ইসলামের বিধি নিষেধ

প্রশ্নোত্তর। পর্ব ১১

Alorpath 6 months ago Views:173

প্রশ্নোত্তর। পর্ব ১১


প্রশ্নোত্তর। পর্ব ১০

(৫৫) আল্লাহর সুন্দর নামগুলো কোন্ বিষয়ের প্রমাণ বহন করে?

আল্লাহর সুন্দর নামগুলো তিনটি বিষয়ের প্রমাণ বহন করে।

() সরাসরি আল্লাহর সত্বার অস্তিত্বের প্রমাণ বহন করে।

() উক্ত নামগুলো হতে প্রাপ্ত সিফাত তথা গুণাবলীর উপর প্রমাণ বহন করে।

() উক্ত নামগুলো হতে প্রাপ্ত নয়, এমন অন্যান্য সিফাতের উপরও প্রমাণ বহন করে

(৫৬) উপরোক্ত বিষয়গুলো উদাহরণের মাধ্যমে বুঝিয়ে দিন

উদাহরণ স্বরূপ আল্লাহ্ তাআলার রাহমান রাহীম নাম দ্বয় উল্লেখ করা যেতে পারে। দুটি নাম তাঁর দ্বারা নামকরণকৃত সত্ববা তথা সরাসরি আল্লাহর সত্ববাকে বুঝায়। আর দুটি নাম তা থেকে নির্গত সিফাতকে (গুণকে) অন্তর্ভূক্ত করে। আর তা হচ্ছে আল্লাহর সীমাহীন রহমত। এমনিভাবে দুটি নাম আরো অনেক সিফাতকেও আবশ্যক করে। যেমন জীবন, ক্ষমতা ইত্যাদি। অন্যান্য সকল সিফাতের ব্যাপারে একই কথা

অপর পক্ষে মাখলুকের বিষয়টি সম্পূর্ণ ভিন্ন। দেখা যায় কখনও কোন মানুষের নাম রাখা হয় حَكيْم (মহাজ্ঞানী) অথচ সে একেবারেই মূর্খ, কারো নাম রাখা হয় حَكَمْ (ন্যায় বিচারক) অথচ সে যালেম, কারো নাম রাখা হয় عَزِيْز (সম্মানিত) অথচ সে লাঞ্জিত, কোন কোন মানুষের নাম রাখা হয় شَرِيف (অভিজাত) অথচ সে ইতর, কারো নাম রাখা হয় كَرِيْم (মর্যাদাবান) অথচ সে নিকৃষ্ট, কারো নাম রাখা হয় صَالِح (সৎকর্মপরায়ণ) অথচ সে অসৎকর্মপরায়ণ, কারো নাম রাখা হয় سَعِيْد (সৌভাগ্যবান) অথচ সে নিতান্ত হতভাগা। অনুরূপভাবে কারো নাম রাখা হয় أَسَدْ (বাঘ) অথচ সে বাঘের মত সাহসী নয়, কারো নাম রাখা হয় حَنْظَلَة (তিক্ত) অথচ সে খুবই মিষ্টভাষী, কারো নাম রাখা হয় عَلْقَمَة (এক প্রকার তিক্তফল) অথচ তার ব্যবহার তিক্ত নয়

অপর পক্ষে আল্লাহর সুন্দর নামগুলো যে অর্থ তাৎপর্য বহন করে তা পরিপূর্ণভাবে আল্লাহ্ তাআলার মধ্যে বিদ্যমান। যেমন আল্লাহ্ তাআলার রহমত সর্বত্র সকল সৃষ্টিকে ঘিরে আছে বলেই তাঁর নাম (الرَّحْمَن الرَّحِيْم) রাহমান রাহীম। তিনি সকল বস্ত্ত সৃষ্টি করেছেন বলেই তাঁর নাম খালেক (خَالِقْ) সৃষ্টিকর্তা। তিনি সর্ব বিষয় অবগত আছেন বলেই তাঁর নাম (عَلِيْم) মহাজ্ঞানী। আল্লাহর সকল নামের ক্ষেত্রে একই কথা

সুতরাং জানা গেল যে, আল্লাহর সত্ত্বা সমস্ত দোষ-ত্রুটি হতে সম্পূর্ণ মুক্ত। তিনি সেরকমই যেমন তিনি নিজের বর্ণনা দিয়েছেন। মানুষ যতই তাঁর গুণাগুণ বর্ণনা করুক না কেন, তিনি তার অনেক ঊর্ধ্বে


 (৫৭) বিভিন্ন অর্থকে শামিল করার দিক থেকে আসমায়ে হুস্না তথা আল্লাহর সুন্দর নামসমূহ কত প্রকার কি কি?

বিভিন্ন অর্থকে শামিল করার দিক থেকে আসমায়ে হুস্না তথা আল্লাহর সুন্দর নামসমূহ চার প্রকার। যথাঃ

প্রথমঃ এমন একটি খাস বা নির্দিষ্ট নাম, যা অন্যান্য সকল আসমায়ে হুসনার অর্থকে শামিল করে। আর সেই খাস নামটি হচ্ছেঃ আল্লাহ (الله) জন্যই অন্যান্য সকল নামআল্লাহ্নামের পরে সিফাত হিসাবে উল্লেখ করা হয়। আল্লাহ্ তাআলার বাণীঃ‘‘তিনিই আল্লাহ خَالِق (সৃষ্টিকারী), بَارِي (উদ্ভাবক) এবং مُصَوِّر (রূপদাতা)’’ (সূরা হাশরঃ ২৪) এখানেসৃষ্টিকারী’, ‘উদ্ভাবকএবংরূপদাতা’- এই তিনটি নামআল্লাহ্নামের অনুগামী হিসাবে উল্লেখিত হয়েছে। কিন্তুআল্লাহ্নামটি অন্য কোন নামের অনুগামী হিসাবে উল্লেখ হয় না

