সিয়াম

রোযাদারের জন্য জান্নাতের দরজা নির্ধারিত।

Alorpath 1 month ago Views:1453

জান্নাতে আটটি দরজা, তাতে একটি দরজাকে “রাইয়ান” বলা হয়, তা দিয়ে রােযাদার ব্যতীত কেউ প্রবেশ করবে না।


সাহাল ইবন সাদ থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন : “জান্নাতে আটটি দরজা, তাতে একটি দরজাকে “রাইয়ান” বলা হয়, তা দিয়ে রােযাদার ব্যতীত কেউ প্রবেশ করবে না।” (বুখারী-৩০৮৪, মুসলিম-১১৫৫, তিরমিযী-৭৬৫, নাসায়ি-৪/১৬৮, ইবন মাজাহ-১৬৪০, আহমদ-৫/৩৩৫)

বুখারির বর্ণিত শব্দে হাদীসটি এসেছে এভাবে : “নিশ্চয় জান্নাতে একটি দরজা আছে, যাকে বলা হয় রাইয়ান, কিয়ামতের দিন তা দিয়ে রােযাদার প্রবেশ করবে, তাদের ব্যতীত কেউ সেখান থেকে প্রবেশ করবে না। বলা হবে : রােযাদারগণ কোথায়? ফলে তারা দাঁড়াবে, তাদের ব্যতীত কেউ তা দিয়ে প্রবেশ করবে না, যখন অন্যরা প্রবেশ করবে বন্ধ করে দেয়া হবে, অতঃপর কেউ তা দিয়ে প্রবেশ করবে না।” (বুখারী-১৭৯৭)


তিরমিযির বর্ণিত শব্দ : জান্নাতে একটি দরজা আছে, যাকে রাইয়ান বলা হয়, তার জন্য রােযাদারকে আহ্বান করা হবে, যে রােযাদারদের অন্তর্ভুক্ত হবে, সে তাতে প্রবেশ করবে, যে তাতে প্রবেশ করবে কখনাে পিপাসার্ত হবে না।” (তিরমিযী-৭৬৫,


আবু হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণিত, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন : “আল্লাহর রাস্তায় যে দু’টি জিনিস খরচ করল, তাকে জান্নাতের দরজাসমূহ থেকে ডাকা হবে: হে আব্দুল্লাহ! এটা কল্যাণ। যে সালাত আদায়কারী তাকে সালাতের দরজা থেকে ডাকা হবে। যে মুজাহিদ তাকে জিহাদের দরজা থেকে ডাকা হবে। যে রােযাদার তাকে রাইয়ান দরজা থেকে ডাকা হবে। যে দানশীল তাকে সদকার দরজা থেকে ডাকা হবে। আবু বকর (রা) বললেন : হে আল্লাহর রাসূল! আমার মাতা-পিতা আপনার ওপর উৎসর্গ । যাকে এক দরজা থেকে ডাকা হবে, তার বিষয়টি পরিষ্কার, কিন্তু কাউকে কি সকল দরজা থেকে ডাকা হবে। তিনি বললেন হ্যা, আমি আশা করছি তুমি তাদের অন্তর্ভুক্ত।” (বুখারী-১৭৯৮, মুসলিম-১০২৭)


বুখারি ও মুসিলমের অন্য শব্দে এসেছে : “জান্নাতের প্রহরী তাকে ডাকবে, প্রত্যেক দরজার প্রহরী বলবে: হে অমুক! আস।” (বুখারী-২৬৮৬, মুসলিম-১০২৭)


ইমাম আহমাদের বর্ণিত শব্দ ; “প্রত্যেক আমলের লােকের জন্য জান্নাতে একটি করে দরজা আছে, তাদেরকে সে আমল দ্বারা ডাকা হবে। রােযাদারদের একটি দরজা রয়েছে, তাদেরকে সেখান থেকে ডাকা হবে, যাকে বলা হয় রাইয়ান। আবু বকর (রা) বললেন : হে আল্লাহর রাসূল! কাউকে কি সব দরজা থেকে ডাকা হবে? তিনি বললেন : হ্যা, আমি আশা করছি তুমি তাদের অন্তর্ভুক্ত হে আবু বকর ।” (মুসনাদে আহমদ-২/৪৪৯)




আবু বকর (রা)-এর উদ্দেশ্য, যাকে জান্নাতের এক দরজা দিয়ে ডাকা হলাে, তার জন্য এটাই যথেষ্ট, প্রত্যেক দরজা থেকে ডাকার প্রয়ােজন নেই। কারণ মূল উদ্দেশ্য জান্নাতে প্রবেশ করা, যা এক দরজা দিয়ে সম্পন্ন হয়। তারপরও কাউকে কি সব দরজা থেকে ডাকা হবে? নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে হ্যাঁ বলে উত্তর দিলেন।


