পারবে, যদিও তার রােযার ক্ষমতা থাকে, যদি রােগ বৃদ্ধির আশঙ্কা থাকে। কারণ ঋতুবতী নারী একেবারে দুর্বল হয় না, বরং রক্ত বের হওয়ার কারণে তার ওপর রােযা কষ্টকর, আর রক্ত বের হওয়া একটি রােগ। (শারহু ইবনে বাত্তাল আলাল বুখারী: ৪/৯৭-৯৮)



মন্তব্য