ইসলামের বিধি নিষেধ

প্রশ্নোত্তর। পর্ব ১৪

Alorpath 6 months ago Views:147

প্রশ্নোত্তর। পর্ব ১৪


প্রশ্নোত্তর। পর্ব ১৩

(৬৬) আল্লাহ তাআলা উপরে আছেন- হাদীছ থেকে কথার দলীল দিন

 

আল্লাহ্ তাআলা উপরে আছেন-হাদীছ শরীফে ব্যাপারে অগণিত দলীল রয়েছে

() আওআলের হাদীছে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেনঃ ‘‘তার উপর আল্লাহর আরশ আর আল্লাহ্ আরশের উপরে তিনি তোমাদের অবস্থা সম্পর্কে অবগত আছেন’’

আওআলের হাদীছের বিস্তারিত বিবরণ এই যে, আববাস বিন আব্দুল মুত্তালিব (রাঃ) বলেনঃ আমরা একদা নবী সাল্লাললাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাথে খোলা ময়দানে বসা ছিলাম তখন আমাদের মাথার উপর দিয়ে একটি মেঘখন্ড অতিক্রম করার সময় তিনি বললেনঃ তোমরা কি জান এটি কী? আমরা বললামঃ এটি একটি মেঘের খন্ড অতঃপর তিনি বললেনঃ তোমরা কি জান আকাশ পৃথিবীর মাঝখানের দূরত্ব কতটুকু? আমরা বললামঃ আল্লাহ্ তাঁর রাসূলই ভাল জানেন তিনি বললেনঃ উভয়ের মধ্যে রয়েছে পাঁচশত বছরের দূরত্ব এমনি প্রত্যেক আকাশ তার পরবর্তী আকাশের মধ্যবর্তী দূরত্ব হচ্ছে পাঁচশত বছরের পথ এভাবে সপ্তম আকাশের উপর রয়েছে একটি সাগর সাগরের গভীরতা হচ্ছে আসমান যমীনের মধ্যবতী দূরত্বের সমান সাগরের উপরে রয়েছে আটটি ওয়া-ইল (পাহাড়ী পাঠা বা পাঠার আকৃতিতে আটজন ফেরেশতা) তাদের হাঁটু থেকে পায়ের খুর পর্যন্ত দূরত্ব আসমান যমীনের মধ্যবতী দূরত্বের সমান তারা আল্লাহর আরশ পিঠে বহন করে আছেন আরশ এত বিশাল যে, তার উপরের অংশ থেকে নীচের অংশের দূরত্ব হচ্ছে আসমান যমীনের মধ্যবতী দূরত্বের সমান আর আল্লাহ্ তাআলা হচ্ছেন আরশের উপরে

() সা বিন মুআয যখন বনী কুরায়যার ব্যাপারে ফয়সালা দান করলেন, তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁকে উদ্দেশ্য করে বললেনঃ তুমি তাদের ব্যাপারে সেই ফয়সালা করেছ, যা সাত আসমানের উপর থেকে আল্লাহ্ তাআলা করেছেন’’[2]

() নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম একদা জনৈক দাসীকে বললেনঃ আল্লাহ্ কোথায়? দাসী বললঃ আকাশে। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তখন দাসীর মালিককে বললেনঃ তুমি তাকে মুক্ত করে দাও। কারণ সে মুমিন’’[3]

() আল্লাহ্ তাআলা আকাশের উপরে। মিরাজের ঘটনায় বর্ণিত হাদীছগুলো তার সুস্পষ্ট দলীল

() পালাক্রমে ফেরেশতাদের দুনিয়াতে আগমণের হাদীছেও আল্লাহ্ তাআলা আকাশের উপরে বিরাজমান হওয়ার দলীল রয়েছে। হাদীছের বিস্তারিত বিবরণ এই যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেনঃ ‘‘তোমাদের নিকট রাতে একদল ফেরেশতা এবং দিনে একদল ফেরেশতা পালাক্রমে আগমণ করে থাকে তারা ফজর আসরের নামাযের সময় একসাথে একত্রিত হয় অতঃপর তোমাদের কাছে যে দলটি ছিল, তারা উপরে উঠে যায় মহান আল্লাহ জানা সত্ত্বেও তাদেরকে জিজ্ঞেস করেনঃ আমার বান্দাদেরকে কি অবস্থায় ছেড়ে এসেছ? তাঁরা বলেনঃ আমরা তাদেরকে নামায অবস্থায় ছেড়ে এসেছি এবং যখন তাদের কাছে গিয়েছিলাম, তখন তারা নামাযেই ছিল

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আরও বলেনঃ ‘‘যে ব্যক্তি বৈধভাবে উপার্জিত সম্পদ হতে একটি খেজুর পরিমাণ সম্পদ দান করে, আর আল্লাহর নিকট তো পবিত্র ব্যতীত কোন কিছুই উর্ধ্বমুখী হয় না, আল্লাহ্ দান স্বীয় ডান হাতে গ্রহণ করেন অতঃপর তিনি তা দানকারীর জন্য প্রতিপালন করতে থাকেন যেভাবে তোমাদের কেউ নিজের ঘোড়ার বাচ্চাকে প্রতিপালন করে থাকে শেষ পর্যন্ত দান পাহাড় সমুতল্য হয়ে যায়’’

