ঈমান

কিয়ামতের বড় আলামত। প্রসঙ্গঃ দাজ্জাল। পর্ব-২

Alorpath 3 weeks ago Views:440

স্মরণ রেখাে! দাজ্জাল কিন্তু একচোখে কানা হবে। আর তােমাদের প্রকৃত পালনকর্তা কানা নন!!



দাজ্জাল কিসের দাবী করবে?

মহা-দুর্ভিক্ষের কালে দাজ্জাল খাদ্যদ্রব্য নিয়ে এসে বলবে, “আমি হচ্ছি সমগ্র জগতের পালনকর্তা। হে লােকসকল! তােমরা আমার প্রতি ঈমান আন! আমি তােমাদের খাদ্য দেব, পানীয় দেব, সম্পদ দেব, যা চাও- সব দেব। নবী‌ করীম সা. বলেছেন- “স্মরণ রেখাে! দাজ্জাল কিন্তু একচোখে কানা হবে। আর তােমাদের প্রকৃত পালনকর্তা কানা নন!!” (বুখারী)

ইবনে সাইয়াদ সম্পর্কে দু-টি কথাঃ
নবীযুগে মদিনায় এক ইহুদী-পুত্র ছিল। নাম ছিল ইবনে সাইয়াদ। তার অলৌকিক কর্মকাণ্ডের খবর শুনে নবীজী তাকে দাজ্জাল সন্দেহ করেছিলেন।

আব্দুল্লাহ বিন উমর রা. থেকে বর্ণিত, একদা উমর রা.- কে সাথে নিয়ে নবীজী ইবনে সাইয়াদের খবর নেয়ার জন্য গমন করলেন। গিয়ে দেখেন মদীনার প্রাচীন চিত্র। সে ছােট্ট বালকদের সাথে বনী মুগালার দূর্গের কাছে খেলাধুলা করছে। সে-সময় ইবনে সাইয়াদের বয়স ১৫ ছুঁই ছুঁই। অজান্তেই পেছনে গিয়ে নবীজী তার পিঠে মৃদু আঘাত করলেন। ইবনে সাইয়াদকে নবীজী বললেন, তুমি কি মান যে, আমি হলাম আল্লাহর রাসূল? ইবনে সাইয়াদ নবীজীর দিকে তাকিয়ে বলল- আমি আপনাকে মূর্খদের নবী মনে করি। অতঃপর সে পাল্টা নবীজীকে বলতে লাগল- আপনি কি মানেন যে, আমি আল্লাহর রাসূল?

নবীজী প্রত্যাখ্যানের সুরে বললেন- আমি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলগণের প্রতি ঈমান আনলাম। বললেন- স্বপ্নে তুই কি দেখিস? সে বলল- কখনাে সত্যবাদী আবার কখনাে মিথ্যাবাদী দেখি। নবীজী বললেন- তাের বিষয়টি তাে গড়বড় মনে হচ্ছে!! আচ্ছা অন্তরে তাের জন্য একটি কথা লুকিয়েছি, বল তাে- সেটা কি?!! ইবনে সাইয়াদ বলল- ধোঁয়া! নবীজী বললেন- দূরে সর! নির্ধারিত সময়ের আগে তুই কিছুই করতে পারবি না!! উত্তপ্ত পরিস্থিতি দেখে উমর রা. বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! অনুমতি দিন- এক্ষুনি তার মস্তক নামিয়ে দেই! নবীজী বললেন- সে-ই যদি প্রকৃত দাজ্জাল হয়, তবে তােমার নয়; ঈসা বিন মারিয়ামের হাতে সে নিহত হবে। আর যদি দাজ্জাল না হয়, তবে। অনর্থক হত্যা করেই বা কি লাভ..!!” (মুসলিম)

