ঈমান

কিয়ামতের বড় আলামত। প্রসঙ্গঃ দাজ্জাল। পর্ব-৩

Alorpath 2 weeks ago Views:302

দশটি (বৃহৎ) নিদর্শন প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত কেয়ামত সংঘটিত হবে নাঃ ধূম্র, দাজ্জাল, অদ্ভুত প্রাণী, পশ্চিম দিগন্তে প্রভাতের সূর্যোদয়...




কোরআনে কেন দাজ্জালের আলােচনা আসেনি?

নবী করীম সা. সবচে বেশি যে ফেতনাটি নিয়ে শঙ্কিত ছিলেন, তা হচ্ছে দাজ্জালের ফেতনা। আর তাই প্রত্যেক নামাযের শেষে দাজ্জালের মহা-ফেতনা থেকে বাঁচার জন্য সাহাবিদেরকে দোয়া শিখিয়েছেন। কোরআনে কিছু নিদর্শনের উল্লেখ এসেছে, কিছু অনুল্লেখ রয়েছে। যেমন, চন্দ্র দ্বিখণ্ডিত হওয়ার বিষয়টি আল্লাহ এভাবে বলেছেন- “মহা প্রলয় কাছিয়ে গেছে, চন্দ্র বিদীর্ণ হয়ে গেছে।” (সূরা কামার-১) ইয়াজুজ-মাজুজের উদ্ভবে বলেছেন- “যে পর্যন্ত না ইয়াজুজ ও মাজুজকে বন্ধন মুক্ত করে দেয়া হবে এবং তারা প্রত্যেক উচ্চভূমি থেকে দ্রুত ছুটে আসবে” (সূরা আম্বিয়া-৯৬)। 

কিন্তু মহা-ফেতনার নেপথ্য নায়ক দাজ্জাল-এর বিষয়ে পরিষ্কার ভাবে কোরআনে কিছুই বলা হয়নি। কোন প্রজ্ঞা নিহিত? কয়েক-ভাবে এর উত্তর দেয়া হয়েছেঃ
কোরআনে পরােক্ষভাবে এর উত্তর এসেছে। আল্লাহ পাক বলেন- “যেদিন আপনার পালনকর্তার কোন নিদর্শন আসবে, সেদিন এমন কোন ব্যক্তির বিশ্বাস স্থাপন তার জন্যে ফলপ্রসূ হবে না, যে পূর্বে থেকে বিশ্বাস স্থাপন করেনি কিংবা স্বীয় বিশ্বাস অনুযায়ী কোনরূপ সৎকর্ম করেনি-” (সূরা আনআম-১৫৮)। (এর ব্যাখ্যাস্বরূপ) নবী করীম সা. বলেন- “তিনটি নিদর্শন প্রকাশ হয়ে গেলে ব্যক্তির ঈমান কোন উপকারে আসবে না, যতক্ষণ না সে পূর্বে থেকে ঈমান এনে সৎকর্ম জমা করে থাকেঃ ১) দাজ্জাল ২) অদ্ভুত প্রাণী ৩) পশ্চিম দিগন্তে প্রভাতের সূর্যোদয়।” (তিরমিযী)

ঈসা বিন মারিয়াম আ. অবতরণের‌ কথাও কোরআনে পরােক্ষভাবে এসেছে। আল্লাহ পাক বলেন- “আর আহলে কিতাবদের মধ্যে যত শ্রেণী রয়েছে তারা সবাই ঈমান আনবে ঈমার উপর তার মৃত্যুর পূর্বে।” (সূরা নিসা-১৫৯)

অন্যত্র আল্লাহ বলেন- “যখনই মরিয়ম তনয়ের দৃষ্টান্ত বর্ণনা করা হল, তখনই আপনার সম্প্রদায় হঞ্জগােলি শুরু করে দিল এবং বলল- আমাদের উপাস্যর শ্রেষ্ঠ, না মে? তারা আপনার সামনে যে উদাহরণ উপস্থাপন করে তা কেবল বিতর্কের জন্যেই করে।

