মনীষীদের জীবনী

ইমাম মাহদীর আবির্ভাব। পর্ব -১

Alorpath 3 weeks ago Views:390

পৃথিবীর জীবন সায়াহ্নে যদি একটি মাত্র দিন অবশিষ্ট থাকে, তবে সে-ই দিনটিকে আল্লাহ দীর্ঘ করে আমার পরিবারস্থ একজন ব্যক্তিকে প্রেরণ করে ছাড়বেন, তার নাম আমার নাম এবং তার পিতার নাম আমার পিতার নাম সদৃশ হবে।


শেষ জমানায় ফেতনার আধিক্য ঘটবে, অন্যায়-অত্যাচার মানুষের স্বভাবে পরিণত হবে, দুর্বল সবলকে গ্রাস করে নেবে, সমাজে অনিষ্ট ব্যক্তিদের কর্তৃত্ব থাকবে। এতদসত্তেও মুমিনগণ প্রভাতের নতুন রবির আশায় বুক বেঁধে থাকবেন, যা জুলুম-অত্যাচারের সকল আঁধারকে ভেদ করে প্রতিটি মুসলিমের ঘরে গিয়ে পৌঁছবে। মুহাম্মদ বিন আব্দুল্লাহ (ইমাম মাহদী)র মাধ্যমে আল্লাহ পাক মুসলমানদের একতাকে পুনরায় ফিরিয়ে দেবেন। আবারাে মুসলমান এক কালেমার পতাকা তলে জড়াে হয়ে বিশ্বশক্তির বিরুদ্ধে যুদ্ধে বিজয়ী হবে।বিশ্বজুড়ে ইসলামের জয়গান বেজে উঠবে।

? কে সে মাহদী?
? প্রকাশের নেপথ্যে কি?
? কোথায় আত্মপ্রকাশ করবেন?
? তবে কি জন্ম হয়ে গেছে?
? তিনি কি করবেন
?কারা তাঁর সহযােগী
?ইমাম মাহদী-”



 নামটি শুনার সাথে সাথে এ রকম হাজারটা প্রশ্ন মাথায় ঘুরতে থাকে। নিম্নে খুব-ই সংক্ষিপ্ত আকারে এগুলাে নিয়ে আলােচনা করা হলঃ

নাম ও পরিচিতিঃ
মুহাম্মদ বিন আব্দুল্লাহ আল-হাসানী। বংশ পরম্পরা হাসান বিন আলী রা. পর্যন্ত পৌঁছবে।
ইবনে মাসউদ রা. থেকে বর্ণিত, নবী করীম সা. বলেন- “পৃথিবীর জীবন সায়াহ্নে যদি একটি মাত্র দিন অবশিষ্ট থাকে, তবে সে-ই দিনটিকে আল্লাহ দীর্ঘ করে আমার পরিবারস্থ একজন ব্যক্তিকে প্রেরণ করে ছাড়বেন, তার নাম আমার নাম এবং তার পিতার নাম আমার পিতার নাম সদৃশ হবে।” (তিরমিযী, আবু দাউদ)

প্রকাশের নেপথ্যঃ
শেষ জমানায় সংঘাত যখন ব্যাপক আকার ধারণ করবে, অবিচার যখন স্বভাবে রূপান্তরিত হবে, ন্যায় নিষ্ঠা সােনার হরিণে পরিণত হবে, মুসলিম সমাজে অশ্লীলতা, বেহায়াপনা, ভ্যবিচার ও পাপাচার ছেয়ে যাবে, ঠিক তখন-ই আল্লাহ পাক একজন সৎ নিষ্ঠাবান ব্যক্তির আবির্ভাব ঘটাবেন। তাঁর হাতে আল্লাহ উম্মতে মুহাম্মদীকে পুনর্সংশােধন করবেন। আহলে সুন্নাত মুসলমানদের কাছে তিনি ইমাম মাহদী নামে পরিচিত হবেন। 
ইসলামের জন্য আত্মোৎসর্গকারী একদল নিষ্ঠাবান মর্দে-মুজাহিদ তাঁর সহযােগী হবেন। শত্রুদের বিরুদ্ধে একাধিক যুদ্ধে তিনি মুমিন মুজাহিদীনের নেতৃত্ব দেবেন। বিশ্ব মুসলিমের একক সেনাপতি রূপে তিনি প্রসিদ্ধ হবেন।

