ঈমান

কিয়ামতের বড় আলামত। প্রসঙ্গঃ দাজ্জাল। পর্ব-৭

Alorpath 1 week ago Views:442

জেরুজালেমে স্থাপত্য গড়ে ওঠা মদিনা বিনাশের নিদর্শন। মদিনার বিনাশ মানে বিশ্বযুদ্ধের সূচনা। বিশ্বযুদ্ধের সূচনা মানে কনষ্ট্যান্টিপােল বিজয়। কনস্টান্টিনােপল বিজয় মানে দাজ্জালের আত্মপ্রকাশ।


কিয়ামতের বড় আলামত। প্রসঙ্গঃ দাজ্জাল। পর্ব-৪

কিয়ামতের বড় আলামত। প্রসঙ্গঃ দাজ্জাল। পর্ব-৫


বিশ্বযুদ্ধ এবং কনষ্ট্যান্টিনােপল বিজয়ঃ
মুয়ায বিন জাবাল রা. থেকে বর্ণিত, নবী করীম সা. বলেন- “জেরুজালেমে স্থাপত্য গড়ে ওঠা মদিনা বিনাশের নিদর্শন। মদিনার বিনাশ মানে বিশ্বযুদ্ধের সূচনা। বিশ্বযুদ্ধের সূচনা মানে কনষ্ট্যান্টিপােল বিজয়। কনস্টান্টিনােপল বিজয় মানে দাজ্জালের আত্মপ্রকাশ।” (আবু দাউদ, তিরমিযী)

আরাে কিছু বিজয়ঃ
নাফে বিন উতবা বিন আবি ওয়াক্কাস রা. থেকে বর্ণিত, নবী করীম সা. বলেন- “অচিরেই তােমরা আরব উপদ্বীপ যুদ্ধ করবে, আল্লাহ তােমাদেরকে বিজয়ী করবেন। অতঃপর পারস্যের (বর্তমান ইরান) বিরুদ্ধে যুদ্ধ করবে, আল্লাহ তােমাদেরকে বিজয়ী করবেন অতঃপর রােমানদের (তুরস্ক তথা বাইইন্টাইন বাহিনীর বিরুদ্ধে যুদ্ধ করবে, আল্লাহ তােমাদেরকে বিজয়ী করবেন। পরিশেষে দাজ্জালের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করবে, সেখানেও আল্লাহ তােমাদেরকে বিজয়ী করবেন।” (মুসলিম)


বৃষ্টি এবং ফসল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যাবেঃ
দাজ্জালের প্রকাশ-পূর্ব তিনটি বৎসর মহা-দুর্ভিক্ষ-পূর্ণ হবে। আবু উমামা বাহেলী রা. থেকে বর্ণিত, নবী করীম সা. বলেন- “দাজ্জালের পূর্বে তিনটি মহা-দুর্ভিক্ষময় বৎসর অতিবাহিত হবে। প্রাকৃতিক সকল খাদ্যোপকরণ ধ্বংস হয়ে গেলে মানুষ প্রচণ্ড খাদ্যাভাবে পড়ে যাবে। প্রথম বৎসর আল্লাহ আসমানকে এক তৃতীয়াংশ বৃষ্টি এবং জমিনকে এক তৃতীয়াংশ ফসল বন্ধ করে দেয়ার আদেশ করবেন। দ্বিতীয় বৎসর আল্লাহ আসমানকে দুই তৃতীয়াংশ বৃষ্টি এবং জমিনকে দুই তৃতীয়াংশ ফসল বন্ধ করে দেয়ার আদেশ করবেন। তৃতীয় বৎসর আল্লাহ আসমানকে সম্পূর্ণ বৃষ্টি এবং জমিনকে সম্পূর্ণ ফসল বন্ধ করে দেয়ার আদেশ করবেন। ফলে এক ফোটা বৃষ্টি-ও বর্ষিত হবে না। একটি শস্য-ও অঙ্কুরিত হবে না। আল্লাহ চাহেন তাে মুষ্টিমেয় ছাড়া সকল ছায়াদার বস্তু ধ্বংসের মুখে পড়ে নিঃশেষ হয়ে যাবে (অর্থাৎ গাছ, পালা এবং বৃক্ষকুল নিশ্চিহ্ন হয়ে যাবে)। সেদিন তাহলে মানুষ কি খেয়ে জীবন ধারণ করবে হে আল্লাহর রাসূল?' প্রশ্নের উত্তরে নবীজী বললেন- তাকবীর (আল্লাহু আকবার পাঠ) এবং তাহমীদ (আলহামুদিলাল্লাহ পাঠ) মানুষের পাকস্থলীতে খাদ্যের কাজ দেবে।” (ইবনে মাজা)

