আল্লাহর রাস্তায় নির্যাতন সহ্য করা সুন্নত

6 months ago

প্রিয় ইসলামী ভাইয়েরা! আমাদের প্রিয় নবী (সঃ) ইসলামের জন্য সীমাহীন নির্যাতন সহ্য করেছেন। এসব নির্যাতন তাকে সহ্য করতে হয়েছে প্রকাশ্যে  নেকির দাওয়াত পেশ করার পর থেকে। তাই যখনই কাউকে নেকের দাওয়াত দেয়ার কারণে জুলুম-নির্যাতনের মুখোমুখি হতে হয়, তখনই আল্লাহর পথে আহবান করার কারণে নেমে আসা জুলুম নির্যাতনের কথা স্মরণ কর আল্লাহ তাআলার দরবারে শুকরিয়া আদায় করবেন। কেননা, তিনি আপনাকে দ্বীনের জন্য নির্যাতনের শিকার হওয়া সুন্নত আদায় করার সৌভাগ্য দান করেছেন। ইনশাআল্লাহ, এভাবে শয়তান ব্যর্থ নিষ্ফল হয়ে যাবে। আর আপনার পক্ষে ধৈর্য ধারণ করার সহজ হবে। নির্যাতন সহ্য করাও সন্নত। একের পর এক আসতে থাকা কঠোর থেকে কঠোর নির্যাতনের মাঝে নেকির দাওয়াত অব্যাহত রাখা সুন্নত।

নবুয়াত প্রচারের সপ্তম বছরে কুরাইশ কাফেররা যখন দেখল যে, অনেক ধরনের জুলুম নির্যাতনের পরেও মুসলিমদের সংখ্যা দিনের পর দিন বাড়তেই চলেছে, হযরত হামজা (রাঃ) ও হযরত ওমর (রাঃ) এর এর ন্যায় বীর সৈনিকগণ ঈমান আনয়ন করে ফেলেছেন, আবিসিনিয়ার বাদশা নাজ্জাশীও মুসলমানদের আশ্রয়-প্রশ্রয় দিচ্ছেন, তখন তারা সবাই মিলে এই সিদ্ধান্তে উপনীত হলো যে, হযরত সাইয়্যেদুনা মুহাম্মাদ (সঃ) কে প্রকাশ্যে শহীদ করে দিতে হবে। নবী করীম (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর চাচা আবু তালেব যখন এই কথা জানতে পারলেন, তখন বনু হাশেম ও বনু মুত্তালিব গোত্রের লোকজনকে ডেকে সমবেত করে বললেন: হযরত সাইয়্যেদুনা মুহাম্মাদ (সঃ) কে রক্ষা করার জন্য তোমরা তাকে আমার (শিয়াবে) ঘাটিতে নিয়ে যাও। ঘাটি টি পবিত্র মক্কা নগরীতে অবস্থিত। এটা ছিল বনু হাশিম গোত্রের বংশানুক্রমিক ভাবে প্রাপ্ত সম্পত্তি। এটাকে "শিয়াবে আবি তালিব" বলা হত। দুই পর্বতের মধ্যবর্তী পথ এবং এমন জায়গাটিকে অর্থাৎ ভূখণ্ডকে শিহাব বলা হয়। মক্কার কুরাইশরা পরস্পর পরস্পরের মধ্যে এই প্রতিশ্রুতি দিতে আবদ্ধ হলো যে যতদিন পর্যন্ত বনু হাশিমরা নবী করীম (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কে তাদের হাতে সমর্পণ না করবে ততদিন পর্যন্ত কেউ তাদের কারো সাথে কোনো ধরনের সম্পর্ক রাখবে না। তাদের কাছে কোন কিছু বেচাকেনাও করবে না। বৈবাহিক সম্পর্ক করা হবে না। তাদেরকে অবাধে চলাফেরা করতে দেয়া হবে না। এই ওয়াদা নামা লিখে কা'বা ঘরের দরজার উপর লিখে দেয়া হয়। এই প্রতিশ্রুতিতে কুরাইশ কাফেররা কঠোর অবস্থানে থেকে বনু হাশিম আর বনু আব্দুল  মুত্তালিবের সামাজিকভাবে বয়কট করে। অতঃপর এই দুই গোত্রের লোকজন ও মুসলমানদের সাথে শিয়ারে আবি তালিব অভ্যান্তরীণ ছিলেন।

ইসলামের জন্য তাদের এই ত্যাগ ইসলামের ইতিহাসে অবিস্মরণীয় হয়ে আছে।

সাম্প্রতিক পোস্ট