ঈমান

কিয়ামতের বড় আলামত। প্রসঙ্গঃ দাজ্জাল। পর্ব-৬।

Alorpath 1 week ago Views:549

দাজ্জালের ভয়ে মানুষ সুদূর পাহাড়ে গিয়ে আশ্রয় নেবে।


কিয়ামতের বড় আলামত। প্রসঙ্গঃ দাজ্জাল। পর্ব-১

কিয়ামতের বড় আলামত। প্রসঙ্গঃ দাজ্জাল। পর্ব-২

কিয়ামতের বড় আলামত। প্রসঙ্গঃ দাজ্জাল। পর্ব-৩

কিয়ামতের বড় আলামত। প্রসঙ্গঃ দাজ্জাল। পর্ব-৪

কিয়ামতের বড় আলামত। প্রসঙ্গঃ দাজ্জাল। পর্ব-৫

বারমুডার প্রকৃত বাস্তবতা এবং দাজ্জালের সাথে এর সম্পর্কঃ

বারমুডা ট্রায়াঙ্গেলের কাহিনী অনেকাংশেই রূপকথার গল্প সদৃশ।

ভৌগােলিক অবস্থানঃ
পশ্চিম আটলান্টিক সমুদ্রে আমেরিকার প্রসিদ্ধ। ফ্লোরিডা শহরের দক্ষিণ-পূর্ব কোণে এটি। সুনির্দিষ্ট-রূপে মাক্সিক উপসাগর থেকে নিয়ে পশ্চিমে লিয়াের্ড দ্বীপ পর্যন্ত। অতঃপর লিয়াের্ড থেকে দক্ষিণে বারমুডা পর্যন্ত প্রায় তিনশ বসবাসযােগ্য ক্ষুদ্র দ্বীপপুঞ্জ নিয়ে অবস্থিত একটি বিশাল সামুদ্রিক এলাকা। বাহামার দ্বীপপুঞ্জ-ও এর অন্তর্ভুক্ত। অনেকের ধারণা- দাজ্জাল বারমুডায় অবস্থান করছে। অথচ হাদিসে দাজ্জালের প্রকাশস্থল খােরাস্থান বলা হয়েছে। 


বারমুডার পানিতে -জাহাজ/বিমান নিখোঁজ রহস্যঃ
উত্তর-পশ্চিম আটলান্টিক (সার্জেসাে) সমুদ্রের পানিতে (সাজেসাম) পিঞ্জীভূত প্রচুর স্রোতের সৃষ্টি হয়, যা সমুদ্র-পৃষ্ঠে চলমান জাহাজের গতিরােধ করে। সার্জেসাে সমুদ্রের পানি অস্বাভাবিক প্রশান্ত হওয়ায় সেখানে বাতাসের লেশমাত্রও থাকে না। কতিপয় গবেষক একে আতঙ্ক সাগর বা আটলান্টার সমাধিস্থল বলেও আখ্যায়িত করেছেন।ওখানকার সমুদ্রতলে প্রচুর ডুবন্ত জাহাজ পড়ে থাকার কথাও জানিয়েছে আন্তর্জাতিক সমুদ্র বিশেষজ্ঞ টীম।

বারমুডায় জাহাজ নিখোঁজ, সূচনাকালঃ
১৮৫০ সালের দিকে এখানে প্রায়। অর্ধশত জাহাজ অদৃশ্য হয়েছিল বলে জানা যায়। এর মধ্যে কতিপয় নাবিক শেষমুহুর্তে কিছু অস্পষ্ট বার্তা-ও প্রেরণে সক্ষম হয়েছিল, কিন্তু এগুলাের অর্থ অদ্যাবধি কেউ বুঝতে পারেনি। অধিকাংশ জাহাজ-ই ছিল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের। সর্বপ্রথম ইন-সার্জেন্ট নামক জাহাজ ৩৪০ জন যাত্রীসহ নিখোঁজ হয়। এর পরপরই ১৯৬৮ সনে স্কোরবিয়ন নামক সাবমেরিন ৯৯ জন বিশেষজ্ঞ সহ অদৃশ্য হয়।