ফেতনার আধিক্য এবং পারস্পরিক বিচ্ছিন্নতাঃ
আব্দুল্লাহ বিন উমর রা. থেকে বর্ণিত, নবী করীম সা. এক দীর্ঘ হাদিসে বলেন- "...অতঃপর সচ্ছলতার ফেতনা, যার ধূম্র আমার পরিবারস্থ দাবীকারী ব্যক্তির পদ-নিচ থেকে সৃষ্টি হবে। মনে মনে ভাববে, সে আমার খুব কাছের। অবশ্যই নয়। শুধু খােদাভীরু ব্যক্তিরাই আমার বন্ধু। অতঃপর পাঁজরের হাড় যেমন নিতম্বের দিকে ঝুঁকে পড়ে, তেমনি সবাই একজন ব্যক্তির দিকে ঝুঁকে পড়বে (নেতা হিসেবে মেনে নেবে)। অতঃপর অন্ধকার ফেতনা, ফেতনাটি উম্মতের প্রতিটি সদস্যের গালে চপেটাঘাত করবে। যখনি বলা হবে- শেষ, তখনি আরাে বেড়ে যাবে। সে কালে সকালে ব্যক্তি মুমিন থাকবে আর বিকালে কাফের হয়ে যাবে। শেষ পর্যন্ত মানুষ দুটি দলে বিভক্ত হয়ে যাবেঃ (১) ঈমানের দল, যাতে কোন কপটতা থাকবে না। (২) নেফাকের দল, যেখানে কোন ঈমান থাকবে না। এরকম ঘটতে দেখলে ঐ দিন বা পরের দিন দাজ্জাল প্রকাশের অপেক্ষা কর।” (আবু দাউদ)

প্রায় ত্রিশ-জনের মত মিথুকের আত্মপ্রকাশঃ
ছামুরা বিন জুন্দুব রা. থেকে বর্ণিত, নবী করীম সা. বলেন- “কেয়ামত সংঘটিত হবে না, যতক্ষণ না ত্রিশ জনের মত মিথুকের আত্মপ্রকাশ ঘটে, এদের সর্বশেষ জন হচ্ছে কানা দাজ্জাল। তার বাম চোখটি সম্পূর্ণ মােচ্ছিত হবে।” (মুসনাদে আহমদ)

দাজ্জাল কিভাবে বের হবে?
তামিমে দারী রা.-এর সাথে দাজ্জাল এবং গুপ্তচরের বাক্যালাপ সম্বলিত হাদিস দ্বারা বুঝা যায় যে, দাজ্জাল কোন এক অচিন দ্বীপে লৌহ-শিকলে বাঁধা রয়েছে। নবীযুগে সে জীবিত ছিল। বিশাল দেহবিশিষ্ট। প্রায় ত্রিশ-জন সাথী-সঙ্গী সহ তামীমে দারী রা. দাজ্জালকে প্রত্যক্ষ করেছিলেন কথােপকথনের সময় সে নিজেই স্বীকার করেছে যে, সে-ই দাজ্জাল। শেষ জমানায় সে বাঁধন-মুক্ত হয়ে আত্নপ্রকাশ করবে।

দাজ্জাল বের হওয়ার কারণঃ
ইবনে উমর রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন- “একদা মদিনার কোন এক গলিতে ইবনে সাইয়াদের সাথে আমার সাক্ষাত ঘটে। তাকে উদ্দেশ্য করে কিছু কথা বললে গােস্বায় স্ফীত হয়ে সে বিশাল দেহাকার ধারণ করে। বােন হাফসা রা.-এর ঘরে প্রবেশ করলে তিনি আমাকে ধমকের সুরে বলেন- আল্লাহ তােমার সহায় হােন! ইবনে সাইয়াদকে তুমি উত্যক্ত কর কেন? তুমি কি জান না যে, নবী করীম সা. বলেছেন- নিশ্চয় দাজ্জাল রাগের বশবর্তী হয়ে আত্মপ্রকাশ করবে।” (মুসলিম)


ভ্রমণ-গতিঃ
নবী করীম সা.কে দাজ্জালের গতি সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন- “বাতাসে তাড়িত মেঘমালার ন্যায়” (মুসলিম) দাজ্জাল বিশ্বের প্রতিটি শহরে, প্রতিটি অঞ্চলে গিয়ে পৌঁছবে জাবের রা. থেকে বর্ণিত, নবী করীম সা. বলেন- “দ্বীনের দুরবস্থা এবং চরম মূর্খতা-যুগে দাজ্জাল আত্মপ্রকাশ করবে। পৃথিবীতে তার অবস্থান-মেয়াদ হবে চল্লিশ দিন। প্রথম দিনটি এক বৎসর, দ্বিতীয় দিনটি এক মাস, তৃতীয় দিনটি এক সপ্তাহ এবং অবশিষ্ট দিনগুলাে স্বাভাবিক দিনের মত হবে। দুই কানের মাঝে চল্লিশ গজের ব্যবধান- এমন গাঁধায় সে আরােহণ করবে। মানুষের কাছে এসে বলবে- “আমি তােমাদের পালনকর্তা!” (অথচ আল্লাহ -কানা নন!) তার দুই চোখের মাঝে , ১ (কাফের) লেখা থাকবে। শিক্ষিত অশিক্ষিত সকল মুমিন সেটি পড়তে পারবে। মক্কা-মদিনা ছাড়া প্রতিটি শহরে-প্রান্তরে সে পৌঁছুবে। মক্কা-মদিনার প্রতিটি দরজায় সেদিন আল্লাহ পাক ফেরেস্তাদের সমন্বয়ে প্রহরী নিযুক্ত করবেন। (মুসলিম)

-চলবে



মন্তব্য