ইসলামের বিধি নিষেধ

প্রশ্নোত্তর। পর্ব ১৭

Alorpath 6 months ago Views:114

প্রশ্নোত্তর। পর্ব ১৭


প্রশ্নোত্তর। পর্ব ১৬

(৭৭) আসমানী কিতাবের প্রতি ঈমান আনয়নের দলীল কী?

 

আসমানী কিতাবের প্রতি ঈমান আনয়ন করা ঈমানের অন্যতম রুকন মর্মে অনেক দলীল রয়েছে

আল্লাহ তাআলা বলেনঃ ‘‘হে মুমিনগণ! তোমরা বিশ্বাস স্থাপন কর আল্লাহর প্রতি, তাঁর রাসূলের প্রতি এবং কিতাবের প্রতি, যা তিনি তাঁর রাসূলের উপর অবতীর্ণ করেছেন এবং কিতাবের প্রতি যা পূর্বে অবতীর্ন করেছিলেন (সূরা নিসাঃ ১৩৬) আল্লাহ তাআলা বলেনঃ ‘‘তোমরা বলঃ আমরা ঈমান এনেছি আল্লাহর প্রতি এবং যা অবতীর্ণ হয়েছে আমাদের প্রতি এবং যা অবতীর্ণ হয়েছে ইবরাহীম, ইসমাঈল, ইসহাক, ইয়াকুব এবং তাদের বংশধরের প্রতি এবং মুসা, ঈসা অন্যান্য নবীগণকে তাদের পালনকর্তার পক্ষ হতে যা দান করা হয়েছে সেগুলোর উপর তাদের কারো মাঝে পার্থক্য করি না’’ (সূরা বাকারাঃ ১৩৬) ছাড়া আরো অনেক আয়াত রয়েছে তবে ক্ষেত্রে আল্লাহর এই বাণীটিই যথেষ্ট আল্লাহ তাআলা আরও বলেনঃ ‘‘বলুনঃ আল্লাহ যে কিতাব অবতীর্ণ করেছেন, আমি তাতে বিশ্বাস করি’’ (সূরা শুরাঃ ১৫)

 

৭৮) কুরআনে কি সমস্ত আসমানী কিতাবের উল্লেখ আছে?

 

আল্লাহ তাআলা কুরআন মজীদে যে সমস্ত কিতাবের নাম উল্লেখ করেছেন, তা হচ্ছে তাওরাত, ইনজীল, যাবুর, ইবরাহীম (আঃ)এর পুস্তিকাসমূহ এবং মুসা (আঃ) এর পুস্তিকাসমূহের কথা বিস্তারিতভাবে উল্লেখ করা হয়েছে ছাড়া বাকি কিতাবগুলোর কথা সংক্ষিপ্তভাবে উল্লেখ করা হয়েছে

আল্লাহ তাআলা বলেনঃ ‘‘আল্লাহ ছাড়া কোন সত্য মাবুদ নেই তিনি চিরঞ্জীব, সব কিছুর রক্ষণাবেক্ষণকারী তিনি সত্যতার সাথে আপনার প্রতি কিতাব নাযিল করেছেন, যা সত্যায়ন করে পূর্ববর্তী কিতাবসমূহের তিনি ইতিপূর্বে তাওরাত ইনজীল অবতীর্ণ করেছিলেন’’ (সূরা আল ইমরানঃ -)

আল্লাহ তাআলা আরও বলেনঃ ‘‘আর আমি দাউদকে যাবুর প্রদান করেছি’’ (সূরা নিসাঃ ১৬৩)

আল্লাহ তাআলা আরও বলেনঃ ‘‘এবং তাকে কি জানানো হয় নি যা আছে মুসার কিতাবে এবং ইবরাহীমের কিতাবে যিনি পূর্ণ করেছিলেন স্বীয় অঙ্গীকার’’ (সূরাঃ নাজ্মঃ ৩৬-৩৭)

আল্লাহ তাআলা বলেনঃ ‘‘নিশ্চয়ই আমি আমার রাসূলদেরকে প্রেরণ করেছি স্পষ্ট প্রমাণসহ এবং তাদের সাথে নাযিল করেছি কিতাব তুলাদন্ড, যাতে মানুষ ইনসাফ প্রতিষ্ঠা করে’’ (সূরা হাদীদঃ ২৫)