দ্বিতীয়ঃ আল্লাহর এমন কতিপয় নাম রয়েছে, যা আল্লাহ্ তাআলার সত্বাগত সিফাতকে আবশ্যক করে। যেমন আল্লাহ্ তাআলার سَمِيْع ‘শ্রবণকারীনামটি তাঁর শ্রবণ করা গুণটিকে আবশ্যক করে, যা সমস্ত আওয়াজকে শামিল করে। তাঁর নিকট প্রকাশ্য-অপ্রকাশ্য সব আওয়াজই সমান। তাঁর আর একটি নাম البصير ‘বাসীরঅর্থাৎ সর্বদ্রষ্টা। এই নামটি আল্লাহরদৃষ্টিগুণকে অন্তর্ভূক্ত করে। তিনি দৃশ্যমান অদৃশ্যমান সকল বস্ত্তই দেখেন। চাই সেটি অতি সূক্ষ্ম হোক বা প্রকাশমান হোক

আল্লাহর আরেকটি গুণবাচক নামক হচ্ছে عليم ‘মহাজ্ঞানী তাঁর জ্ঞান সমস্ত বিষয়কে বেষ্টন করে আছে। আল্লাহ তাআলা বলেনঃ‘‘আকাশমন্ডলী পৃথিবীতে অনুপরিমাণ কোন কিছুই তাঁর অগোচর নয়; কিংবা তার চেয়ে ক্ষুদ্র অথবা বড় কিছু’’ (সূরা সাবাঃ )

তাঁর আরেকটি নাম হল قَدِيرٌ (শক্তিমান) এটি সকল বিষয়ের উপর আল্লাহর ক্ষমতা থাকার প্রমাণ বহন করে। চাই সৃষ্টি করার ক্ষেত্রে হোক অথবা কোন কিছু ধ্বংস করার ব্যাপারে হোক

তৃতীয়ঃ কিছু কিছু নাম আছে, যা আল্লাহর কর্মগত গুণাগুণের প্রমাণ বহন করে। যেমঃ خَالِق (সৃষ্টিকারী), رَازِقْ (রিযিকদাতা), بَارِي (উদ্ভাবক), مُصَوِّر (রূপদাতা) ইত্যাদি

চতুর্থঃ আরো এমন কতিপয় নাম রয়েছে, যা প্রমাণ করে যে, আল্লাহ তাআলা সমস্ত দোষ-ত্রুটি হতে পবিত্র। যেমন قُدُّوس (সমস্ত ত্রুটি হতে অতীব পবিত্র) سَلَام (সমস্ত দোষ-ত্রুটি হতে মুক্ত)

মহান আল্লাহর ৯৯ নাম ও তার অর্থ

(৫৮) আল্লাহ্ তাআলার জন্য যে সমস্ত আসমায়ে হুস্না ব্যবহার করা হয়, তা কত প্রকার?

আল্লাহ্ তাআলার জন্য ব্যবহৃত হওয়ার দিক থেকে গুণবাচক নামগুলো দুই প্রকার। যথাঃ

 () যে সমস্ত নাম আল্লাহর জন্য এককভাবে অথবা অন্য একটি গুণবাচক নামের সাথে যুক্ত হয়ে ব্যবহৃত হয়। আর এগুলো সমস্ত নাম, তা যেভাবেই বলা হোক না কেন, তার দ্বারা আল্লাহর সিফাতে কামাল তথা পরিপূর্ণ গুণ বুঝায়। যেমন حَيُّ (চিরঞ্জীব) قَيُّوم (সব কিছুর ধারক), الأَحَد (একক), الصَّمَدُ (অমুখাপেক্ষী) তা ছাড়া ধরণের আরো অনেক গুনবাচক নাম রয়েছে

() যে সমস্ত নাম তার বিপরীত অর্থবোধক নাম উল্লেখ ছাড়া আল্লাহর জন্য ব্যবহার করা শোভা পায় না। সেগুলো যদি এককভাবে ব্যবহৃত হয়, তাহলে পূর্ণতার স্থলে অপূর্ণতা ত্রুটি বুঝায়।যেমন الضَّار النّاَفِع (ক্ষতিকারক কল্যাণকারী), الخَافِض الرَّافِع (নিচুকারী উত্তোলনকারী), الْمَانِع الْمُعْطِي (দাতা প্রতিরোধকারী), المُعِزُّ المُذِلُّّ (সম্মানদাতা অপমানকারী) ইত্যাদি

সুতরাং এককভাবে শুধু الضَّار ,الخَافِض , الْمَانِع এবং المُعِزُّ ব্যবহার করা জায়েয নেই। কুরআন বা হাদীছের কোথাও এগুলোর কোন একটিও এককভাবে ব্যবহৃত হয়নি। অনুরূপ আল্লাহ্ তাআলার مُنْتَفِم তথা প্রতিশোধগ্রহণকারী নামটিও তার সাথে সংশ্লিষ্ট বিষয় ব্যতীত বর্ণিত হয়নি। যেমন আল্লাহ্ তাআলার বাণীঃ

‘‘নিশ্চয়ই আমি অপরাধীদেরকে শাস্তি দিয়ে থাকি’’ (সূরা সিজদাঃ ২২) অথবা তা থেকে নির্গত সিফাতের দিকে ذو (যূ) শব্দ সম্বোধন ব্যতীত ব্যবহার করা হয়নি। আল্লাহ্ তাআলার বাণীঃ

‘‘আর আল্লাহ্ পরাক্রান্ত প্রতিশোধগ্রহণকারী’’ (সূরা আল-ইমরানঃ )



মন্তব্য