সিয়াম

শাওয়াল মাসের ছয় রােযার ফযীলত।

Alorpath 4 weeks ago Views:331

রমযানের রােযা দশ মাসের সমতুল্য, ছয়দিনের সিয়াম দুই মাসের সমতুল্য, এটাই পূর্ণ বছরের সিয়াম।


আবু আইয়ুব আনসারি (রা) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন : “সে রমযানের রােযা পালন করল, অতঃপর তার অনুগামী করল শাওয়ালের ছয়টি, তা পুরাে বছর রােযার ন্যায়।” (মুসলিম-১১৬৪)

সাওবান (রা) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “রমযানের রােযা দশ মাসের সমতুল্য, ছয়দিনের সিয়াম দুই মাসের সমতুল্য, এটাই পূর্ণ বছরের সিয়াম।” অপর বর্ণনায় রয়েছে: “যে ঈদুল ফিতরের পর ছয়দিন রােযা পালন করবে, তা পূর্ণ বছরে পরিণত হবে। আল্লাহ তা'আলা বলেন: “যে সৎকাজ নিয়ে এসেছে, তার জন্য হবে তার দশ গুণ।” (সূরা আন-আম-১৬০, সূরা আনআম-১৬০, আহমদ-৫/২৮০, ইবন মাজাহ-১৭১৫, দারামি-১৭৫৫, নাসায়ি ফিল কুবরা-২৮৬০, সহীহ ইবন খুযাইমাহ-২১১৫৪ সহীহ ইবন হিব্বান-৩৬৩৫)


শিক্ষা ও মাসায়েল ১১টি

১, শাওয়ালের ছয় রােযার ফযীলত প্রমাণিত হয়। প্রতি বছর রমযানের রােযার সাথে যে শাওয়ালের ছয় রােযা পালন করল, সে সারা বছর রােযা রাখল।

২. বান্দার ওপর আল্লাহর অশেষ রহমত, তিনি বান্দার অল্প আমলের বিনিময়ে অনেক সওয়াব ও বিরাট প্রতিদান প্রদান করেন।

৩. ঈদের পর দ্রুত শাওয়ালের ছয় রােযা পালন করা, যেন এ রােযা ছুটে না যায়, কিংবা কোনাে ব্যস্ততা এসে না পড়ে।

৪. শাওয়ালের শুরু, শেষ বা মাঝে, এক সঙ্গে বা পৃথকভাবে এ রােযা রাখা বৈধ। বান্দা যেভাবে তা সম্পাদন করুক, সে আল্লাহর নিকট এর পূর্ণ সওয়াব লাভ করবে, যদি আল্লাহ তা কবুল করেন। (ইবন কুদামার মুগনি-৪/৪৪০, শারহুন নববী আলা মুসলিম-৮৫৬)

৫. যার ওপর রমযানের কাযা রয়েছে, সে প্রথমে কাযা আদায় করবে, অতঃপর শাওয়ালের ছয় রােযা আদায় করবে। হাদীসের বাণী থেকে এমন বুঝে আসে, কারণ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “যে রমযানের রােযা রাখল” অর্থাৎপূর্ণ রমযান। যার ওপর কাযা রয়েছে, সে পূর্ণ রমযান রােযা রাখেনি। তার ওপর পূর্ণ রমযান রােযা রাখা প্রয়ােগ হয় না, যতক্ষণ না সে কাযা করে। (শারহুল মুমতি-৬/৪৬৬) দ্বিতীয়ত নফল ইবাদতের চেয়ে ওয়াজিব কাযা আদায় করা শ্রেয়।

৬. আল্লাহ তাআলা ফরযের আগে নফলের বিধান রেখেছেন, যেমন নফলের বিধান রেখেছেন ফরযের পর । যেমন পাঁচ ওয়াক্ত সালাতের পূর্বাপর সুন্নাত রয়েছে, অনুরূপ রমযানের সিয়ামের পূর্বাপর রােযা রয়েছে। অর্থাৎ শাবান ও শাওয়ালের রােযা।


৭. এসব নফল ইবাদত ফরযের মধ্যে ঘটে যাওয়া ক্রটিসমূহ দূর করে। কারণ এমন রােযাদার নেই যে অযথা বাক্যালাপ, কুদৃষ্টি ও হারাম খাবার ইত্যাদি দ্বারা তার রােযার ইতি করেনি।



মন্তব্য