ইসলামের বিধি নিষেধ

প্রশ্নোত্তর। পর্ব ১৫

Alorpath 6 months ago Views:127

প্রশ্নোত্তর। পর্ব ১৫


প্রশ্নোত্তর। পর্ব ১৪

(৬৯) আল্লাহর ক্ষমতা সবার উপরে- হাদীছ থেকে এর দলীল কি?

 

হাদীছে বিষয়ের উপর যথেষ্ট দলীল রয়েছে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেনঃ ‘‘হে আল্লাহ! আমি আপনার পৃথিবীর বুকে বিচরণকারী সকল প্রাণীর অনিষ্ট হতে আপনার নিকট আশ্রয় চাই এগুলোর সবই আপনার পূর্ণ আয়ত্তাধীন’’

 

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আরও বলেনঃ ‘‘হে আল্লাহ! আমি আপনার বান্দা এবং আপনার এক বান্দা বান্দীর পুত্র আমার কপাল আপনার হাতে আমার উপর আপনার হুকুম কার্যকর হয় আমার ব্যাপারে আপনার ফয়সালাই ইনসাফপূর্ণ’’

 

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম দুআয়ে কুনূতে বলেতেনঃ ‘‘কেননা আপনিই তো নির্ধারক, আপনার উপর কেউ নির্ধারণ করতে পারে না আপনি যাকে বন্ধু হিসাবে গ্রহণ করেছেন কেউ তাঁকে অপমানিত করতে পারে না আপনি যার শত্রুতা করেছেন সে কখনও সম্মানিত হতে পারে না’’ ছাড়াও আরো হাদীছ রয়েছে

 

(৭০) আল্লাহর শান তথা মর্যাদা সবার উপরে- এর দলীল কি? আল্লাহ্ তাআলাকে কোন্ কোন্ জিনিষ হতে পাক পবিত্র বিশ্বাস করতে হবে?

 

মনে রাখা উচিৎ যে, আল্লাহ্ তাআলার এই নামগুলো যেমন قُدُّوس - কুদ্দুস, سَلَام - সালাম, الكبير আল-কাবীর, المتعال - আল-মুতাআল এবং অর্থে অন্যান্য যত নাম আছে তার সমস্ত পরিপূর্ণ গুণ তাঁর উচ্চ মর্যাদার প্রমাণ বহন করে

সুতরাং আল্লাহর পরিপূর্ণ রাজত্বের মধ্যে অন্য কারো কোন অংশ নেই, আল্লাহর কোন সাহায্যকারী নেই বা তাঁর অনুমতি ব্যতীত তাঁর নিকট কোন সুপারিশকারী অথবা তাঁর বিরুদ্ধে আশ্রয় দাতা নেই

তাঁর মহত্ম, মহিমা, রাজত্ব প্রতাপ সমুচ্চ। সুতরাং তাঁর কোন বিরোধী নেই, তাঁকে পরাজিত করার বা তাঁর উপর বিজয়লাভকারী কেউ নেই এবং তিনি দুর্দশাগ্রস্ত নন, যে কারণে তাঁর কোন সাহায্যকারীর প্রয়োজন হতে পারে

তিনি কাউকে সঙ্গিনী, সন্তান, পিতা, সাদৃশ্য সমকক্ষ হিসাবে গ্রহণ করার অনেক উর্ধে পবিত্র এবং সব হতে সম্পূর্ণ অমুখাপেক্ষী

পরিপূর্ণতায় তিনি সমুন্নত, তাঁর হায়াত পরিপূর্ণ, তিনি চিরন্তন এবং তাঁর ক্ষমতা সকলের উর্ধে। তিনি মৃত্যু, নিদ্রা, তন্দ্রা, ক্লান্তি এবং অপারগতা থেকে সম্পূর্ণ পবিত্র

তাঁর পরিপূর্ণ জ্ঞান গাফিলতী ভ্রান্তি থেকে সম্পূর্ণ মুক্ত। আসমান যমীনে একটি সরিষার দানা পরিমাণ জিনিষও তাঁর জ্ঞানের বাইরে নয়

তাঁর বিচক্ষণতা পরিপূর্ণ প্রশংসনীয়। অযথা কোন জিনিষ সৃষ্টি করা এবং সৃষ্টিকে আদেশ-নিষেধ, পুনরুত্থান প্রতিদান দেয়া ব্যতীত ছেড়ে দেয়া থেকেও তিনি পবিত্র

