মনীষীদের জীবনী

ইমাম মাহদীর আবির্ভাব। পর্ব -২

Alorpath 3 weeks ago Views:543

আমার শেষ উম্মতের মাঝে একজন খলীফার আবির্ভাব ঘটবে, বে-হিসাব মানুষের মাঝে সে সম্পদ বিলি করবে।



আরাে যে সকল হাদিস মাহদীর প্রতি পরােক্ষ ইঙ্গিত করেঃ

১০) জাবের রা. থেকে বর্ণিত, নবী করীম সা. বলেন- “অচিরেই ইরাক-বাসীর কাছে খাদ্যদ্রব্য ও রৌপ্যমুদ্রা সরবরাহে নিষেধাজ্ঞা জারী করা হবে। আমরা বললাম- কাদের পক্ষ থেকে এরকম করা হবে? উত্তরে বললেন- অনারব। অতঃপর বললেন- “অচিরেই শাম-বাসীর কাছে খাদ্যদ্রব্য ও স্বর্ণমুদ্রা সরবরাহে নিষেধাজ্ঞা জারী করা হবে। কাদের পক্ষ থেকে করা হবে- প্রশ্নের উত্তরে বললেন- রােমান (খৃষ্টান)। কিছুক্ষণ চুপ থেকে বললেন- “আমার শেষ উম্মতের মাঝে একজন খলীফার আবির্ভাব ঘটবে, বে-হিসাব মানুষের মাঝে সে সম্পদ বিলি করবে।” বর্ণনাকারী -আবু নাযরা ও আবুল আলাকে উদ্দেশ্য করে বললেন- “আপনারা কি উমর বিন আব্দুল আজীজ রহ.কে সেই খলীফা মনে করেন? তারা বললেন- না!!” (মুসলিম)

১১) উম্মুল মুমেনীন আয়েশা রা. বলেন- একদা নবী করীম সা. নিদ্রাবস্থায় কেমন যেন করছিলেন। (জাগ্রত হওয়ার পর) জিজ্ঞেস করলাম- এমন করছিলেন কেন হে আল্লাহর রাসূল? বললেন- “খুব-ই আশ্চর্যের বিষয়- আমার উম্মতের কিছু লােক কাবা ঘরে আশ্রিত কুরায়শী ব্যক্তিকে হত্যার উদ্দেশ্যে রওয়ানা হবে। বায়দা প্রান্তরে পৌঁছা মাত্র সবাইকে মাটির নিচে ধ্বসে দেয়া হবে। আমরা বললাম- পথে তাে অনেক মানুষের সমাগম থাকে!! নবীজী বললেন- হ্যাঁ..! দর্শক, অপারগ এবং পথিক সকলকেই একত্রে ধ্বসে দেয়া হবে। তবে অন্তরিচ্ছা অনুযায়ী আল্লাহ পাক তাদের পুনরুত্থান করবেন।” (মুসলিম)
অর্থাৎ মাহদীকে হত্যা করতে আসা সেই নামধারী মুসলিম বাহিনীকে আল্লাহ বায়দা প্রান্তরে ধ্বসে দেবেন। তবে রােজ হাশরে নিয়ত-নুযায়ী সবাইকে উঠানাে হবে। সৎ নিয়তের দরুন কেউ জান্নাতে যাবে, অসৎ নিয়তে কেউ জাহান্নামে যাবে।



১২) আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, নবী করীম সা. বলেন- “কাবার রুকন ও মাকামে ইবরাহীমের মধ্যবর্তী স্থানে এক ব্যক্তির (ইমাম মাহদী) বায়আত নেয়া হবে। স্থানীয় লােকেরা-ই কাবা ঘরের সম্মান নষ্ট করে নিরাপত্তা-হীন করে তুলবে। আরবদের বিনাশ তখন কাছিয়ে যাবে। অতঃপর হাবশিরা এসে কাবা ঘর সম্পূর্ণ ধ্বংস করে দিলে পরবর্তীতে আর কেউ তা নির্মাণ করতে পারবে না।হাবশিরা-ই কাবার রত্ন-ভাণ্ডার লুট করবে।” (মুসনাদে আহমদ)

১৩) আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, নবী করীম সা. বলেন- “কেমন হবে- যখন তােমাদের মাঝে মরিয়ম-তনয় ঈসা অবতরণ করে তােমাদেরই একজনের পেছনে ফজরের নামায আদায় করবেন..?!!" (বুখারী) অন্য বর্ণনা থেকে পরিষ্কার বুঝা যায় যে, মাহদী-ই (আব্দুল্লাহ বিন মুহাম্মদ) ঈসা আ. এর ইমামতি করবেন।

১৪) জাবের রা. থেকে বর্ণিত, নবী করীম সা. বলেন- “আমার উম্মতের একদল মুজাহিদ কেয়ামত পর্যন্ত শত্রুদের উপর বিজয়ী থাকবে। এক পর্যায়ে মরিয়ম-তনয় ঈসা আসমান হতে অবতরণ করলে তাদের সেনাপতি বলবে- আসনু! নামাযের ইমামতি করুন! ঈসা বলবেন- না! তােমাদের একজন অপরজনের নেতা (তুমি-ই ইমামতি করাে!) আল্লাহর পক্ষ থেকে উম্মতের জন্য এ এক বিরাট সম্মান!!” (মুসলিম, মুসনাদে আহমদ)


