মনীষীদের জীবনী

ইমাম মাহদীর আবির্ভাব। পর্ব -৩

Alorpath 3 weeks ago Views:340

প্রকৃত ইমাম মাহদী কখনাে মাহদীত্বের দাবী করবে না। বায়আতের জন্য মানুষকে ডাকবে না। বরং মানুষ তাঁকে খুঁজে বের করে জোরপূর্বক বায়আত নেবে।


এ যাবত ভুয়া মাহদীত্ব দাবীদারদের সংক্ষিপ্ত তালিকাঃ

ইতিহাস অধ্যয়নে জানা যায়- কালের পরিভ্রমণ, অন্যায়-অবিচারের ছড়াছড়ি এবং জালেম বাদশাহদের আবির্ভাবের পাশাপাশি এমন কিছু ব্যক্তির-ও আত্মপ্রকাশ ঘটেছে, যারা নিজেকে যুগের মাহদী বলে দাবী করতে কুণ্ঠাবােধ করেনি। তন্মধ্যেঃ

১) শিয়া (রাফেযী) সম্প্রদায় মনে করে তাদের ও একজন মাহদী আসবে। তিনি হবেন বার ইমামের সর্বশেষ ইমাম। নাম- মুহাম্মদ বিন হাসান আসকারী। হাসান রা. নয়; বরং হুসাইন রা.-এর সন্তানদের একজন হবেন। (আল্লাহ সকল আহলে বাইতের প্রতি শান্তি ও রহমত বর্ষণ করুন)


তাদের বিশ্বাসঃ
ক. ২৬০ হিজরী সনে তিনি ছামারার ভূ-গর্ভস্থ কক্ষে প্রবেশ করেছেন।

খ. প্রবেশ-কালে তার বয়স ছিল মাত্র পাঁচ বছর। ছামারা অদ্যাবধি তিনি সেখানে জীবিত আছেন। শেষ জমানায় সেখান‌ থেকে বের হয়ে তিনি মাহদীরূপে আবির্ভূত হবেন।

গ. তারা বিশ্বাস করে যে, তিনি শহরে-বন্দরে ঘুরে নিয়মিত মানুষের খোঁজখবর নেন। কেউ তাকে। দেখতে পায় না।
কোন দলিল বা যুক্তি ছাড়াই যুগ যুগ ধরে তারা এ বিশ্বাস লালন করে আসছে। জ্ঞানী মাত্রই ভ্রান্ত এ বিশ্বাসকে চরম বােকামি বলে মেনে নেবেন। আল্লাহর শাশ্বত বিধান হচ্ছে যে, মানুষ দুনিয়াতে আসবে, নির্ধারিত জীবন পার হলে ইন্তেকাল করে বরযখে চলে যাবে। নবীদের ক্ষেত্রেও এর ব্যতিক্রম হয়নি নবী-রাসূলদেরকে আল্লাহ মৃত্যু দিয়েছেন, অথচ শিয়াদের মাহদীকে হাজার বছর ধরে ভূগর্ভস্থ কক্ষে বাঁচিয়ে রেখেছেন... এমন বিশ্বাস নিছক নির্বুদ্ধিতা বৈ কিছু নয়।


এত বছর পর্যন্ত কেন তিনি অন্ধকার কুঠিরে আত্মগােপন করবেন?! বর্তমান সময়ে উম্মতে মুহাম্মদী মহা- পরীক্ষায় অবতীর্ণ হয়েছে। চারিদিকে বিপদাপদ ভর করছে!! কেন বের হচ্ছেন ?! কেন মানুষকে ইসলামের দাওয়াত দিচ্ছেন না?! ইবনে কাছীর রহ. বলেন- “প্রকৃত মাহদী প্রাচ্য থেকে আত্মপ্রকাশ করবেন। ছামারার ভূগর্ভস্থ কক্ষ থেকে নয়।যেমনটি রাফেযী সম্প্রদায় মনে করে থাকে। তাদের এ বিশাস সম্পূর্ণ আন্ত অযৌক্তিক এবং শয়তানের প্ররােচনা বৈ কিছু নয়। কোরআন, হাদিস এমনকি সাহাবিদের থেকেও এ ব্যাপারে কোন বাণী প্রমাণিত হয়নি।"

২) প্রথম যুগের মহা-প্রতারক আব্দুল্লাহ বিন সাবা দাবী করেছিল যে, আলী বিন আবি তালিব রা. হচ্ছেন ইমাম মাহদী। শেষ জমানায় তিনি দুনিয়াতে আবার ফিরে আসবেন।

৩) প্রসিদ্ধ মিথুক মুখতার বিন উবাইদ সাকাফী দাবী করত যে, মুহাম্মদ বিন হানাফিয়্যা (মৃত্যু-৮১ হিঃ) হচ্ছেন ইমাম মাহদী।মুহাম্মদ বিন হানাফিয়্যা হচ্ছেন আলী রা. এর পুত্র। বনী হানীফা গােত্রীয় মাতা খাওলা বিনতে জাফর এর দিকে সম্বন্ধ করে তাঁকে বিন হানাফিয়্যা বলা হত।