তাঁর ইনসাফ পরিপূর্ণ। তিনি কাউকে বিন্দু পরিমাণ যুলুম করা কারো নেকী থেকে সামান্য পরিমাণ কমানো থেকেও পবিত্র। তিনি সম্পূর্ণ অমুখাপেক্ষী। তিনি পানাহার থেকে সম্পূর্ণ পবিত্র। কোন বিষয়ে অপরের প্রতি মুখাপেক্ষী হওয়া থেকেও পবিত্র

তিনি নিজেকে যেসমস্ত গুণে গুণান্বিত করেছেন বা তাঁর রাসূল তাঁকে যেসমস্ত গুণে গুণান্বিত করেছেন, তার উপমা পেশ করা তা বাতিল করা হতে তিনি সম্পূর্ণ পবিত্র

তিনি পবিত্র, ক্ষমতাবান, সম্মানিত, বরকতময়, সমুন্নত। তাঁর এবাদত, প্রভুত্ব সুন্দর নাম মহা গুণাবলীর সাথে অসামঞ্জস্যপূর্ণ সকল বস্ত্ত হতে মুক্ত।

আল্লাহ্ তাআলা বলেনঃ ‘‘আকাশ পৃথিবীতে তাঁরই জন্যে রয়েছে সুমহান দৃষ্টান্ত এবং তিনিই পরাক্রমশালী প্রজ্ঞাময়’’ (সূরা রূমঃ ২৭) মোটকথা উপরোক্ত বিষয়ে কুরআন হাদীছের দলীলসমূহ সকলেরই জ্ঞাত এবং তার সংখ্যা অপরিসীম

নিষিদ্ধ বিষয়সমূহে লিপ্ত হওয়ার কারণ

(৭১) আল্লাহর সুন্দর নামসমূহের ব্যাপারে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর বাণীঃ আল্লাহ তাআলার নিরানব্বইটি নাম রয়েছে, যে উহা গণনা করবে সে জান্নাতে প্রবেশ করবে- একথার অর্থ কি?

 

রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামএর উক্ত বাণীটিকে কয়েকভাবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে

() এখানে (أحصاها) গণনা করার অর্থ হল তা মুখস্থ করা, এগুলোর উসীলা দিয়ে দু করা এবং এই নামগুলো দিয়ে আল্লাহ প্রশংসা করা

() আল্লাহর গুণবাচক নামগুলোর মধ্যে থেকে কতিপয় নামের মধ্যে এমন গুণাবলী বিদ্যমান, যা দ্বারা বান্দা গুণান্বিত হতে পারে। যেমন رَحِيْم (রাহীম) كَرِيْم (কারীম) এদুটি নামের অর্থ হচ্ছে দয়াবান করুণাময়। বান্দা এসকল গুণে নিজেকে গুণান্বিত করার চেষ্টা করবে। তবে বান্দার ক্ষেত্রে যে ধরণের দয়া করুণা প্রযোজ্য, বান্দা সে রকমই দয়াবান করুণাময় হতে পারে। আর আল্লাহ্ যেমন মহান, বড়, তাঁর করুণা এবং রহমতও তত বড়

আর যেসমস্ত নাম আল্লাহ্ তাআলার জন্য নির্দিষ্ট, যেমন আল-জাববার, আল-আযীম আল-মুতাকাবিবর তা স্বীকার করা তার মর্মার্থের সামনে মস্তক অবনত করা এবং সমস্ত গুণাবলী দ্বারা গুণান্বিত করা থেকে বান্দা নিজেকে দূরে রাখবে

আর যেসমস্ত নামের মধ্যে ক্ষমা, দয়া, করুণা দান করার অঙ্গীকার রয়েছে, বান্দার উচিত সে সমস্ত গুণাবলী দ্বারা নিজেকে বৈশিষ্টমন্ডিত করার চেষ্টা করা

আর যেসমস্ত নামের মধ্যে কঠিন শাস্তির ধমকি রয়েছে, যেমন পরাক্রমশালী, প্রতিশোধ গ্রহণকারী, কঠিন শাস্তি দাতা, দ্রুত হিসাব গ্রহণকারী, বান্দার উচিত সমস্ত ক্ষেত্রে ভীত-সন্ত্রস্ত হওয়া

