সিয়াম

ঈদের বিধান।

Alorpath 1 month ago Views:247

আল্লাহ তােমাদের এ দিন দু'টির পরিবর্তে আরাে উত্তম দুটি দিন দান করেছেন ঈদুল আযহা ও ঈদুল ফিতর।


আনাস (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন : রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন মদীনায় আগমন করেন, তখন সেখানে দুটি দিন ছিল, সেদিন দুটিতে তারা আনন্দ-ফুর্তি করত। তিনি বললেন: এ দুটি দিন কি? তারা বলল: আমরা জাহেলি যুগে এতে আনন্দ-ফুর্তি করতাম। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন: আল্লাহ তােমাদের এ দিন দু'টির পরিবর্তে আরাে উত্তম দুটি দিন দান করেছেন ঈদুল আযহা ও ঈদুল ফিতর।

আবু উবাইদ মাওলা ইবনে আযহার বলেন: আমি ওমর ইবনে খাত্তাবের সাথে ঈদে করেছি, তিনি বলেন: এ দুটি দিনে রাসূলুল্লাহ সিয়াম নিষেধ করেছেন: রমযানের সিয়াম শেষে তােমাদের ঈদুল ফিতরের দিন। দ্বিতীয় দিন হচ্ছে ঈদুল আযহার, সেদিন তােমরা তােমাদের কুরবানি থেকে খাবে।

আবু সাঈদ খুদরী (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঈদুল ফিতর ও কুরবানির ঈদের সওম পালন নিষেধ করেছেন।
ইবনে আব্বাস (রা) থেকে বর্ণিত, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঈদুল ফিতর দিনে বের হন, অত:পর দুই রাকায়াত সালাত আদায় করেন, পরস্পর কোন সালাত আদায় করেননি।


উম্মে আতিয়্যাহ (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন : আমাদেরকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নির্দেশ দিয়েছেন, আমরা যেমন যুবতী, ঋতুবতী ও কিশােরীদের নিয়ে ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আযহাতে যাই, তবে ঋতুবতীরা সালাত থেকে দূরে থাকবে, তারা দোআ ও কল্যাণে অংশগ্রহণ করবে।

শিক্ষা ও মাসায়েল ১৫টি

১. আল্লাহ তা'আলা ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আযহা দান করে এ উম্মতের ওপর অনুগ্রহ করেছেন। মুসলিম উম্মাহকে তিনি এর মাধ্যমে জাহেলি ঈদ ও উৎসব থেকে মুক্ত করেছেন।

২. আমাদের দুটি ঈদ কাফেরদের ঈদ ও উৎসব থেকে বিভিন্ন কারণে আলাদা ও বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত।

৩. আমাদের ঈদ চাঁদ দেখার ওপর নির্ভরশীল, গণনার ওপর নয়, যেমন কাফেরদের উৎসবগুলাে গণনার ওপর নির্ভরশীল।

৪. আমাদের দুটি ঈদ মহান ইবাদত ও ইসলামের ঐতিহ্যের সাথে সম্পৃক্ত, যেমন- সিয়াম, ঈদুল ফিতর, হজ্ব ও কুরবানি।

৫. দুই ঈদে সম্পাদিত কাজগুলাে ইবাদত, যা বান্দাকে আল্লাহর নৈকট্য দান করে, যেমন তাকবীর, সালাতুল ঈদ ও খুতবা ইত্যাদি, কাফেরদের ঈদ ও উৎসবের বিপরীত, যেখানে কুফর ও গােমরাহীর প্রদর্শন হয়, বিভিন্ন প্রবৃত্তি ও শয়তানি কর্মকাণ্ড সংঘটিত হয়।

৬. দুই ঈদের দিনে অনুগ্রহ, দয়া ও পরস্পর দায়িত্বশীলতার বহিঃপ্রকাশ ঘটে, যেমন- সদকাতুল ফিতর ও কুরবানি-

ক) আমাদের দুটি ঈদ ভ্রান্ত আকিদা ও কুসংস্কারের সাথে সম্পৃক্ত নয়, যেমন: নববর্ষ, নক্ষত্রের জন্ম-মৃত্যু, কারাে স্মরণ, কোন ব্যক্তির মর্যাদা অথবা সাম্প্রদায়িকতা ও জাতীয়তার সাথে সম্পৃক্ত নয়, বরং এ ঈদ দুটি একমাত্র আল্লাহ তা'আলার জন্য ।

খ) আমাদের ওপর ওয়াজিব হচ্ছে এসব নিয়ামতের মােকাবিলায় আল্লাহ তা'আলার শােকর আদায় করা, তার নির্দেশ পালন করা ও তাঁর নিষেধ থেকে বিরত থাকা, ঈদ, খুশি ও আনন্দের দিনে।