সালেম বিন আব্দুল্লাহ বলেন- আমি আব্দুল্লাহ বিন উমর রা.কে বলতে শুনেছি- “অতঃপর নবী করীম সা. উবাই বিন কাবকে সাথে নিয়ে ইবনে সাইয়াদের খেজুর বাগানে গেলেন। বাগানে ঢুকার পর নবীজী খর্জুর কাণ্ডের পেছনে লুকিয়ে লুকিয়ে সামনে এগুতে লাগলেন, ইবনে সাইয়াদ টের পাওয়ার আগেই যেন একা বসে বসে সে যা বলছে- শুনতে পান। নবীজী তাকে দেখলেন, সে চাদরের বিছানায় গা এলিয়ে কি যেন ফিসফিস করছে। হঠাৎ তার মা এসে নবীজীকে দেখে বলতে লাগল- ওহে সাফী (ইবনে সাইয়াদের ডাকনাম)! মুহাম্মদ এসে পড়েছে! ইবনে সাইয়াদ সজাগ হয়ে ফিসফিস বন্ধ করে দেয়। তখন নবীজী বলতে লাগলেন- হতভাগী না আসলে আজ-ই প্রকাশ হয়ে যেত (যে, সে দাজ্জাল না অন্য কিছু!)।” (মুসলিম)


আবু সাঈদ রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন- একদা আমরা হজ্ব বা উমরা পালনে মক্কার উদ্দেশ্যে রওয়ানা হলাম। সাথে ইবনে সাইয়াদও ছিল। পথিমধ্যে আমরা একস্থানে বিশ্রামের জন্য অবতরণ করলাম। সাথীরা বিভিন্ন প্রয়ােজনে দূরে চলে গেল। আমি এবং ইবনে সাইয়াদ শুধু রয়ে গেলাম। সে যেহেতু সন্দেহজনক -তাই মনে মনে ভীষণ ভয় পাচ্ছিলাম। কিছুক্ষণ পর সে তার মালপত্র আমার মালপত্রের সাথে এনে রাখল। আমি বললাম- প্রচণ্ড গরম পড়েছে, তাই একসাথে রাখার চেয়ে আলাদা রাখাই ভাল, ওই বৃক্ষের নিচে যদি রাখতে..!! ইবনে সাইয়াদ মালপত্র নিয়ে দূরের বৃক্ষের নিচে চলে গেল। কিছুক্ষণ পর বকরীর দুধের ব্যবস্থা হলে একটি পাত্রে দুধ ভর্তি করে সে আমার জন্য নিয়ে এলাে। বলল- পান কর হে আবু সাঈদ! বললাম- এমনিতেই প্রচণ্ড গরম, তার পালি উপর দুধ পান করলে পেটের অবস্থা বারােটা বেজে যাবে (কোন মতেই আমি তার হাতের দুধ পান করতে চাচ্ছিলাম না)। তখন ইবনে সাইয়াদ বলতে লাগল- হে আবু সাঈদ! আমার ইচ্ছা হয়- লম্বা একটা দড়ি গাছের সাথে ঝুলিয়ে নিজেকে ফাঁস দিয়ে দিই। মানুষের এই আচরণ আমার আর ভাল্লাগে না!! হে আবু সাঈদ! তােমরাই (আনসার সম্প্রদায়) নবী করীম সা.এর হাদিস সম্পর্কে বেশি অবগত।বিশেষ করে তুমি তাে নবী করীম সা. থেকে অনেক হাদিস জান!। বল তাে- নবীজী কি বলে যান নি যে, তার (দাজ্জালের) কোন সন্তান হবে না!? অথচ মদিনায় আমি সন্তান রেখে এসেছি! নবীজী কি বলেননি- সে (দাজ্জাল) মক্কা- মদিনায় প্রবেশ করতে পারবে না!? অথচ আমি মদিনা থেকে মক্কায় হজ্বের উদ্দেশ্যে রওয়ানা দিয়েছি!! আবু সাঈদ বলেন- ইবনে সাইয়াদের এ ব্যথাভরা কথাগুলাে শুনে আমি তাকে ক্ষমা-ই করে দিতে চেয়েছিলাম। এমন সময় সে বলতে লাগল- আল্লাহ কসম! অবশ্যই আমি দাজ্জালের জন্মস্থান এবং অবস্থান স্থল জানি!! বললাম- কপাল পুড়ুক তাের!!” (মুসলিম)
উলামায়ে কেরাম থেকে বর্ণিত বিশুদ্ধতম মত হচ্ছে যে, সে প্রকৃত দাজ্জাল নয়। তবে অন্যতম মিথুক। গণক শয়তানেরা তার কাছে সংবাদ সরবরাহ করত। ধারণা করা হয় যে, শেষ জীবনে সে তওবা করে সংশােধিত হয়ে ছিল। (আল্লাহই ভাল জানেন)

-চলবে।



মন্তব্য