সিয়াম

চন্দ্রমাস নির্ধারিত হয় যেভাবে।

Alorpath 1 month ago Views:303

মাস এরূপ, এরূপ ও এরূপ। দু'বার উভয় হাতের পুরাে আঙ্গুল দ্বারা ইশারা করলেন, তৃতীয় বার ডান বা বাম হাতের বৃদ্ধাঙ্গুলি কম দেখালেন।


ইবন ওমর (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন :নবী করীম বলেছেন: “মাস এরূপ, এরূপ ও এরূপ। অর্থাৎ ত্রিশ দিন। অতঃপর তিনি বলেন : এরূপ, এরূপ ও এরূপ। অর্থাৎ ঊনত্রিশ দিন। তিনি বলেন ; কখনাে ত্রিশ দিন, কখনাে ঊনত্রিশ দিন।” (বুখারি ও মুসলিম) বুখারির অপর বর্ণনায় আছে, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন:“আমরা উম্মী উম্মত, লেখা ও হিসাব জানি না, মাস হচ্ছে এরূপ ও এরূপ । অর্থাৎ কখনাে উনত্রিশ কখনাে ত্রিশ।”

মুসলিমের অপর বর্ণনায় আছে: “মাস এরূপ, এরূপ ও এরূপ। দু'বার উভয় হাতের পুরাে আঙ্গুল দ্বারা ইশারা করলেন, তৃতীয় বার ডান বা বাম হাতের বৃদ্ধাঙ্গুলি কম দেখালেন।”

মুসলিমের অপর বর্ণনায় আছে : ইবন ওমর (রা) এক ব্যক্তিকে বলতে শুনেন; “আজকের রাত মাসের অর্ধেক। তিনি তাকে বললেন : কিভাবে বললে আজকের রাতটি মাসের অর্ধেক? আমি রাসূলুল্লাহ-কে বলতে শুনেছি : মাস এরূপ ও এরূপ, তিনি দু'বার হাতের দশ আঙ্গুল দ্বারা ইশারা করেন, তৃতীয়বার এভাবে ইশারা করেন, তিনি সব আঙ্গুল দ্বারা ইশারা করেন, শুধু তার বৃদ্ধাঙ্গুলি বদ্ধ রাখেন।” (বুখারী-৪৯৯৬, মুসলিম-১০৮০, দ্বিতীয় বর্ণনা বুখারীর-১৮১৪, তৃতীয় ও চতুর্থ বর্ণনা মুসলিমের-১০৮০)


সাদ ইবন আবি ওয়াক্কাস (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: “রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু সাল্লাম একহাত দ্বারা অপর হাতের ওপর আঘাত করলেন, অতঃপর বলেন: “মাস এরূপ ও এরূপ, অতঃপর তৃতীয়বার এক আঙ্গুল কম দেখান।” (মুসলিম- ১০৮৬, নাসায়ি- ৪/১৩৮)
ইবন আব্বাস (রা) নবীনি থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেছেন: “জিবরাঈল (আ) আমার নিকট এসে বলেন, মাস উনত্রিশ দিন।” (নাসায়ি-৪/১৩৮, আলবানি সহীহ নাসায়িতে হাদীসটি সহীহ বলেছেন)

ইবন মাসউদ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: “নবী করীম -এর সাথে আমরা অধিক সময় ঊনত্রিশ দিন রােযা পালন করেছি, ত্রিশ দিনের তুলনায়।” (আবু দাউদ-৩৩২২, তিরমিযী-৬৮৯, আহমদ-১/৩৯৭, বায়হাকি-৪/২৫০, আলবানি সহীহ আবু দাউদে হাদীসটি সহীহ বলেছেন।)

ইমাম তিরমিযী বলেন: ইবনে ওমর, আবু হুরায়রা, আয়েশা, সাদ ইবনে আবি ওয়াক্কাস, ইবনে আব্বাস, ইবনে ওমর, আনাস, জাবের, উম্মে সালামা ও আবু বাকরা থেকে হাদীস বর্ণিত আছে যে, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “মাস হয় ঊনত্রিশ দিনে।” (জামে তিরমিযী-৩/৭৩)

শিক্ষা ও মাসায়েল ১২টি:

১. চন্দ্র মাস, শরিয়তের বিধান যার ওপর নির্ভরশীল, তা কখনাে ত্রিশ, আবার কখনাে উনত্রিশ দিনের হয়।

২. মাস যখন অসম্পূর্ণ হয়, সওয়াব পরিপূর্ণ হয়। ইবন মাসউদ (রা) সংবাদ দিয়েছেন: তারা নবী এর সাথে অধিক সময় ঊনত্রিশ রােযা পালন করেছেন, ত্রিশ দিনের তুলনায়।

৩. এ হাদীস জ্যোতিষ্ক ও গণকদের প্রত্যাখ্যান করে। এ হাদীস আরাে প্রমাণ করে যে, শরয়ি বিধান রােযা, ঈদুল ফিতর ও হজ্ব ইত্যাদি চাঁদ দেখার ওপর নির্ভরশীল, গণনার ওপর নয় ।