বস্তুতঃ তারা হল এক বিতর্ককারী সম্প্রদায়। সে তাে এক বান্দা-ই বটে আমি তার প্রতি অনুগ্রহ করেছি এবং তাকে করেছি বণী-ইসরাইলের জন্যে আদর্শ। আমি ইচ্ছা করলে তােমাদের থেকে ফেরেশতা সৃষ্টি করতাম, যারা পৃথিবীতে একের পর এক বসবাস করত। সুতরাং তা হল কেয়ামতের নিদর্শন। কাজেই তােমরা কেয়ামতে সন্দেহ করাে না” (সূরা যুখরুফ ৫৭-৬১)

আর এ কথা স্বতঃসিদ্ধ যে, দাজ্জাল হত্যার জন্য-ই ঈসা বিন মারিয়াম আ. আসমান হতে অবতরণ করবেন। সুতরাং পরস্পর বিপরীতমুখী একটা উল্লেখের মাধ্যমে অপরটার প্রয়ােজন নিঃশেষ হয়ে গেল।

যে সকল হাদিসে দাজ্জাল আবির্ভাবকে কেয়ামতের বৃহত্তম নিদর্শনরূপে চিহ্নিত করা হয়েছেঃ

হুযাইফা বিন উছাইদ গিফারী রা. থেকে বর্ণিত, নবী করীম সা. বলেন- “দশটি (বৃহৎ) নিদর্শন প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত কেয়ামত সংঘটিত হবে নাঃ ধূম্র, দাজ্জাল, অদ্ভুত প্রাণী, পশ্চিম দিগন্তে প্রভাতের সূর্যোদয়..." (মুসলিম)

আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, নবী করীম সা. বলেন- “কেয়ামতের তিনটি নিদর্শন- প্রকাশের পর নতুন কারাে ঈমান গ্রাহ্য হবে না, যদি না পূর্বে থেকে ঈমান এনে সৎকর্ম করে থাকে।” (মুসলিম)।


দাজ্জালের ফেতনা পৃথিবীর ইতিহাসে সর্ববৃহৎ ও সুপরিসর ফেতনা ইমরান বিন হুছাইন রা. থেকে বর্ণিত, নবী করীম সা. বলেন- “আদম আ. সৃজন থেকে নিয়ে কেয়ামত অবধি দাজ্জালের ফেতনা অপেক্ষা বৃহৎ ও সুপরিসর ফেতনা দ্বিতীয়টি হবে না।” (মুসলিম) ইবনে উমর রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন- একদা নবী করীম সা. মানুষের মাঝে ভাষণ দিতে দাড়ালেন। প্রথমে আল্লাহর যথাযথ প্রশংসা করলেন। অতঃপর দাজ্জালের বিষয়ে আলােচনা করতে গিয়ে বললেন- “আমার পূর্বে যত নবী পৃথিবীতে এসেছেন, সবাই এ সম্পর্কে সতর্ক করে গেছেন, আমিও তােমাদের সতর্ক করছি। তবে দাজ্জাল সম্পর্কে তােমাদের এমন তথ্য দিচ্ছি, যা ইতিপূর্বে কোন নবী দেননি? মনে রেখাে! দাজ্জাল কানা হবে। কিন্তু আল্লাহ পাক কানা নন।” (বুখারী)

নাওয়াছ বিন ছামআন রা. থেকে বর্ণিত, নবী করীম সা. বলেন- “দাজ্জাল। ছাড়া আরও একটি বিষয়ে আমি তােমাদের উপর অতি-শঙ্কিত। তবে দাজ্জাল যদি আমার বর্তমানে বের হয়, তবে তােমাদের হয়ে আমি-ই তার মুকাবেলা করব। আমার পর যদি বের হয়, তবে প্রতিটি মুমিন নিজেই তার মুকাবেলা
করবে। প্রতিটি মুসলমানের জন্য আল্লাহকে আমি প্রতিনিধি বানিয়ে গেলাম।” (মুসলিম)



মন্তব্য