গ) ঈদের দিন আল্লাহর নিয়ামতের না-শােকরি হচ্ছে ফরয ত্যাগ করা, নারীদের পােশাক-আশাকে শিথীলতা অবলম্বন করা ও পুরুষদের সাথে মেলামেশা করা। পােশাক-আশাক, পানাহার ও অনুষ্ঠানে অপচয় ও গান বাদ্য করা।

ঘ) ঈদের দিন সুন্নাত হচ্ছে ঈদের সালাতের জন্য গােসল করা ও সুন্দর পােশাক পরিধান করা। আমাদের সালাফে সালেহীন বা পূর্ব পুরুষগণ অনুরূপ করতেন। 

ঙ) ঈদুল ফিতরের দিন ঈদগাহে যাওয়ার পূর্বে সকালে খেজুর খাওয়া সুন্নাত, কারণ নবীর অনুরূপ করেছেন। আল্লাহর নির্দেশ পালনার্থে ঈদের দিন দ্রুত পানাহার করা সুন্নাত।

চ) ঈদের সালাতে বাচ্চা ও নারীদের যাওয়া সুন্নাত, তারা সালাতে উপস্থিত হবে ও মুসলিমদের দো'আয় অংশগ্রহণ করবে। ঋতুবতী নারীরা সালাতের স্থান থেকে দূরে থাকবে, তারা শুধু খুতবা ও দো'আয় অংশগ্রহণ করবে।

৭. ঈদের সালাতে হেঁটে যাওয়া সুন্নাত, অনুরূপ এক রাস্তা দিয়ে যাওয়া ও অপর রাস্তা দিয়ে ফিরে আসা, যেমন নবী থেকে প্রমাণিত।

৮. সালাত শেষে খুতবা শ্রবণ করা ও দো‘আয় আমীন বলার জন্য সালাতেরস্থানে বসে থাকা উত্তম। নবী ঋতুবতী নারীদের ব্যাপারে বলেছেন: “তারা কল্যাণ ও মুসলিমদের দো'আয় অংশগ্রহণ করবে।

৯. ঈদের সালাতে পূর্বাপর সালাত নেই, কিন্তু মুসলিম যখন মুসল্লা অথবা মসজিদে প্রবেশ করে, সে দুই রাকাত সালাতের ব্যাপারে আদিষ্ট, নিষিদ্ধ সময়ে পর্যন্ত। কারণ দুখুলুল মসজিদ মসজিদে প্রবেশের কারণে জরুরি হয়, যা নিষিদ্ধ সময়ে আদায় করা বৈধ।

১০. ইমাম সাহেবের অপেক্ষার সময়ে তাকবীরে লিপ্ত থাকা উত্তম, কারণ এটা
ইবাদতের সময়, এ মুহূর্তে সে কুরআন তিলাওয়াত বা নফল সালাত আদায় করতে পারে, যদি নিষিদ্ধ সময় না হয়, তবে তাকবীরে মশগুল থাকা উত্তম।

১১. যদি লােকেরা সূর্য ঢলার পূর্বে ঈদ সম্পর্কে জানতে না পারে, তাহলে পরদিন সালাত আদায় করবে। যদি কেউ ঈদের সালাতে ইমামের তাশাহুদে অংশগ্রহণ করে, সে তার সাথে বসে যাবে, অতঃপর দু'রাকাত কাযা করবে ও তাতে তাকবীর পড়বে।

১২. ঈদের সালাত ছুটে গেলে বিশুদ্ধ অভিমত অনুযায়ী তার কাযা নেই, কারণ ঈদের সালাত কাযা করার কোন দলিল নেই।

১৩. ঈদের দিন আনন্দ করা বৈধ, যদি সীমালঙ্ঘন অথবা ওয়াজিব বিনষ্ট না হয়। মুসলিমদের উচিত ঈদের দিন পরিবারে সচ্ছলতার ব্যবস্থা করা, কারণ ঈদের দিন আনন্দ করা দ্বীনের একটি অংশ।

১৪. ঈদের দিন খাবারে অনেক লোক একত্র হওয়া ভালাে, কারণ এতে ঈদের বৈশিষ্ট্য প্রকাশ পায়, পরস্পর ভ্রাতৃত্ব বন্ধন দৃঢ় হয় ও মুসলিমদের জমায়েত হয়।


১৫. ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময়ে কোনাে সমস্যা নেই, আমাদের পূর্বপুরুষ থেকে বর্ণিত, ঈদের দিন সাক্ষাতের সময় তারা পরস্পরকে শুভেচ্ছা বিনিময়করতেন। তারা বলতেন: “আল্লাহ আমাদের থেকে ও আপনাদের থেকে কবুল করুন। তবে শুভেচ্ছার শব্দ দেশ ও অঞ্চল অথবা সময়ের ব্যবধানে ভিন্ন ভিন্ন হতে পারে, যদি হারাম শব্দ অথবা কাফেরদের সাথে সামঞ্জস্য না হয়, যেমন তাদের হারাম উৎসবে ব্যবহৃত শুভেচ্ছা পদ্ধতি গ্রহণ করা।



মন্তব্য