8. ইশারা ব্যবহার করা বৈধ, বরং এটা শিক্ষা ও ব্যাখ্যার একটি মাধ্যম। (ফাতহুল বারি-৪/১২৭)

৫. দুই মাস, তিন মাস ও চার মাস পর্যায়ক্রমে ঊনত্রিশে মাস হতে পারে, তবে চার মাসের বেশি লাগাতার ঊনত্রিশ দিনে মাস হয় না। (শারহুন নববী আলাল মুসলিম-৭/১৯১)

৬. এ উম্মত উম্মী, কারণ এদের মধ্যে শিক্ষার হার কম, অনুরূপ তাদের নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ছিলেন উম্মী, যেমন আল্লাহ তা'আলা ইরশাদ করেন: “তিনিই উম্মীদের মাঝে একজন রাসূল পাঠিয়েছেন তাদের মধ্য থেকে।” (সূরা জুমা-২)

অন্যত্র তিনি ইরশাদ করেন: “আর তুমি তাে এর পূর্বে কোনাে কিতাব তিলাওয়াত করনি এবং তােমার নিজের হাতে তা লিখনি যে বাতিলপন্থীরা এতে সন্দেহ পােষণ করবে।” (সূরা আনকাবুত-৪৮)

এ উম্মতের ওপর আল্লাহর মহান নিয়ামত যে, তিনি তাদেরকে এ মহান দ্বীন দান করেছেন। তারা অপর থেকে এ কিতাব গ্রহণ করেনি, বরং তারা রাসূলের মাধ্যমে আল্লাহর পক্ষ থেকে গ্রহণ করেছে। (উমদাতুল কারি-১০/২৮৬)

৭, এ উম্মত নিজেদের ইবাদত ও ইবাদতের সময় নির্ধারণে শিক্ষা ও গণকদের মুখাপেক্ষী নয়, কারণ শরিয়ত তা ধার্য করেছে দেখার ওপর, যা সবার নিকট সমান। (তাফসির ইবন কাসির-৯১/১১৭)

৮, আমাদেরকে রােযা, সালাত ও অন্যান্য ইবাদত সম্পাদনে শিক্ষা ও গণকের মুখাপেক্ষী হতে বলা হয়নি, তার নির্দেশ দেয়া হয়নি, বরং আমাদের ইবাদতের সম্পর্ক প্রকাশ্য নিদর্শনের সাথে, যেখানে শিক্ষিত-অশিক্ষিত সবাই সমান। (শারহু ইবন বাত্তাল আলাল বুখারী-৪/৩১-৩২, আল-মুফহিম-৩/১৩৯, উমদাতুল কারি-১০/২৮৭)

৯. যে একমাস রােযা পালন করার মানত বা কসম করল, যেমন রজব বা শাবান, অতঃপর যখন রােযা আরম্ভ করল, মাস ঊনত্রিশে শেষ হলাে, তাহলে সে মানত বা কসম পূর্ণ করল । (মাআলিমুস সুনান আলা হামিশি আবু দাউদ-২/৭৪০)

১০. কেউ যদি মানত করে অথবা কসম করে একমাস রােযা পালন করবে, কিন্তু সে নির্দিষ্ট করেনি, সে যদি উনত্রিশ দিন রােযা পালন করে, ইনশাআল্লাহ যথেষ্ট হবে, কারণ মাস সাধারণত এরূপ হয়। (আল-মুফহিম- ৩/১৩৮,

খাত্তাবি মাআলিমুস সুনানে-২/৭৪০, উল্লেখ করেছেন, তার ত্রিশ দিন পুরাে করতে হবে, তবে আমার নিকট কুরতুবির অভিমত অধিক বিশুদ্ধ মনে হয়। তিনি কেন ত্রিশ বললেন সেটা আমার নিকট স্পষ্ট নয়, অথচ মাস হয় ঊনত্রিশ দিনে।)

১১. সন্দেহের দিন শাবানের মধ্যে গণ্য, তাকে রমযান গণ্য করা ঠিক নয়, কারণ নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও চাঁদ দেখার সাথে রমযান সম্পৃক্ত করেছেন (আল-মুফহিম-৩/১৪০)


১২. হাদীস থেকে বুঝা যায়, চাঁদের জায়গা নির্ধারণের জন্য আধুনিক যন্ত্র যেমন দূরবীন ইত্যাদির সাহায্য নেয়া দোষের নেই, চাঁদ দেখার সুবিধার্থে। এটা হাদীসে নিষিদ্ধ গণনার অন্তর্ভুক্ত নয়, তবে চোখে দেখা অধিক গ্রহণযােগ্য। (শায়খ ইবন বায (রহ.) কে দূরবীন দ্বারা দেখা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল, তিনি বলেন, এটা ব্যবহার করা দোষের নয়, কারণ এটাও দেখার অন্তর্ভুক্ত, গণনার অন্তর্ভুক্ত নয়। মাজমু ফাতাওয়া ও রাসায়েল-১৫/৬৯-৭০)



মন্তব্য