বৈশিষ্ট্যঃ
আবু সাঈদ রা. থেকে বর্ণিত, নবী করীম সা. বলেন- “মাহদী আমার বংশধর। উজ্জ্বল ললাট ও নত নাসিকা বিশিষ্ট। ন্যায় নিষ্ঠায় পৃথিবী ভরে দেবে, ঠিক যেমন ইতিপূর্বে অত্যাচার-অবিচারে ভরে গিয়েছিল। সাত বৎসর রাজত্ব করবে।” (আবু দাউদ)
উজ্জ্বল ললাট- অর্থাৎ মাথার অগ্রভাগ চুল-শূন্য ও সুপরিসর। নত নাসিকা- অর্থাৎ দীর্ঘ নাক। অগ্রভাগ কিছুটা সরু এবং মধ্যভাগ কিছুটা স্ফীত, একেবারে চ্যাপটে নয়। পূর্ণ নাম- মুহাম্মদ বিন আব্দুল্লাহ আল হাসানী। ঠিক নবীজীর নামের মত। হাসান বংশীয় হওয়ার রহস্য পিতা আলী রা.-এর শাহাদাতের পর হাসান রা. যখন খলীফা হন, তখন মুসলিম বিশ্বে খলীফা দুজন হয়ে গিয়েছিল
(১) হেজায এবং ইরাকে হাসান রা.।
(২) শাম ও আশপাশের এলাকাগুলােতে মুয়াবিয়া বিন আবি সুফিয়ান রা.।
ছয় মাস শাসনকার্য পরিচালনার পর পার্থিব কোন উদ্দেশ্য ছাড়াই হাসান রা, সম্পূর্ণ খিলাফত মুয়াবিয়া রা.কে দিয়ে দিয়েছিলেন। যাতে এক শাসকের অধীনে মুসলমান একতাবদ্ধ হয়ে যায়। মুমিনদের পারস্পরিক রক্তপাত বন্ধ হয়ে যায়। হাদিসে আছে- “আল্লাহর জন্য যে ব্যক্তি কোন কিছু ত্যাগ করল, আল্লাহ তাকে এবং তার বংশধরকে এর চেয়ে উত্তম বস্তু দান করবেন।
রাজত্বকাল
সাত বৎসর তিনি মুসলমানদের নেতৃত্ব দেবেন। ন্যায় নিষ্ঠায় পৃথিবী ভরে দেবেন, ঠিক যেমন পূর্বে অন্যায়-অবিচারে ভরে গিয়েছিল। তাঁর রাজত্বকালে মুসলিম বিশ্ব সুখ স্বাচ্ছন্দ্যে পূর্ণ হয়ে উঠবে। ভূ-পৃষ্ঠ সকল গচ্ছিত খনিজ সম্পদ প্রকাশ করে দেবে। আকাশ ফসলভরা বৃষ্টি বর্ষণ করবে। বে-হিসাব মানুষের মাঝে তিনি ধন সম্পদ বণ্টন করবেন।

প্রকাশ-স্থলঃ
প্রাচ্য থেকে আত্মপ্রকাশ করবেন। একা নয়; প্রাচ্যের একদল নিষ্ঠাবান মুজাহিদ-ও তাঁর সাথে থাকবে। দ্বীনের ঝাণ্ডা বুকে নিয়ে শত্রুদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে থাকবে।

প্রকাশকালঃ
মুসলিম বিশ্বে অধিক সংঘাত কালে তিনজন খলীফার সন্তানের মধ্যে কাবা ঘরের কর্তৃত্ব নিয়ে যুদ্ধে লেগে যাবে। কেউ-ই সফল হবে না। তখন-ই মক্কায় ইমাম মাহদীর আবির্ভাব হবে। দ্রুত মানুষের মাঝে সংবাদ ছড়িয়ে পড়বে। সকলেই কাবা ঘরের সামনে তাঁর হাতে বায়আত গ্রহণ করবে।
ছাওবান রা. থেকে বর্ণিত, নবী করীম সা. বলেন- “তােমাদের রত্ন-ভাণ্ডারের কাছে তিনজন খলীফার সন্তান যুদ্ধ করতে থাকবে। কেউ-ই দখলে সফল হবে না। প্রাচ্য থেকে তখন একদল কালাে ঝাণ্ডা-বাহী লােকের আবির্ভাব হবে। তারা এসে তােমাদেরকে নির্বিচারে হত্যা করবে। ছাওবান বলেন- অতঃপর নবীজী কি যেন বললেন, আমার ঠিক স্মরণ নেই। এরপর নবীজী বললেন- “যখন তােমরা তা দেখতে পাবে, তখন তাঁর কাছে এসে বায়আত হয়ে যেয়াে! যদিও তা করতে তােমাদের হামাগুড়ি দিয়ে বরফের পাহাড় পাড়ি দিতে হয়..!!" (ইবনে মাজা) খলীফা-সন্তানঃ অর্থাৎ তিনজন সেনাপতি। সবাই বাদশার সন্তান হবে। পিতার রাজত্বের দোহাই দিয়ে সবাই ক্ষমতার দাবী করবে।