বিমান নিখোঁজ, সূচনাকালঃ
বারমুডার আকাশে উডডয়নরত বিমান হঠাৎ গায়েব। এমন রহস্যপূর্ণ ঘটনাও প্রসিদ্ধ। ১৯৪৫ সালে ফ্লোরিডা এয়ারবিস থেকে ধ্বংসাবশেষ। একটি জাহাজের খোঁজে পাঁচটি বিমান আকাশে উড্ডয়ন করে। সবগুলাে বিমান কাছাকাছি অবস্থান নিয়ে। উড়ছিল। কিছুক্ষণ পর ক্যাপ্টেনদের কাছ থেকে এয়ারবিলে কিছু বার্তা-সংকেত প্রেরিত হয়ঃ -“আমরা এক অদ্ভুত পরিস্থিতির সম্মুখীন হয়েছি। মনে হয় সম্পূর্ণ দিকভ্রান্ত হয়ে গেছি। ভূ-পৃষ্ঠ আমাদের দৃষ্টিগােচর হচ্ছে না। কোথায় আছি, ঠিক বুঝতে পারছি না। মনে হচ্ছে, আকাশের কোথাও আমরা হারিয়ে গেছি। সবকিছু কেমন যেন অচেনা এবং অদ্ভুত মনে হচ্ছে। দিক ঠিক করতে পারছি না। সমুদ্রের পানি-ও বিস্ময়কর লাগছে। কিছুই বুঝতে‌ পারছি না...। এর পরপরই এয়ারবিসের সাথে তাদের যােগাযােগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। এছাড়া আরও বহু বিমান গায়েবের ঘটনা সেখানে ঘটেছে বলে প্রমাণ পাওয়া গেছে।

ট্রায়াঙ্গেলের সীমানায় রহস্যময় ঘটনা জনের কারণঃ
• ভূ-কম্পন তত্ত্ব। গবেষণায় জানা গেছে যে, ভূ-কম্পনের দরুন সমুদ্রের তলদেশে প্রচণ্ড ঝড় ও বিশালকায় তরঙ্গের সৃষ্টি হয়, যা অতি অল্প সময়ের ব্যবধানে বড় বড় জাহাজকেও সমুদ্রের গভীরে নিয়ে যেতে সক্ষম। এ সকল শক্তিশালী তরঙ্গের দরুন অনেক সময় আকাশে-ও আকর্ষন শক্তি ছড়িয়ে পড়ে। ফলে বিমান গায়েবের মত ঘটনা-ও সহজেই ঘটে যায়।
• বৈদ্যুতিক চুম্বক-তত্ত্ব। কতিপয় গবেষকদের দাবি- বারমুডার আকাশ দিয়ে অতিক্রমকালে বিমানের দিক-নির্ধারণ যন্ত্র (কম্পাস) আকস্মিক নিষ্ক্রিয় হয়ে যায়। ঠিক তেমনি জাহাজের কম্পাসে-ও এ ধরনের ঘটনা ঘটে। বুঝা গেল, সেখানকার পানিতে বিস্ময়কর তড়িৎ চুম্বকাকর্ষণ রয়েছে।


দাজ্জালের আবির্ভাব, কিছু প্রাসঙ্গিক লক্ষণঃ
আরব-জাতি হ্রাস উম্মে শারীক থেকে বর্ণিত, তিনি নবী করীম সা.কে বলতে শুনেছেন- “দাজ্জালের ভয়ে মানুষ সুদূর পাহাড়ে গিয়ে আশ্রয় নেবে। জিজ্ঞেস করলাম- সেদিন কোথায় থাকবে হে আল্লাহর রাসূল? নবীজী বললেন- তারা তাে সেদিন যৎসামান্য..!!” (মুসলিম)

-চলবে।



মন্তব্য