সিয়াম

তারাবির রাকায়াত সংখ্যা

Alorpath 1 month ago Views:1437

রাতের সালাতে কিরাত, রুকু ও সেজদা দীর্ঘ করা নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সুন্নাত, ছােট কিরাতে অধিক রাকাতের চেয়ে দীর্ঘ কিরাতে এগারাে রাকায়াত অধিক উত্তম।


আয়েশা (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন : “রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রমযান কিংবা গায়রে রমযানে এগারাে রাকায়াতের বেশি সালাত আদায় করতেন না। তিনি চার রাকায়াত সালাত আদায় করতেন, তার সৌন্দর্য ও দীর্ঘকরণ সম্পর্কে তােমাকে কি বলব! অতঃপর তিনি চার রাকায়াত পড়তেন, তার সৌন্দর্য ও দীর্ঘকরণ সম্পর্কে তােমাকে কি বলব! অতঃপর তিনি তিন রাকাত আদায় করতেন।

আয়েশা (রা) বলেন : আমি বললাম: হে আল্লাহ রাসূল! আপনি বেতর পড়ার আগে ঘুমান, তিনি বললেন : হে আয়েশা (রা) আমার দু'চোখ ঘুমায় কিন্তু আমার অন্তর ঘুমায় না।” (বুখারী-১০৯৬, মুসলিম-৭৩৮)

অপর বর্ণনায় আছে : নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রাতে তেরাে রাকায়াত সালাত আদায় করতেন, তার মধ্যে বেতর ও ফজরের দু'রাকাত বিদ্যমান।” (বুখারী-১০৮৯, মুসলিম-৭৩৮)



মাসরুক (র) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন : আমি আয়েশা (রা)-কে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর রাতের সালাত সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছি, তিনি বলেন : সাত রাকায়াত, নয় রাকায়াত ও এগারাে রাকায়াত, ফজরের দু'রাকায়াত ব্যতীত।”(বুখারী-১০৮৮)

ইবনে আব্বাস (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন : নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রাতে তের রাকায়াত সালাত আদায় করতেন”। (বুখারী-১০৮৭, মুসলিম-৭৬৪)

আব্দুর রহমান ইবনে হুরমু আল-আ'রাজ (র) বলেন : “আমি লােকদের দেখেছি তারা রমযানে কাফেরদের ওপর লানত করত । তিনি বলেন, কোনাে কোনাে ইমাম আট রাকায়াতে সূরা বাকারা খতম করতেন, আর যখন সূরা বাকারা দ্বারা বারাে রাকায়াত পড়তেন, তখন লােকেরা মনে করত যে তিনি হাল্কা করেছেন।” (মুয়াত্তা মালেক-১/১১৫, আব্দুর রায্যাক-৭৭৩৪, বায়হাকি-২/৪৯৭, তার সনদ সহীহ, আব্দুর রহমান ইবনে হুরমু প্রখ্যাত তাবেঈ, তিনি এ বর্ণনায়
মদিনাবাসীদের আমল বর্ণনা করছেন।
(দেখুন তার জীবনী: সিয়ারে আলামিন নুবালা-৫/৬৯)

শিক্ষা ও মাসায়েল ১০টি

১. নবী করীম -এর রাতের সালাত রমযান ও গায়রে রমযানে সমান ছিল (আল-ইন্তেকার-২/৯৮)

২ নবীদের চোখ ঘুমায়, কিন্তু তাদের অন্তর ঘুমায় না, এ জন্য তাদের স্বপ্ন সত্য, এটা নবীদের বৈশিষ্ট্য। (আল-ইস্তেকার-২/১০১, শারহুন নববী-৬/২১)

৩. সকল আলেম একমত যে, রমযান ও গায়রে রমযানে রাতের সালাত সুন্নাত, এতে কোনাে পরিমাণ নির্দিষ্ট নেই, যার ইচ্ছা কিয়াম লম্বা করে রাকায়াত সংখ্যা কমাবে, যার ইচ্ছা কিয়াম সংক্ষেপ করে রাকায়াত সংখ্যা বৃদ্ধি করবে। (আল-ইস্তেকার-২/১০২, তামহিদ-২১/৭০)

8. রাতের সালাতে কিরাত, রুকু ও সেজদা দীর্ঘ করা নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সুন্নাত, ছােট কিরাতে অধিক রাকাতের চেয়ে দীর্ঘ কিরাতে এগারাে রাকায়াত অধিক উত্তম। (মাজমুউল ফাতাওয়া শায়খুল ইসলাম-২৩/৬৯-৭২)