রত্ন-ভাণ্ডারঃ 
কাবা ঘরের নিচে প্রােথিত রত্ন-ও উদ্দেশ্য হতে পারে। নিছক রাজত্ব-ও উদ্দেশ্য হতে পারে। কারাে কারাে মতে- রত্ন বলতে এখানে ফুরাত নদীর উন্মােচিত স্বর্ণ-পর্বত উদ্দেশ্য।

প্রশ্নঃ
মাহদীর মক্কায় আত্মপ্রকাশ এবং প্রাচ্য (খােরছিন) থেকে কালাে ঝাণ্ডা-বাহী মুজাহিদীনের আগমন কি করে সম্ভব..?!! আর ঝাণ্ডা কালাে হওয়ার মধ্যেই বা কি রহস্য..?!!
ইবনে কাছীর রহ. বলেন- “মাহদীকে প্রাচ্যের নিষ্ঠাবান একটি দলের মাধ্যমে শক্তিশালী করা হবে। তারা মাহদীকে সহায়তা করবে এবং মাহদীর রাজত্ব প্রতিষ্ঠা করবে। তাদের পতাকা-ও কালাে বর্ণের হবে। এটা গাম্ভীর্যের প্রতীক। কারণ, নবী করীম সা.এর পতাকা-ও কালাে ছিল। নাম ছিল উকাব।
আবু সাঈদ রা. থেকে বর্ণিত, নবী করীম সা. বলেন- “আমার শেষ উম্মতের মাঝে মাহদী প্রকাশ পাবে। আল্লাহ তাদের উপর কল্যাণের বারিধারা বর্ষণ করবেন। ভূ-পৃষ্ঠ থেকে গচ্ছিত সকল খনিজ সম্পদ উন্মােচিত হবে। ধন সম্পদের সুসম বণ্টন নিশ্চিত করবে।গবাদিপশু বৃদ্ধি পাবে। মুসলমানদের হারানাে মর্যাদা ফিরে আসবে। সাত বা আট বছর সে রাজত্ব করবে।” (মুস্তাদরাকে হাকিম)
অপর বর্ণনায়- “তার মৃত্যুর পর আর কোন কল্যাণ থাকবে না।” (মুসনাদে আহমদ)
বুঝা গেল- মাহদীর মৃত্যুর পর পুনরায় ফেতনা ও সংঘাত ছড়িয়ে পড়বে। বিন বায রহ. বলেন- “মাহদী প্রকাশের বিষয়টি স্বতঃসিদ্ধ। এ ব্যাপারে নবী করীম সা. থেকে প্রচুর হাদিস প্রমাণিত রয়েছে। একাধিক সাহাবী থেকে পরস্পর বর্ণনা-সূত্রে বর্ণিত হয়েছে। আল্লাহর অপার রহমতে তিনি শেষ জমানার ইমাম হবেন। ন্যায় প্রতিষ্ঠা করবেন। অন্যায়-অবিচার দমন করবেন। শত্রুদের বিরুদ্ধে বিজয়ী হবেন। তার আত্মপ্রকাশে উম্মতের মধ্যে জিহাদের চেতনা ফিরে আসবে। সকলেই এক কালেমার পতাকাতলে একত্রিত হয়ে যাবে।”

মাহদী সংক্রান্ত হাদিসঃ
ইমাম মাহদীর ব্যাপারে বর্ণিত হাদিসগুলাে দু-ভাগে বিভক্তঃ

• যে সকল হাদিসে সরাসরি মাহদীর বর্ণনা এসেছে।
• যে সকল হাদিসে শুধু তাঁর গুণাবলী বর্ণিত হয়েছে