৪) আলী রা. এর এক কৃতদাস ছিল কীছান।তার নামানুসারে কীছানী শিয়া সম্প্রদায় গড়ে ওঠে। তারা মুহাম্মদ বিন হানাফিয়্যাকে সর্বময় জ্ঞানের অধিকারী মনে করে। তাদের ধারণানুযায়ী আব্দুল্লাহ বিন মুয়াবিয়া বিন আব্দুল্লাহ বিন জাফর বিন আবি তালিব হচ্ছেন ইমাম মাহদী।

৫) হাসান রা. এর পৌত্র মুহাম্মদ বিন আব্দুল্লাহ। ১৪৫ হিজরী সনে ইন্তেকাল করেন। অত্যন্ত খােদা ভীরু এবং অধিক ইবাদত কারী হিসেবে সুপরিচিত ছিলেন। শ্রদ্ধার আতিশয্যে কিছু লােক তাঁকে মাহদী বলে মনে করতে থাকে। জুলুম-অত্যাচারের বিরুদ্ধে তিনি ও তাঁর অনুসারীবৃন্দ খড়গহস্ত ছিলেন। আব্বাসী শাসকগণ প্রায় দশ হাজার যােদ্ধা। সমন্বিত বাহিনী পাঠিয়ে তাকে হত্যা করে দেয়।

৬) ভুয়া মাহদীত্ব দাবীদারদের অন্যতম হচ্ছে উবাইদুল্লাহ বিন মাইমূন কাদ্দাহ। ৩২৫ হজরীতে ইন্তেকাল করে। তার পিতামহ ছিল ইহুদী। ৩১৭ হিজরীতে মুসলমানদেরকে হত্যা করে হজরে আসওয়াদ ছিনতাইকারী কৃরান্তী শিয়া সম্প্রদায়ের প্রধান হিসেবে সে পরিচিত। ইসলামের প্রতি তারা ইহুদী-খৃষ্টানদের থেকেও বেশি বিদ্বেষ ও কুফুরী পােষণ করত পরবর্তীতে তার সন্তানেরা ক্ষমতায় আসতে সক্ষম হয়। হেজায, মিসর ও শামে তারা কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করে। প্রতারণা করে তারা নিজেদেরকে ফাতেমা রা. এর সন্তান বলে দাবী করতে থাকে। পরবর্তীতে তারা ফাতেমিয়্যীন নামে প্রসিদ্ধ হয়ে উঠে। শাফেয়ী মতাদর্শের বিচারব্যবস্থা ভেঙ্গে দিয়ে কবর ও মাজার পূজা প্রচলন করে। তাদের কারণে ইসলামের ইতিহাসে অনেক সংঘাতময় অধ্যায় রচিত হয়েছে। ক্রান্তী সম্প্রদায় বাহ্যিক মুসলমান দাবী করলেও মূলত নাস্তিক।

প্রকৃত ইমাম মাহদী যাচাইয়ে করণীয়ঃ
নবী করীম সা. থেকে এ ব্যাপারে অনেকগুলাে হাদিস বিশুদ্ধ বর্ণনা-সূত্রে বর্ণিত হয়েছে। ঝট করে মাহদীত্ব দাবী করলেই তাকে মাহদী বলে মেনে নেয়া হবে না। নবী করীম সা. এর সাথে সুনির্দিষ্ট কয়েকটি নিদর্শন জুড়ে দিয়েছেন।এ সকল নিদর্শন যথাযথ প্রমাণিত হলে বিনা দ্বিধায় তাকে আমরা ইমাম মাহদী বলে মেনে নেবঃ

১) প্রকৃত ইমাম মাহদী কখনাে মাহদীত্বের দাবী করবে না। বায়আতের জন্য মানুষকে ডাকবে না। বরং মানুষ তাঁকে খুঁজে বের করে জোরপূর্বক বায়আত নেবে।


২) নবী করীম সা. এর নামের সাথে সম্পূর্ণ মিল থাকবে (মুহাম্মদ বিন আব্দুল্লাহ)।

৩) তাঁর বংশ সূত্র হাসান বিন আলী রা.-এর সাথে গিয়ে মিলবে। 

৪) হাদিসে বর্ণিত দৈহিক গুণাগুণের সাথে সম্পূর্ণ সামঞ্জস্যপূর্ণ হবে (উজ্জ্বল ললাট, সরু নাসিকা..)।

৫) প্রকাশকালে প্রেক্ষাপট নিম্নরূপ হবেঃ
• জনৈক খলীফার মৃত্যু নিয়ে বিরােধ সৃষ্টি হবে।
• পাপাচার-অবিচারে ভূ-পৃষ্ঠ ভরে যাবে।
• তিন রাজপুত্র কর্তৃত্ব নিয়ে লড়াই করতে থাকবে।
• ইমাম মাহদী সৎ, নিষ্ঠাবান খােদাভীরু হবেন।
শরীয়ত সম্পর্কে পূর্ণ জ্ঞানী হবেন।
• মক্কায়। আত্মপ্রকাশ করবেন। এবং মাকামে ইবরাহীমের মাঝামাঝি স্থানে বায়আত নেবেন।

- চলবে।



মন্তব্য