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেনঃ ‘‘আল্লাহ তাআলা যখন আকাশে কোন বিষয়ে ফয়সালা করেন, তখন ফেরেশতাগণ আল্লাহর উক্ত ফয়সালার প্রতি অনুগত হয়ে তাদের পাখাসমূহ এমনভাবে নাড়াতে থাকেন যার ফলে শক্ত পাথরে শিকল দিয়ে প্রহার করলে যে ধরণের আওয়াজ হয় সে রকম আওয়াজ হতে থাকে’’

আল্লাহ তাআলা আকাশের উপরে- জাহমীয়া ফির্কা ব্যতীত কেউ তা অস্বীকার করেনি


(৬৭) সালাফে সালেহীন তথা পূর্ববর্তী সৎকর্মশীল ইমামগণ الاستواء অর্থাৎ আরশের উপর আল্লাহ্ তাআলার সমুন্নত হওয়া সম্পর্কে কি বলেছেন?

 

সালাফে সালেহীনের সমস্ত ইমাম ব্যাপারে একমত যে, আরশের উপরে আল্লাহর সমুন্নত হওয়া একটি জানা বিষয় এর পদ্ধতি কেউ অবগত নয় তার উপরে ঈমান আনয়ন করা ওয়াজিব তবে এব্যাপারে জিজ্ঞাসা করা বিদ্আত আল্লাহর পক্ষ হতে আমাদের জন্য রিসালাত এসেছে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহিল ওয়া সাল্লাম তা উম্মাতের নিকট পৌঁছিয়ে দিয়েছেন আমাদের কর্তব্য হচ্ছে তা বিশ্বাস করা মেনে নেয়া পূর্ববর্তী সৎকর্মপরায়ণ ইমামগণ সকল আসমা সিফাতের (নাম গুণাবলীর) আয়াত হাদীছসমূহের ক্ষেত্রে কথাই বলেছেন

 

আল্লাহ্ তাআলা বলেনঃ ‘‘আর যারা জ্ঞানে সুগভীর তারা বলেনঃ আমরা তার প্রতি ঈমান আনয়ন করেছি সবই আমাদের প্রতিপালকের পক্ষ হতে’’ (সূরা আল-ইমরানঃ )

 

আল্লাহ্ তাআলা আরও বলেনঃ ‘‘আমরা ঈমান এনেছি আল্লাহর প্রতি আর আপনি সাক্ষী থাকুন যে, আমরা মুসলমান’’ (সূরা আল-ইমরানঃ ৫২)

১০০ জাল হাদিস

 

(৬৮) আল্লাহর ক্ষমতা সবার উপরে, কিতাবুল্লাহ্ থেকে এর দলীল কি?

 

আল্লাহর ক্ষমতা সবার উপরে মর্মে অনেক দলীল বিদ্যমান

 

আল্লাহ্ তাআলা বলেনঃ ‘‘তিনিই পরাক্রান্ত বিজয়ী স্বীয় বান্দাদের উপর’’ (সূরা আনআমঃ ১৩) এই আয়াতটি আল্লাহর ক্ষমতা সবার উপর এবং আল্লাহ্ স্বীয় সত্বায় সকল সৃষ্টির উপরে উভয়ের প্রমাণ বহন করে

 

আল্লাহ্ তাআলা আরো বলেনঃ ‘‘তিনি পবিত্র তিনিই আল্লাহ্ তিনি এক পরাক্রমশালী’’ (সূরা যুমারঃ )

 

তিনি আরো বলেনঃ ‘‘আজ রাজত্ব কার? এক প্রবল পরাক্রান্ত আল্লাহর’’ (সূরা গাফেরঃ ১৬)

 

আল্লাহ্ তাআলা আরও বলেনঃ ‘‘বলুন! আমি তো একজন সতর্ককারী মাত্র আর এক পরাক্রমশালী আল্লাহ্ ব্যতীত অন্য কোন সত্য মাবুদ নেই’’ (সূরা সোয়াদঃ ৬৫)

 

আল্লাহ্ তাআলা আরো বলেনঃ ‘‘পৃথিবীর বুকে বিচরণকারী এমন কোন প্রাণী নেই, যা তাঁর পূর্ণ আয়ত্তাধীন নয়’’ (সূরা হুদঃ ৫৬)

 

আল্লাহ্ তাআলা আরো বলেনঃ ‘‘হে জিন মানব জাতি! আকাশমন্ডলী পৃথিবীর প্রান্ত অতিক্রম করা যদি তোমাদের সাধ্যে কুলায় তবে অতিক্রম কর কিন্তু তোমরা তা পারবে না, শক্তি ব্যতিরেকে’’ (সূরা আর্ রাহমানঃ ৩৩) এছাড়া আরো অনেক আয়াত রয়েছে



মন্তব্য