() আল্লাহর গুণবাচক নামগুলোর অন্য এক অর্থ এই যে, অন্তর দিয়ে আল্লাহর সিফাতগুলো উপলদ্ধি করবে এবং ইবাদতের মাধ্যমে তার হক আদায় করবে। এর উদাহরণ হল, যে ব্যক্তি সাক্ষ্য দিবে যে, আল্লাহ সৃষ্টিকুলের উপরে এবং আরশের উপরে বিরাজমান এবং কথার সাক্ষ্য দিবে যে, আল্লাহ্ তাআলা স্বীয় জ্ঞান ক্ষমতার মাধ্যমে সমস্ত মাখলুককে ঘিরে আছেন সে এই সিফাতটির দাবী অনুযায়ী আল্লাহর ইবাদত করবে এবং তার অন্তরে এমন একজন অমুখাপেক্ষী সত্বার আহবান অনুভব করবে, যার কারণে বান্দা তাঁর দিকে ছুটে যেতে চাইবে, তাঁর নিকটই মুনাজাত করবে। একজন নগণ্য চাকর যেমন প্রতাপশালী বাদশার সামনে দাঁড়িয়ে থাকে সে ঠিক তেমনভাবে তাঁর সামনে মাথা নত করে দাঁড়িয়ে থাকবে। সে অনুভব করবে যে, তার সমস্ত কথা কাজ আল্লাহর কাছে পেশ করা হচ্ছে। তাই সে তার এমন কথা কাজ আল্লাহর কাছে পেশ হওয়া থেকে লজ্জাবোধ করবে, যার কারণে সে আল্লাহর নিকট অপমানিত লজ্জিত হতে পারে। সে প্রতি নিয়ত বিশ্বের প্রতিটি স্থানে বিভিন্ন প্রকার ব্যবস্থাপনা পরিচালনা সহকারে আল্লাহর আদেশ-নিষেধ অবতরণ প্রত্যক্ষ করবে। তাঁর রাজত্বের মধ্যে তিনি ব্যতীত অন্য কারো সামান্যতম কর্তৃত্ব করার অধিকার নেই। যেভাবে ইচ্ছা তিনি সেভাবেই তাঁর হুকুম-আহকাম কার্যকর করেন। যেমন কাউকে জীবিত করা, কাউকে মৃত্যু দান করা, কাউকে সম্মানিত করা, কাউকে অপমানিত করা, কাউকে নীচে নামানো, কাউকে উপরে উঠানো, কাউকে দান করা, কাউকে বঞ্চিত করা, কারো মুসীবত দূর করা, মুসীবতে ফেলে কাউকে পরীক্ষা করা এবং মানুষের মধ্যে কালের আবর্তন-বিবর্তন ঘটানো ইত্যাদি।

আল্লাহ্ তাআলা বলেনঃ ‘‘তিনি আকাশ থেকে যমীন পর্যন্ত সমস্ত কর্ম পরিচালনা করেন অতঃপর প্রতিটি বিষয় তাঁর দিকেই উর্ধমুখী হবে এমন একদিনে যার পরিমাণ তোমাদের গণনায় হাজার বছরের সমান’’ (সূরা সিজদাহঃ )

সুতরাং যে বান্দা ঈমান এবাদতের মাধ্যমে আল্লাহর উপরোক্ত গুণাবলীর হক পূর্ণরূপে আদায় করবে, সে সমস্ত সৃষ্টি জগতের প্রতি নিজেকে অমুখাপেক্ষী মনে করবে এবং আল্লাহই তার জন্য যথেষ্ট হবেন। এমনিভাবে যে ব্যক্তি আল্লাহর পরিপূর্ণ জ্ঞান, শ্রবণ, দৃষ্টি, জীবন সব কিছুর রক্ষণাবেক্ষণ ইত্যাদি গুণাবলী উপলদ্ধি করতে সক্ষম হবে, তাঁর জন্যে আল্লাহই যথেষ্ট। তবে এই নেয়ামত কি সকলেই অর্জন করতে পারে? কখনই নয়। এটি শুধু আল্লাহর নৈকট্যশীল এবং সৎকর্মের দিকে প্রতিযোগিতাকারীদের জন্যই অর্জিত হয়ে থাকে



মন্তব্য