ঈমান

কিয়ামতের বড় আলামত। প্রসঙ্গঃ দাজ্জাল। পর্ব-৮

Alorpath 1 week ago Views:301

দাজ্জালের সাথে পানি এবং আগুন থাকবে। সুতরাং তার পানি হবে প্রকৃত আগুন এবং আগুন হবে ঠাণ্ডা পানি।


কিয়ামতের বড় আলামত। প্রসঙ্গঃ দাজ্জাল। পর্ব-৫

কিয়ামতের বড় আলামত। প্রসঙ্গঃ দাজ্জাল। পর্ব-৬।

কিয়ামতের বড় আলামত। প্রসঙ্গঃ দাজ্জাল। পর্ব-৭ 


যে সকল স্থানে দাজ্জালের আগমন ঘটবে।

আনাছ রা. থেকে বর্ণিত, নবী করীম সা. বলেন- “মক্কা-মদিনা ব্যতীত পৃথিবীর এমন কোন শহর নেই, যেখানে দাজ্জাল গিয়ে পৌঁছবে না।” (বুখারী-মুসলিম)
অপর বর্ণনায়- “মদিনার ফেরেস্তা নিযুক্ত থাকে। দাজ্জাল এবং মহামারী মদিনায় প্রবেশ করতে পারবে না।” (বুখারী-মুসলিম)
নবী করীম সা. বলেন- “মদিনার উদ্দেশ্যে পূর্বদিক থেকে দাজ্জাল আসবে, এমনকি উহুদ পাহাড়ের অপর প্রান্তে সে অবস্থান নেবে।” (বুখারী)
অপর বর্ণনায়- “উহুদ পর্বতের চূড়ায় উঠে মসজিদে নববীর দিকে তাকিয়ে অনুসারীদের বলবে- তােমরা কি সাদা প্রাসাদটি দেখতে পাচ্ছ? (অর্থাৎ মসজিদে নববী) ফেরেস্তারা চেহারাকে শামের দিকে ঘুরিয়ে দেবেন। সেখানেই তার বিনাশ ঘটবে।" (মুসলিম)
মিহজান বিন আদরা রা, থেকে বর্ণিত, একদা ভাষণ-কালে নবী করীম সা. বলছিলেন- “পরিত্রাণ দিবস! পরিত্রাণ দিবস! পরিত্রাণ দিবস!, জিজ্ঞেস করা হল- পরিত্রাণ দিবস কি হে আল্লাহর রাসূল? বললেন- দাজ্জাল এসে উহুদ পর্বতে উঠে মদিনার দিকে তাকিয়ে অনুসারীদের বলবে- তােমরা কি ঐ সাদা প্রাসাদটি দেখতে পাচ্ছ? এটি আহমদের মসজিদ!- অতঃপর মদিনায় ঢুকতে চাইলে প্রবেশপথে তরবারি হাতে ফেরেস্তাদের দাঁড়ানাে দেখবে। -জুরুফ-এর মৃতভূমিতে গিয়ে সজোরে ভূমিতে আঘাত করবে। মদিনায় তখন তিনটি ভূ-কম্পন অনুভূত হবে। সকল পাপিষ্ঠ এবং মুনাফিক সেদিন মদিনা থেকে বেরিয়ে দাজ্জালের সাথে চলে যাবে। সেটাই পরিত্রাণ দিবস!" (মুসনাদে আহমদ)

আরবীতে -“সাবখা-” মৃতভূমিকে বলা হয়। সাধারণত মদিনার ভূমিকে সাবখা বলা হয়ে থাকে। তবে মদিনার উত্তর প্রান্তের ভূমির ক্ষেত্রে শব্দটি বেশী প্রয়ােগ হয়।
“জুরুফ-" মদিনা থেকে তিন মাইল উত্তরে একটি উপশহর। অনেকেই বলেছেন- শামের সড়ক থেকে কাসাসীন পর্যন্ত সম্পূর্ণ এলাকাকেই জুরুফ বলা হয়। ত্বরীক হাজ্জাজ থেকে শামের পথ শুরু, যা মাখীয-এর দিক থেকে জাবালে হাবশির দিকে এসেছে। বর্তমানে জুরুফকে বুহাই আল আযহার- বলা হয়ে থাকে। কিন্তু হাদিসের ভাষ্য অনুযায়ী জুরুফ বর্তমান মাররে কানাত পর্যন্ত বিস্তৃত হবে।
মােটকথা- উহুদ পর্বতের পেছনে কোন এক মৃতভূমিতে দাজ্জাল অবতরণ করে সজোরে মাটিতে আঘাত করবে। সেখানে অনেক রক্তিম উপপর্বত রয়েছে। ওখানে গেলে বাস্তবেই নবীজীর ভবিষ্যদ্বাণী স্মরণ হয়ে যায়। অপরদিকে তামিমে দারীর হাদিসে দাজ্জাল-ও বলেছিলঃ “আমি হলাম মাছীহ দাজ্জাল!অচিরেই আমাকে বাঁধন মুক্ত করে দেয়া হবে।আমি বের হয়ে চল্লিশ দিনে সারাবিশ্ব ভ্রমণ করব। কিন্তু মক্কা এবং তাইবা-য় আমাকে ঢুকতে দেয়া হবে না। যখনই এলাকা-দ্বয়ে ঢুকতে চাইব, তরবারি হাতে ফেরেস্তা আমাকে ধাওয়া করবে। সেদিন মক্কা-মদিনার প্রতিটি সড়কে ফেরেস্তারা প্রহরী থাকবে।”