শিক্ষা ও মাসায়েল ১১টি


১. রােযার ফযীলত যে, তার জন্য জান্নাতের আটটি দরজা থেকে একটি নির্দিষ্ট করা হয়েছে।


২. “বাবে রাইয়ান” জান্নাতের একটি দরজার নাম। “রাইয়ান” । শব্দটি অর্থ পিপাসার বিপরীত, রােযাদার যেহেতু নিজেকে পানি থেকে বিরত রাখে, যা মানুষের খুব প্রয়ােজন, সেহেতু তার যথাযথ প্রতিদান হিসেবে আখিরাতে তাকে পান করানাে হবে, যার পর কখনাে সে তৃষ্ণার্ত হবে না ।


৩. হাদিসে উল্লেখিত ইবাদত: সালাত, জিহাদ, রােযা ও সদকা জান্নাতের এক একটি দরজা। প্রত্যেক দরজা তার আমলকারীর জন্য খাস থাকবে, এখানে উদ্দেশ্য যার যে আমল বেশি তার জন্য সে দরজা বরাদ্দ।


8. জান্নাতের দরজায় ফেরেশতাদের থেকে প্রহরী নিযুক্ত রয়েছে, তারা প্রত্যেক আমলকারীকে তার আমল অনুসারে তার জন্য নির্দিষ্ট দরজা থেকে ডাকবে, এ থেকে প্রমাণ হয় যে, ফেরেশতারা নেককার আদম সন্তানদের মহব্বত করে ও তাদের কারণে খুশি হয়। (ফাতহুল বারি-৭/২৯)


৫. আবু বকর (রা)-এর ফযীলত যে, তাকে প্রত্যেক দরজা থেকে ডাকা হবে, কারণ সে প্রত্যেক আমল করত। আবু বকরের ব্যাপারে নবীমার আশা অবশ্যই সত্যে পরিণত হবে। ইবনে আব্বাস (রা)-এর হাদিসে এসেছে, আবু বকরকে প্রত্যেক দরজা থেকে ডাকা হবে, বরং জান্নাতের প্রত্যেক গলি ও ঘর থেকে ডাকা হবে। (সহীহ ইবন হিব্বান-৬৮৬৭, ইবন আব্বাসের হাদিসে দুর্বলতা রয়েছে, কিন্তু হায়সামি তাকে শক্তিশালী বলেছেন, মাজমাউয যাওয়ায়েদ-৯/৪৬)


৬. হাদীস থেকে বুঝে আসে, যাদেরকে সব দরজা থেকে ডাকা হবে, তাদের সংখ্যা খুব কম। (ফাতহুল বারি-৭/২৮)


৭ হাদীস থেকে আরাে বুঝে আসে যে, এখানে উদ্দেশ্য নফল আমল, ওয়াজিব নয়, কারণ ওয়াজিব আদায়কারীর সংখ্যা প্রচুর হবে, তবে তাদের সংখ্যা খুব কম হবে, যাদের আমলনামায় অধিকহারে সবপ্রকার আমল থাকবে এবং যাদেরকে জান্নাতের সব দরজা থেকে ডাকা হবে। (ফাতহুল বারি : ৭/২৮-২৯)


৮. সামনে মানুষের প্রশংসা করা বৈধ, যদি তার ওপর গর্ব ইত্যাদির আশঙ্কা না থাকে। (শারহুন নবী আলা মুসলিম-৭/১১৭)


আরো পড়ুন- ঋতুবতী নারীর রােযা ভাঙ্গা ও কাযা করা

৯. যে সব আমল করে ও নিয়মিত করে, তাকে জান্নাতের সব দরজা থেকে ডাকা হবে, এটা তার প্রতি সম্মান ও ইজ্জত প্রদর্শন স্বরূপ, তবে সে প্রবেশ করবে এক দরজা দিয়ে।


১০, সাধারণত প্রত্যেক প্রকার নেক আমলের তওফিক একজন মানুষের হয় না, যার এক আমলের তাওফিক হয়, তার থেকে অপর আমল ছুটে যায়, এটাই স্বাভাবিক। খুব কম লােকের তওফিক হয় প্রত্যেক প্রকার আমল করা, আর সে কমের অন্তর্ভুক্ত আবু বকর। (আত-তামহিদ-৭/১৮৪-১৮৫)


১১. যার যে আমল বেশি, সে আমল দ্বারা সে প্রসিদ্ধি লাভ করে ও সে আমলের সাথে তাকে সম্পৃক্ত করা হয়, দেখুন নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর বাণী: “যে সালাত আদায়কারীদের দলভুক্ত হবে।” তার উদ্দেশ্য যার যে আমল বেশি, তাকে সে আমল দ্বারা ডাকা হবে, কারণ সব মুসলিম সালাত আদায় করে। (আত-তামহিদ-৭/১৮৫)




মন্তব্য