উল্লেখ্য- মাহদীর পেছনে ঈসা আ. নামায পড়েছেন বলে মাহদী শ্রেষ্ঠ হয়ে যাননি। মৃত্যুর পূর্বমুহূর্তে নবী করীম সা. ও আবু বকরের পেছনে নামায পড়েছেন। আব্দুর রহমান বিন আওফ রা.-এর পেছনে-ও নবীজী নামায পড়েছেন। উম্মতে মুহাম্মদীর একজন সদস্যের পেছনে নামায আদায়ের মাধ্যমে উনি বুঝাতে চাচ্ছেন যে, শেষনবী মুহাম্মদ সা.-এর আদর্শের অনুসারী হিসেবে তিনি পৃথিবীতে এসেছেন; নবী হিসেবে নয়। নামায শেষে ঈসা আ. সেনাপ্রধানের দায়িত্ব নেবেন আর মাহদীতাঁর সেনাদলের একজন সদস্য হয়ে যাবেন।

১৫) জাবের বিন ছামুরা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন- একদা আলীকে নিয়ে আমি নবী করীম সা.এর দরবারে উপস্থিত হলাম। তিনি তখন বলছিলেন- “পৃথিবী সমাপ্তির পূর্বে অবশ্যই বারােজন নিষ্ঠাবান খলীফা অতিবাহিত হবেন। অতঃপর কি যেন বললেন- ঠিক বুঝিনি! আব্বুকে জিজ্ঞেস করলে- “সবাই কুরায়েশ বংশের" বললেন।” (মুসলিম) ইবনে কাছীর রহ. বলেন- “বুঝা গেল- মুসলমানদের খলীফা হিসেবে বারােজন নিষ্ঠা-পূর্ণ ব্যক্তির আগমন ঘটবে। তবে শিয়া সম্প্রদায়ের ধারণা-কৃত বারােজন নয়; কারণ, তাদের অধিকাংশের-ই খেলাফত সংক্রান্ত কোন কর্তৃত্ব ছিল না। পক্ষান্তরে প্রকৃত বারােজন খলীফা সবাই কুরায়েশ বংশীয় হবেন এবং মুসলমানদের একচ্ছত্র নেতা হিসেবে আভিভূত হবেন।” (তাফছীরে ইবনে কাছীর)

আমাদের লেখা নিয়মিত পড়তে যুক্ত হন ফেসবুক পেইজে।


১৬) উম্মুল মুমেনীন হাফসা রা. থেকে বর্ণিত, নবী করীম সা. বলেন- “কাবা ঘরে আশ্রিত ব্যক্তির বিরুদ্ধে বিশাল বাহিনীর আগমন হবে। বায়দা প্রান্তরে পৌঁছামাত্র বাহিনীর মধ্যভাগ ধ্বসে দেয়া হবে। সমুখ ভাগ পেছন ভাগের সেনাদেরকে ডাকাডাকি করতে থাকবে। পরক্ষণেই সম্পূর্ণ বাহিনীকে ধ্বসে দেয়া হবে। ফলে সংবাদ বাহক (একজন) ছাড়া আর কেউ নিস্তার পাবে না।” (মুসলিম) প্রাণ নিয়ে ফিরে এসে মানুষকে সে ধ্বসিত বাহিনীর খবর শুনাবে।
উম্মুল মুমেনীন উম্মে সালামা রা. থেকে বর্ণিত, নবী করীম সা. বলেন- “জনৈক খলীফার মৃত্যুকে কেন্দ্র বিরােধ সৃষ্টি হবে। মদিনার একজন লােক তখন পালিয়ে মক্কায় চলে আসবে। মক্কার লােকেরা তাকে খুঁজে বের করে অনিচ্ছা সত্তেও রুকন এবং মাক্কামে ইবরাহীমের মাঝামাঝি স্থানে বায়আত গ্রহণ করবে। বায়আতের খবর শুনে শামের দিক থেকে এক বিশাল বাহিনী প্রেরিত হবে।মক্কা-মদিনার মাঝামাঝি বায়দা প্রান্তরে তাদেরকে মাটির নিচে ধ্বসে দেয়া হবে। বাহিনী ধ্বসের সংবাদ শুনে শাম ও ইরাকের শ্রেষ্ঠ মুসলমানগণ মক্কায় এসে রুকন ও মাক্কামে ইবরাহীমের মাঝামাঝিতে তাঁর হাতে বায়আত গ্রহণ করবে। অতঃপর বনু কালব সম্বন্ধীয় এক কুরায়শীর আবির্ভাব হবে। শামের দিক থেকে সে বাহিনী প্রেরণ করবে। মক্কার নব-উত্থিত মুসলিম বাহিনী তাদের উপর বিজয়ী হয়ে প্রচুর যুদ্ধলব্ধ সম্পদ অর্জন করবে। সেদিন বনু কালবের সর্বনাশ ঘটবে। যে বনু কালব থেকে অর্জিত সম্পদ প্রত্যক্ষ করেনি, সে-ই প্রকৃত বঞ্চিত। অতঃপর মানুষের মাঝে তিনি সম্পদ বণ্টন করবেন।নববী আদর্শের বাস্তবায়ন ঘটাবেন। উট যেমন প্রশান্তচিত্তে গলা বিছিয়ে আরাম পায়, দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর ইসলামও সেদনি ভূ-পৃষ্ঠে প্রশান্তচিত্তে স্থির পাবে। সাত বৎসর এভাবে রাজত্ব করে তিনি ইন্তেকাল করবেন, মুসলমানগণ তার জানাযায় শরীক হবে।” (আবু দাউদ) অপর বর্ণনায়- “নয় বৎসর।

-চলবে।



মন্তব্য