আল্লাহ তাআলা আরও বলেনঃ ‘‘বলুনঃ আল্লাহ যে কিতাব অবতীর্ণ করেছেন, আমি তাতে বিশ্বাস করি’’ (সূরা শুরাঃ ১৫) মোট কথা এই যে, আল্লাহ তাআলা যে সমস্ত আসমানী কিতাবের কথা সুস্পষ্ট বিস্তারিতভাবে উল্লেখ করেছেন, সেগুলোর প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করা আবশ্যক আর যেগুলো সংক্ষিপ্তভাবে উল্লেখিত হয়েছে, সেগুলোর প্রতিও ঈমান আনয়ন আবশ্যক সুতরাং ব্যাপারে আমরা তাই বলব, যা আল্লাহ তাআলা তাঁর রাসূলকে নির্দেশ দিয়েছেন

আল্লাহ তাআলা বলেনঃ ‘‘বলুনঃ আল্লাহ যে কিতাব অবতীর্ণ করেছেন, আমি তাতে বিশ্বাস করি’’ (সূরা শুরাঃ ১৫)


 

৭৯) আল্লাহর কিতাবসমূহের প্রতি বিশ্বাস স্থাপনের অর্থ কী?

 

আল্লাহর কিতাবের প্রতি ঈমান আনয়নের অর্থ হল, দৃঢ় বিশ্বাস পোষণ করা যে সমস্ত আসমানী কিতাবই মহান আল্লাহর নিকট থেকে অবতীর্ণ হয়েছে এবং আল্লাহ তাআলা সমস্ত কিতাবের মাধ্যমে কথা বলেছেন

() আল্লাহর তাআলার কতক কালাম ফেরেশতার মাধ্যম ব্যতীত পর্দার অন্তরাল থেকে শ্রবণ করা হয়েছে।

() আল্লাহর কিছু কালাম ফেরেশতাগণ মানব জাতির রাসূলদের কাছে পৌঁছিয়ে দিয়েছেন

() আল্লাহর এমন কিছু কালাম রয়েছে, যা তিনি নিজ হাতে লিপিবদ্ধ করেছেন।

আল্লাহ্ তাআলা বলেনঃ ‘‘কোন মানুষের জন্য অসম্ভব যে, আল্লাহ তার সাথে কথা বলবেন; কিন্তু অহীর মাধ্যমে ছাড়া অথবা পর্দার আড়াল থেকে অথবা তিনি এমন কোন দূত প্রেরণ করবেন, যে দূত তাঁর অনুমতিক্রমে তিনি যা চান তা ব্যক্ত করবেন’’ (সূরা শুরাঃ ৫১)

আল্লাহ তাআলা মুসা (আঃ)কে উদ্দেশ্য করে বলেনঃ ‘‘আমি তোমাকে আমার রিসালাত আমার সাথে বাক্যালাপের জন্য লোকদের মধ্যে হতে মনোনিত করেছি’’ (সূরা রাফঃ ১৪৪)

আল্লাহ তাআলা আরো বলেনঃ ‘‘আর আল্লাহ তাআলা মুসার সাথে সরাসরি কথা বলেছেন’’ (সূরা নিসাঃ ১৬৪)

আল্লাহ তাআলা তাওরাত কিতাব সম্পর্কে বলেনঃ ‘‘অতএব আমি ফলকের উপর প্রত্যেক প্রকারের উপদেশ এবং সর্ব বিষয়ে সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা লিখে দিয়েছি’’ (সূরা রাফঃ ১৪৫)

ঈসা (আঃ) সম্পর্কে আল্লাহ তাআলা আরো বলেনঃ ‘‘আর আমি তাঁকে ইনজীল প্রদান করেছি’’ (সূরা মায়িদাঃ ৪৬)

আল্লাহ তাআলা আরো বলেনঃ ‘‘আর আমি দাউদকে যাবুর প্রদান করেছি’’ (সূরা নিসাঃ ১৬৩)

আল্লাহ তাআলা কুরআন সম্পর্কে বলেনঃ ‘‘কিন্তু আল্লাহ আপনার প্রতি যা অবতীর্ণ করেছেন, তিনি যে সজ্ঞানেই অবতীর্ণ করেছেন সে ব্যাপারে তিনি নিজেও সাক্ষী এবং ফেরেশতাগণও সাক্ষী এবং সাক্ষ্য দানে আল্লাহই যথেষ্ট’’ (সূরা নিসাঃ ১৬৬)

আল্লাহ তাআলা কুরআনের ব্যাপারে আরো বলেনঃ ‘‘এবং আমি কুরআন অবতীর্ণ করেছি খন্ড খন্ডভাবে যাতে আপনি মানুষের কাছে তা পাঠ করতে পারেন ক্রমে ক্রমে এবং আমি তা যথাযথভাবে অবতীর্ণ করেছি’’ (সূরা বানী ইসরাঈলঃ ১০৬)