দাজ্জালের ফেতনাঃ
নমুনা-১
হুজাইফা ইবনুল ইয়ামান রা. থেকে বর্ণিত, নবী করীম সা. বলেন- “দাজ্জালের সাথে স্বরচিত জান্নাত-জাহান্নাম থাকবে।
সুতরাং তার জাহান্নাম হবে প্রকৃত জান্নাত এবং জান্নাত প্রকৃত জাহান্নাম।" (মুসলিম)
অপর বর্ণনায়- “দাজ্জালের সাথে পানি এবং আগুন থাকবে। সুতরাং তার পানি হবে প্রকৃত আগুন এবং আগুন হবে ঠাণ্ডা পানি।” (বুখারী-মুসলিম)
আরাে বলেন- “আমি ভাল করেই জানি, দাজ্জালের সাথে কি থাকবে। তার সাথে দু-টি নদী থাকবে। দেখতে একটিকে সাদা পানি এবং অপরটিকে জ্বলন্ত আগুনের মত মনে হবে। তােমরা যদি দাজ্জালকে পেয়ে যাও, তবে তার আগুনে ঝাপ দিয়ে দিও!!” (মুসলিম)
অপর বর্ণনায়- “চোখ বন্ধ করে আগুনের মধ্যে মাথা ঢুকিয়ে পান করতে থেকো! কারণ, সেটি ঠাণ্ডা পানি।" (মুসলিম)

নমুনা-২
নাওয়াছ বিন ছামআন রা. থেকে বর্ণিত, নবী করীম সা. বলেন- “দাজ্জাল একদল লােকের কাছে এসে প্রভুত্বের দাবী করবে। লােকেরা তার দাবী মেনে নিলে দাজ্জাল আসমানকে বৃষ্টি দিতে বলবে, আসমান বৃষ্টি বর্ষণ করবে।জমিকে ফসল দিতে বলবে, জমি ফসল উদগত করবে। তাদের গবাদিপশু-গুলি চারণভূমি থেকে মােটাতাজা এবং দুধে পূর্ণ হয়ে ফিরবে। অতঃপর দাজ্জাল অপর একদল লােকের কাছে এসে প্রভুত্বের দাবী করবে।লােকেরা তা প্রত্যাখ্যান করলে তাদের জমিগুলাে অনুর্বর হয়ে যাবে, গবাদি পশুগুলি মরে যাবে। দাজ্জাল মৃত জমিতে গিয়ে বলবে- হে ভূমি! তুমি তােমার গুপ্ত রত্ন-ভাণ্ডার প্রকাশ করে দাও! তখন মৌমাছির ঝাপের মত সকল রত্ন-ভাণ্ডার বের হয়ে আসবে।” (মুসলিম)

নমুনী-৩
দাজ্জাল বেদুইনের কাছে এসে বলবে- “ওহে বেদুইন! আমি যদি তােমার মৃত পিতা-মাতাকে জীবিত করে দিই, তবে আমাকে প্রভু বলে মেনে নিতে তােমার কোন আপত্তি থাকবে? বেদুইন বলবে- না!! অতঃপর দু-জন শয়তান তার পিতা-মাতার আকৃতি ধারণ করে তাকে বলবে- ওহে বৎস! একে অনুসরণ কর! সে তােমার প্রভু!!” (মুস্তাদরাকে হাকিম)

আরো পড়ুন- ফজরের সালাতের বিবরণ।


নমুনা-৪
দাজ্জাল এক তরুণকে ডেকে এনে তরবারি দিয়ে দু- টুকরা করে দেবে। মানুষকে বলবে- ওহে লােকসকল। দেখ, আমার এই হতভাগা বান্দাকে আমি মরণ দিয়েছি, আবার জীবিত করে দেব, এরপর-ও সে মনে করবে, আমি তার প্রভু নই!! অতঃপর দাজ্জাল জীবিত হওয়ার আদেশ দিলে তরুণ জীবিত দাড়িয়ে যাবে। অথচ দাজ্জাল নয়; আল্লাহ-ই তাকে জীবিত করেছেন। দাজ্জাল বলবে- তােমার প্রভু কে? তরুণ বলবে- আমার প্রভু হচ্ছেন আল্লাহ! আর তুই হচ্ছিস আল্লাহর শত্রু দাজ্জাল!

-চলবে।



মন্তব্য