মাহদীর ব্যাপারে প্রায় অর্ধশত হাদিস বর্ণিত হয়েছে। কিছু সহীহ, কিছু হাছান আর কিছু জয়ীফ। প্রায় আঠারটির মত আছার (সাহাবিদের বাণী) বর্ণিত হয়েছে।
প্রখ্যাত হাদিস বিশারদ ছাফারিনী, সিদ্দীক হাসান খান এবং হাফেয আবেরী- মাহদী সংক্রান্ত হাদিসগুলােকে পৌনঃপুনিকতার স্তরে উন্নীত করেছেন।

১) আবু সাঈদ রা. থেকে বর্ণিত, নবী করীম সা. বলেন- “আমার শেষ উম্মতের মাঝে মাহদী প্রকাশ পাবে। আল্লাহ তাদের উপর কল্যাণের বারিধারা বর্ষণ করবেন। ভূ-পৃষ্ঠ গচ্ছিত সকল খনিজ সম্পদ উন্মােচন করে দেবে। ধন সম্পদের সুসম বণ্টন নিশ্চিত করবে গবাদিপশু বৃদ্ধি পাবে। মুসলমানদের হারানাে মর্যাদা ফিরে আসবে। সাত বা আট বছর তাঁর রাজত্ব হবে।” (মুস্তাদরাকে হাকিম)

২) আবু সাঈদ রা. থেকে বর্ণিত, নবী করীম সা. বলেন- “আমি তােমাদেরকে মাহদীর সুসংবাদ দিচ্ছি। ভূ-কম্পন ও মানুষের বিভেদ-কালে তার আগমন ঘটবে। ন্যায়-নিষ্ঠায় পৃথিবী ভরে দেবে, ঠিক যেমন অন্যায়-অবিচারে ভরে গিয়েছিল। আসমান-জমিনের অধিবাসীগণ তার প্রতি সন্তুষ্ট থাকবে। ধন সম্পদের সুসম বণ্টন নিশ্চিত করবে। 'সুসম কি?' জিজ্ঞেস করা হলে বললেন- সমানভাবে-'। আল্লাহ ন্যায়ের মাধ্যমে উম্মতে মুহাম্মদীকে পূর্ণ করে দেবেন। এমনকি একজন ঘােষক ঘােষণা করবে- কারাে কি সম্পদের প্রয়ােজন আছে? একজন দাড়িয়ে বলবে- দায়িত্বশীলকে বল- মাহদী আমাকে সম্পদ দিতে বলেছে!দায়িত্বশীল বলবে- উঠাও যা পার! আঁচল ভরে স্বর্ণ-রৌপ্য উঠাতে চাইলে লজ্জিত হয়ে বলবে- আমি নিজেকে সবার চেয়ে শক্তিশালী মনে করতাম, কিন্তু আজ এগুলাে বহন করতে অপারগ হয়ে গেছি। এ কথা বলে সবকিছু আবার দায়িত্বশীলকে ফিরিয়ে দিতে চাইলে দায়িত্বশীল বলবে- এখানে প্রদত্ত মাল ফেরৎ নেয়া হয় না। এভাবেই মাহদীর রাজত্ব সাত, আট বা নয় বছর পর্যন্ত থাকবে। মাহদীর পর জীবনে আর কোন কল্যাণ থাকবে না।" (আল মুসনাদ)

৩) আলী রা. থেকে বর্ণিত, নবী করীম সা. বলেন- “মাহদী আমার বংশধর। এক রাত্রিতে আল্লাহ পাক তাকে নেতৃত্বের যােগ্য বানিয়ে দেবেন।” বুঝা গেল- ইমাম মাহদী (মুহাম্মদ বিন আব্দুল্লাহ) নিজেও জানবেন না যে, হাদিসে উল্লেখিত ব্যক্তিটি তিনি-ই। আগেভাগে গিয়ে খিলাফত-ও কামনা করবেন না। নম্রতা-বসত নিজেকে তিনি নেতৃত্বের অযােগ্য মনে করবেন। আর তাই প্রবল অনিচ্ছা সত্তেও মানুষ জোর করে তার হাতে বায়আত হয়ে যাবে। 
মাহদী কোন পাপী বা পথভ্রষ্ট হবেন না। বরং শরীয়ত বিষয়ে একজন সু- পরিপক জ্ঞানী হবেন। মানুষকে হালাল হারাম শিখাবেন। বিচারব্যবস্থাকে শরীয়তমতে ঢেলে সাজাবেন। শত্রুদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে প্রধান সেনাপতির ভূমিকা পালন করবেন। তিনি-ই প্রতীক্ষিত মাহদী- এক রাত্রিতে আল্লাহ পাক তা জানিয়ে দিয়ে নেতৃত্বের সার্বিক যােগ্যতা তাকে প্রদান করবেন।