আল্লাহ তাআলা আরো বলেনঃ ‘‘নিশ্চয়ই ইহা (কুরআন) বিশ্ব জগতের প্রতিপালকের পক্ষ হতে অবতীর্ণ হয়েছে জিবরীল (আঃ) তা নিয়ে অবতরণ করেছেন আপনার অন্তরে যাতে আপনি সতর্ককারী হতে পারেন অবতীর্ণ করা হয়েছে সুস্পষ্ট আরবী ভাষায়’’ (সূরা শুআরাঃ ১৯২-১৯৫)

আল্লাহ তাআলা আরো বলেনঃ ‘‘নিশ্চয়ই যারা তাদের নিকট কুরআন আসার পর তা অস্বীকার করে (তাদেরকে কঠিন শাস্তি দেয়া হবে) অবশ্যই এটা এক মহিমাময় কিতাব কোন মিথ্যা এতে অনুপ্রবেশ করতে পারবে না, অগ্র হতেও নয়, পশ্চাৎ হতেও নয় এটা প্রজ্ঞাবান প্রশংসনীয় আল্লাহর পক্ষ হতে অবতীর্ণ’’ (সূরা ফুসসিলাতঃ ৪১-৪২) মর্মে আরো অনেক আয়াত রয়েছে

দু'আর আদব। পর্ব :১

(৮০) পূর্ববর্তী কিতাবসমূহের তুলনায় কুরআনের মর্যাদা কতটুকু?

 

কুরআন সর্বশেষ সর্বশ্রেষ্ঠ আসমানী কিতাব আল্লাহ তাআলা পূর্ববর্তী কিতাবসমূহের তুলনায় কুরআনের মর্যাদা সম্পর্কে বলেনঃ ‘‘আর আমি কিতাবকে সত্যতার সাথে আপনার প্রতি নাযিল করেছি, যা সত্যায়ন করে পূর্ববর্তী কিতাবসমূহের এবং সব কিতাবের সংরক্ষকও বটে’’ (সূরা মায়িদাঃ ৪৮)

 

আল্লাহ তাআলা আরো বলেনঃ ‘‘আর এই কুরআন কল্পনাপ্রসূত নয় যে, আল্লাহ ছাড়া অন্য কেউ তা বানিয়ে নিবে এটা তো সেই কিতাবের সত্যতা প্রমাণকারী যা ইতিপূর্বে নাযিল হয়েছে এবং সে সমস্ত বিষয়ের বিশ্লেষণ দান করে যা আপনার প্রতি নাযিল করা হয়েছে এতে কোন সন্দেহ নেই এটা বিশ্বপ্রতিপালকের পক্ষ হতে নাযিল হয়েছে (সূরা ইউনুসঃ ৩৭)

 

আল্লাহ্ তাআলা আরো বলেনঃ ‘‘এটা কোন মনগড়া কথা নয়, কিন্তু মুমিন সম্প্রদায়ের জন্য পূর্বেকার কালামের সমর্থন এবং সমস্ত কিছুর বিবরণ, হেদায়াত রহমত’’ (সূরা ইউসুফঃ ১১১)

মুফাস্সিরগণ বলেনঃ কুরআন হচ্ছে, পূর্বেকার কিতাবসমূহের সাক্ষী সত্যায়নকারী। অর্থাৎ সেগুলোর মধ্যে যে সত্য সঠিক কথা আছে, তা সত্যায়ন করে এবং তাতে যে বিকৃতি পরিবর্তন সাধিত হয়েছে, তা প্রত্যাখ্যান করে। এমনিভাবে পূর্বের কিতাবগুলোতে যেসমস্ত বিবরণ আছে কুরআন হয়ত রহিত করে অথবা তাতে যেসমস্ত সঠিক কথা আছে সেগুলোকে বহাল প্রতিষ্ঠিত রাখে।

আল্লাহ্ তাআলা বলেনঃ ‘‘এর (কুরআনের) পূর্বে আমি যাদেরকে কিতাব দিয়েছি, তারা এতে বিশ্বাস করে যখন তাদের কাছে এটা পাঠ করা হয়, তখন তারা বলেঃ আমরা এর প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করলাম এটা আমাদের প্রতিপালকের পক্ষ হতে আগত সত্য আমরা এর পূর্বেও ছিলাম মুসলমান’’ (সূরা কাসাসঃ ৫২-৫৩)



মন্তব্য