৫. নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কখনাে এগারাে রাকায়াতের অধিক তেরাে রাকায়াত পড়েছেন, কখনাে তিনি এগারাে রাকায়াতের কম সাত বা নয় রাকায়াত পড়েছেন, যেমন অন্যান্য হাদীস দ্বারা প্রমাণিত, তবে আয়েশা (রা) নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সচরাচর সালাতের বর্ণনা করেছেন, অর্থাৎ এগারাে রাকায়াত নিয়মিত পড়া (দেখুন: ফাতাওয়া-৯৩৫৩, ফাতাওয়া লাজনা দায়েমাহ। ফাতহুল বারি লি ইবনে হাজার-৩/২০, শারহুন নববী-৬/১৮, সুবুলুস সালাম-২১৩)

৬. নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রত্যেক দু'রাকাতের পর সালাম ফিরাতেন, একসাথে চার রাকায়াত বা তার অধিক পড়া নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সচরাচর আমল ও সুন্নাত পরিপন্থী। দলিল আয়েশা (রা) বর্ণনা করেন : “নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রত্যেক দু'রাকায়াতের পর সালাম ফিরাতেন, এক রাকায়াত দ্বারা বেতর পড়তেন” (মুসলিম-৭৩৬) নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন : “রাতের সালাত দু'রাকাত, দু'রাকায়াত।” (বুখারী-৯৪৬, মুসলিম-৭৪৯) এটা বেতর ব্যতীত । অতএব মুসলিম তিন অথবা পাঁচ রাকাত দ্বারা বেতর পড়বে, তবে শেষ রাকায়াত ব্যতীত বসবে না, যেমন আয়েশা (রা)-এর হাদিসে এসেছে; “রাসূলুল্লাহর রাতে তেরাে রাকায়াত সালাত পড়তেন, তন্মধ্যে পাঁচ রাকাত দ্বারা বেতর পড়তেন, শেষ রাকায়াত ব্যতীত বসতেন”। (মুসলিম-৭৩৭)

আরো পড়ুন- রোযাদারের জন্য জান্নাতের দরজা নির্ধারিত।


৭ সাহাবায়ে কেরাম ও তাদের পরবর্তী তাবেয়িগণ মদিনায় সালাতে তারাবিহ খুব দীর্ঘ করতেন, যেমন বিশিষ্ট তাবেয়ি আব্দুর রহমান ইবনে হুরমুয (র) উল্লেখ করেছেন।

৮. সালাতে তারাবির ‘দোআয়ে কুনূতে’ কাফেরদের জন্য বদদো'আ ও তাদের ওপর লানত করা বৈধ। তারা আমাদের চুক্তির অধীনে থাক বা না থাক, কুফরের কারণে তারা লানতের উপযুক্ত, তবে এটা ওয়াজিব নয়। নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সুন্নাত হচ্ছে যুদ্ধবাজ কাফেরদের জন্য ধ্বংস ও শাস্তির বদদো'আ করা। যাদের ইসলাম গ্রহণ করার সম্ভাবনা রয়েছে তাদের জন্য হিদায়েত লাভের দো'আ করা। (আল-ইন্তেকার-২/৭৩, ইমাম বুখারী এ সংক্রান্ত-৫৮, ৯৮, ৫৯ ও ১০০ নং বাব/অধ্যায় সমূহ রচনা করেছেন।)

৯, মদিনায় সাহাবায়ে কেরাম ও তাবেয়িদের রমযানের ‘দো'আয়ে কুনূত’ নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এমন কুনূতে নাযেলা' থেকে গৃহীত, যে কুনূতে নাযেলা তিনি রা'ল, যাকওয়ান, বনু লিহইয়ান ও উসাইয়্যাহ সম্প্রদায়ের ওপর করেছেন, যারা কুরআনের কারীদের হত্যা করেছে। (আল-ইন্তেকার-২/৭৩) মদিনাবাসী রমযানের শেষার্ধ থেকে শেষ পর্যন্ত এ বদদোআ করতেন।

১০. মদিনার সাহাবিদের আমল থেকে জুমার দ্বিতীয় খুতবায় কাফেরদের ওপর বদদো'আ করার সুন্নাত গৃহীত। হাফেয ইবনে আব্দুল বার (র) এ সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করে বলেছেন: আ'আজ সাহাবায়ে কেরাম ও তাবেয়ীদের বড় এক জামায়াতে সাক্ষাৎ পেয়েছেন, এটা মদিনার আমল ছিল। (আল- ইস্তযকার ২/৭৫)



মন্তব্য