৪) উম্মে সালামা রা. থেকে বর্ণিত, নবী করীম সা. বলেন- “মাহদী আমার বংশে ফাতেমার সন্তানদের মধ্যে হবে।” (আবু দাউদ)

৫) জাবের রা. থেকে বর্ণিত, নবী করীম সা. বলেন- “মরিয়ম-তনয় ঈসা আসমান হতে অবতরণ করবেন। মুসলমানদের সেনাপ্রধান মাহদী তাকে স্বাগত জানিয়ে বলবে- আসুন! নামাযের ইমামতি করুন! ঈসা বলবেন- না! (বরং তুমি-ই ইমামতি করাে!) তােমাদের একজন অপরজনের নেতা। এই উম্মতের জন্য আল্লাহর পক্ষ থেকে এ এক মহা সম্মান।"
বুঝা গেল- মাহদীর সময়েই দাজ্জালের আবির্ভাব ঘটবে। অতঃপর দাজ্জালকে হত্যা করতে আসমান থেকে ঈসা বিন মারিয়াম আ. অবতরণ করবেন। ইমাম মাহদী-ই তখন মুসলিম সেনাপ্রধান থাকবেন। ঈসা আ. এবং অন্য সকল মুমিন ইমাম মাহদীর পেছনে ফজরের নামায আদায় করবেন।

৬) আবু সাঈদ রা. থেকে বর্ণিত, নবী করীম সা. বলেন- “মরিয়ম-তনয় ঈসা আ. যার পেছনে নামায আদায় করবেন, সে আমার উম্মতের-ই একজন সদস্য।” অর্থাৎ মাহদী নামাযের ইমামতি করবেন। মুসল্লিদের কাতারে ঈসা আ. শামিল থাকবেন।

৭) ইবনে মাসউদ রা. থেকে বর্ণিত, নবী করীম সা. বলেন- “পৃথিবীর জীবন সায়াহ্নে যদি একটি মাত্র দিন অবশিষ্ট থাকে, তবে সে দিনটিকে আল্লাহ দীর্ঘ করে আমার পরিবারস্থ একজন ব্যক্তিকে প্রেরণ করবেন। তার নাম আমার নাম এবং তার পিতার নাম আমার পিতার নাম সদৃশ হবে।” (তিরমিযী, আবু দাউদ) সুতরাং শিয়া সম্প্রদায়ের দাবী সম্পূর্ণ ভুল। কারণ, মুহাম্মাদ বিন হাছান আসকারীকে তারা মাহদী মনে করে থাকে।


৮) যির বিন আব্দুল্লাহ রা. থেকে বর্ণিত, নবী করীম সা. বলেন- “কেয়ামত সংঘটিত হবে না, যতক্ষণ না আমার সম-নামী এক নিষ্ঠাবান ব্যক্তি মুসলমানদের নেতা হবে।” (মুসনাদে আহমদ)

৯) আলী রা. থেকে বর্ণিত, নবী করীম সা. বলেন- “পৃথিবীর জীবন সায়াহ্নে যদি একটি মাত্র দিন অবশিষ্ট থাকে, তবে সে দিনটিকে আল্লাহ দীর্ঘ করে আমার পরিবারস্থ একজন ব্যক্তিকে প্রেরণ করবেন। ন্যায়-নিষ্ঠায় সে বিশ্বকে ভরে দেবে, ঠিক যেমন অন্যায়-অবিচারে ভরে গিয়েছিল।”

উপরােক্ত হাদিসসমূহে নাম ও গুণাগুণ সহ স্পষ্ট-রূপে মাহদীর কথা আলােচিত হয়েছে।


চলবে-



মন্তব্য